৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় তিহাড় জেলে রাজপাল যাদব। FWICE-র আবেদন, পাশে দাঁড়ালেন সোনু সুদ, গুরমিত চৌধুরী, রাও ইন্দ্রজিৎ যাদব। কী বললেন আদালত?

রাজপাল যাদব
শেষ আপডেট: 11 February 2026 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় জড়িয়ে বর্তমানে দিল্লির তিহাড় জেলে রয়েছেন অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। আদালতের নির্দেশ মেনে ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি আত্মসমর্পণ করেন। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে নিজের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’-র জন্য তিনি ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। সেই চাপই শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতার রূপ নেয়।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE) গোটা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির কাছে রাজপালের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, রাজপাল যাদব শুধু জনপ্রিয় অভিনেতাই নন, তিনি ইন্ডাস্ট্রির একনিষ্ঠ সদস্য, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিশ্রম ও অভিনয়ের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
এক বিবৃতিতে FWICE জানায়, দুর্ভাগ্যজনক আর্থিক পরিস্থিতির জেরে রাজপাল বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। অতীতের পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকে তৈরি হওয়া আর্থিক সঙ্কট তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যার ফলেই তিনি এই অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। সংগঠন স্পষ্ট করে জানায়, এই পরিস্থিতি তাঁর ব্যক্তিত্ব বা সততার প্রতিফলন নয়।
ফেডারেশন আরও উল্লেখ করেছে, এমন সঙ্কটের সময়ে ইন্ডাস্ট্রির ঐক্য, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়া জরুরি। আর্থিক সমস্যা যে কারও জীবনে আসতে পারে—খ্যাতি বা সাফল্য তার ব্যতিক্রম নয়। বিপদে পড়া সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতার প্রমাণ। সেই কারণেই প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, টেকনিশিয়ান, বিভিন্ন সংগঠন এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছে নৈতিক ও আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে রাজপাল তাঁর বকেয়া দায় মেটাতে পারেন এবং আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
এর আগে অভিনেতা সোনু সুদ, কামাল আর খান এবং গুরমিত চৌধুরীও রাজপালের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারপরেই সঙ্গীত প্রযোজক রাও ইন্দ্রজিৎ যাদব একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন, তিনি রাজপালের পরিবারের জন্য ১.১১ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেবেন।
হাজতে যাওয়ার আগে রাজপাল যাদব আবেগঘন সুরে বলেন, “স্যর, আমি কী করব? আমার কাছে কোনও টাকা নেই, আর এখন কোনও পথও খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা সকলেই এখানে একা। কেউ কারও প্রকৃত বন্ধু নয়। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমাকে নিজেকেই বেরিয়ে আসতে হবে।”
৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে শেষবার হাজির হয়ে তাঁর আইনজীবী নতুন করে ২৫ লক্ষ টাকার একটি চেক এবং ঋণ পরিশোধের নতুন পরিকল্পনা পেশ করেন। তবে আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করেনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, সহানুভূতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন, এবং চলচ্চিত্র জগতের কারও জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করা যায় না।
এরপর সেদিন বিকেল চারটে নাগাদ রাজপাল তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন এবং ছয় মাসের সাজা পেতে শুরু করেন। আদালতে আগে যে অর্থ জমা পড়েছিল, তা রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে অভিযোগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।