বিয়ের ১১ বছর পরও প্রকাশ্যে আসেনি রানি-আদিত্যর বিগ ডে-র ছবি! এক সাক্ষাৎকারে রানি জানালেন, কেন ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখাই তাঁদের সিদ্ধান্ত।

আদিত্য চোপড়া ও রানি মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 3 October 2025 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৪ সালে প্রযোজক আদিত্য চোপড়া-র সঙ্গে একপ্রকার চুপিসারেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়। দেখতে দেখতে বিয়ের ১১ বছর কেটে গেলেও, এই তারকা দম্পতি তাঁদের জীবনের বিগ ডে-র কোনো ছবি আজ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় বা প্রকাশ্যে আনেননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রানি জানিয়েছেন, তাঁদের বিয়ের ছবি হয়তো আর কখনোই প্রকাশ্যে আসবে না।
উপস্থাপক যখন মজা করে জানতে চান, রানি কি তাঁদের বিবাহবার্ষিকীর সিলভার জুবিলিতে ছবিগুলি প্রকাশ করবেন, তখন রানি বলেন, "আমার স্বামী ভীষণ প্রাইভেট একজন মানুষ এবং বিয়েটিকে খুব ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছিলেন। আমার মনে হয় না তিনি জীবনে আর কখনও বিয়ের ছবিগুলো সকলের সঙ্গে শেয়ার করতে চাইবেন।"
নিজের ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখার কারণ প্রসঙ্গে রানি বলেন, "আমি সবসময়ই ব্যক্তিগত ছিলাম, কারণ আমার কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। আমি মনে করি কিছু বিষয় আপনার নিজের জন্যই রাখা উচিত। তাহলে আপনার চারপাশের পরিবেশও অনেকটা সুরক্ষিত থাকবে। সবকিছু সকলের জন্য নয়। আমরা ইতিমধ্যেই এতটাই এক্সপোজড যে সেই এক্সপোজারটাই যথেষ্ট। কোথায় যাচ্ছি, কী করছি, পরিবার নিয়ে কী করছি, এই জিনিসগুলো ব্যক্তিগত রাখা দরকার।"
রানি এটিকে কোনো 'কঠিন নিয়ম' হিসেবে না দেখে 'জীবনযাপনের নীতি' হিসেবে দেখতে ভালবাসেন বলে জানান। রানি এই সাক্ষাৎকারে আরও জানান যে, তাঁর স্বামী আদিত্য চোপড়া তাঁকে কীভাবে 'হিচকি' ছবিতে অভিনয় করতে উৎসাহিত করেছিলেন। কন্যা আদিরাকে বড় করার দিকে মন দেওয়ার কারণে রানি তখন কাজে ফিরতে চাইছিলেন না।
আদিত্যর প্রশংসা করে রানি বলেন, "আমার স্বামী আমাকে 'হিচকি' করতে অনেক উৎসাহ দিয়েছিলেন। কারণ উনি দেখছিলেন আমি মা হিসেবে আমার ভূমিকা খুব সিরিয়াস। আমাকে বলেছিলেন, 'তুমি রানি মুখোপাধ্যায়। তুমি তোমার ভক্তদের সঙ্গে এটা করতে পারো না। তোমাকে আবার নিজের জায়গায় ফিরতে হবে।'... একজন স্বামী হিসেবে উনি আমার জীবনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। যিনি আমাকে বলেছেন, 'তুমি এগিয়ে যাও এবং নিজের জীবন বাঁচো। তুমি কেবল ঘরে বসে একটাই ভূমিকা পালন করতে পারো না, তোমার আরও অনেক ভূমিকা আছে।'"
রানি আরও জানান, আদিত্য চোপড়া তাঁর বাবা-মা যশ চোপড়া এবং পামেলা চোপড়ার শিক্ষায় শিক্ষিত। যশ চোপড়ার সিনেমায় নারী চরিত্রের গুরুত্ব এবং পামেলা চোপড়ার পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখে আদি বড় হয়েছেন। এই কারণেই আদিত্য কখনও তাঁর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না, বরং তাঁকে বাইরে বেরিয়ে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করেন।