বলিউডে অমিতাভ বচ্চন ও রেখার সম্পর্ক নিয়ে আজও চর্চার শেষ নেই। একদিকে তাঁদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি, অন্যদিকে অফস্ক্রিন গুজব—সব মিলিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।

‘কারনামা’
শেষ আপডেট: 10 June 2025 17:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে অমিতাভ বচ্চন ও রেখার সম্পর্ক নিয়ে আজও চর্চার শেষ নেই। একদিকে তাঁদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি, অন্যদিকে অফস্ক্রিন গুজব—সব মিলিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। সেই সম্পর্কের ছায়া একসময় পড়েছিল একটি ছবির ভবিষ্যতের উপরও। অভিনেতা থেকে পরিচালক হয়ে ওঠা রঞ্জিত ২০১৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘কারনামা’-র শুটিংয়ে সমস্যা হয়েছিল রেখার একটি ব্যক্তিগত অনুরোধে।
রঞ্জিত বলেছিলেন, “আমি যখন অভিনয় ছেড়ে পরিচালনায় আসি, তখন লিখি ‘কারনামা’-র স্ক্রিপ্ট। সেই ছবির জন্য রেখা, ধর্মেন্দ্র আর জয়া প্রদার মতো তারকাদের কাস্ট করি। রেখা ছিলেন আমার খুব ভা বন্ধু। কারণ ‘সাওয়ন ভাদোঁ’ ছবিতে ওর সঙ্গেই আমি আমার জীবনের প্রথম শট দিই। সেই বন্ধুত্ব থেকেই রেখা রাজি হয় ‘কারনামা’-তে কাজ করতে।”
তবে সমস্যা শুরু হয় ছবির প্রথম শিডিউলে। ছবির শুটিং চলছিল সন্ধ্যার শিফটে। একদিন রেখা এসে রঞ্জিতকে অনুরোধ করেন, সন্ধ্যার বদলে যেন শুটিং সকালবেলা করা হয়। কারণ? সন্ধে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য।
রঞ্জিত প্রথমে এই অনুরোধ রাখতে রাজি হননি। বলেছিলেন, এতে পুরো ইউনিটের পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। রেখা যদিও রঞ্জিতের যুক্তি বুঝেছিলেন, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। শেষমেশ তিনি ছবিটি ছেড়ে দেন এবং নিজের সাইনিং অ্যামাউন্টও ফেরত দিয়ে দেন পরিচালককে।

এই ঘটনার পর ছবির কাস্টে বড় ধাক্কা লাগে। ধর্মেন্দ্র, যিনি রেখার নাম ভেবেই রাজি হয়েছিলেন, তিনিও শিডিউল ইস্যু দেখিয়ে ছবি থেকে সরে দাঁড়ান। বাধ্য হয়ে রঞ্জিত পুরো পরিকল্পনা নতুন করে সাজান। শেষে ‘কারনামা’ মুক্তি পায় ১৯৯০ সালে, অভিনয়ে ছিলেন বিনোদ খান্না, ফারাহ ও কিমি কাটকর। তবে বক্স অফিসে ছবিটি তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। পরে রঞ্জিত ফের চেষ্টা করেন ‘গজব তামাশা’ (১৯৯২) দিয়ে, তবু দর্শকের মন জয় করতে ব্যর্থ হন।
এই ঘটনা আরও একবার সামনে এনে দিল রেখা-অমিতাভ সম্পর্কের জল্পনা। যদিও কেউই কখনও প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বীকার করেননি। তবে ১৯৮১ সালের ছবি ‘সিলসিলা’—যেখানে অমিতাভ, রেখা ও জয়া বচ্চন একসঙ্গে অভিনয় করেন—সেই গুজবে যেন সত্যতার ইঙ্গিত দিয়েছিল।
রেখা পরবর্তীতে ‘উৎসব’, ‘খুন ভরি মাাং’, ‘খিলাড়িওঁ কা খিলাড়ি’-র মতো ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করেন। ১৯৯০ সালে ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালকে বিয়ে করেন তিনি, তবে কয়েক মাসের মধ্যেই আত্মহত্যা করেন মুকেশ। সেই থেকে রেখা আর বিয়ে করেননি।