নিজের উত্তরপত্রের প্রতিলিপি হাতে পেয়েই দিশানীর দাবি, একাধিক প্রশ্নে পরীক্ষক পূর্ণ নম্বর দিলেও পরবর্তীতে তা ওভাররাইট করে কেটে দেওয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 August 2025 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশম স্থান হাতছাড়া মাত্র দুই নম্বরে! অভিযোগ, উত্তরপত্রে ওভাররাইট করে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। হুগলির আরামবাগের আলিপুর সন্তোষ সাধারণ বিদ্যাপীঠের ছাত্রী দিশানী হাজরা দাবি করেছেন, কারচুপি না হলে ২০২৩ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় (Madhyamik Results) তিনি প্রথম দশের মধ্যে থাকতেন।
দিশানীর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৮১। আর মেধাতালিকায় দশম স্থানে থাকা ছাত্রীর নম্বর ৬৮৩। নিজের উত্তরপত্রের প্রতিলিপি হাতে পেয়েই দিশানীর দাবি, একাধিক প্রশ্নে পরীক্ষক পূর্ণ নম্বর দিলেও পরবর্তীতে তা ওভাররাইট করে কেটে দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (CBI) দিয়ে তদন্তের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করেন দিশানী। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন দিশানীর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী বলেন, “সঠিক উত্তর দিয়েও বঞ্চিত হয়েছে দিশানী। মেধাতালিকায় ঠাঁই না পাওয়ার যন্ত্রণায় ভুগছে সে। এই ধরনের শিক্ষাগত অবিচার মেনে নেওয়া যায় না।”
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে আদালতে জানানো হয়, বোর্ডের তরফে এ ধরনের ‘ওভাররাইট’ কীভাবে ঘটেছে, তা স্পষ্ট জানা সম্ভব নয়।
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে মূল উত্তরপত্র খতিয়ে দেখা জরুরি। তাই আগামী ২৫ অগস্টের মধ্যে দিশানীর অরিজিনাল উত্তরপত্র আদালতে জমা দিতে হবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে।
হাইকোর্ট সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরীক্ষার্থী একই অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সঠিক উত্তর দেওয়ার পরও নম্বর কম, মেধা তালিকা থেকে ছিটকে পড়ছেন বহু ছাত্রছাত্রী।
আইনবিদদের একাংশের মতে, দিশানীর মামলার রায় প্রভাব ফেলতে পারে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতার উপর এবং বহু পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।