অভিযোগ, করণের জনপ্রিয় টক শো Koffee With Karan-কে অনুকরণ করে বানানো ওই ভিডিওতে বলিউড, স্বজনপোষণ এবং করণ জোহরকে উদ্দেশ করে কটূক্তি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 11 February 2026 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: A প্রযোজক-পরিচালক করণ জোহরের (Karan Johar) দায়ের করা মানহানির মামলায় অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিল মুম্বইয়ের একটি আদালত। জনপ্রিয় ইউটিউবার অজয় নাগর, যিনি ‘ক্যারি মিনাটি’ (Carry Minati) নামে পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশের অভিযোগ আনেন করণ। এবার তাঁকে আদালত থেকে এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি বা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হল। একই সঙ্গে মেটা প্ল্যাটফর্মস ও সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষদেরও ওই ভিডিও বা তার অংশবিশেষ প্রচার-প্রসার রোধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বিতর্কের সূত্র একটি রোস্ট ভিডিও
Coffee with Jalan, যা ক্যারি মিনাটির চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল। অভিযোগ, করণের জনপ্রিয় টক শো Koffee With Karan-কে অনুকরণ করে বানানো ওই ভিডিওতে বলিউড, স্বজনপোষণ এবং করণ জোহরকে উদ্দেশ করে কটূক্তি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের সীমা ছাড়িয়েছে বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন করণ।
ফেব্রুয়ারি ৯ তারিখে বিচারপতি পাণ্ডুরঙ্গ ভোঁসলের আদালতে বিষয়টি ওঠে। শুনানির পর বিচারক প্রাথমিকভাবে মত দেন যে, ভিডিওর ভাষা ও উপস্থাপনায় মানহানির উপাদান রয়েছে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। আদালত নির্দেশ দেয়, সংশ্লিষ্ট ভিডিও অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই ভিডিও বা তার অংশবিশেষ কোনও সামাজিক মাধ্যমে আপলোড বা শেয়ার করা যাবে না।
যদিও ক্যারি মিনাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ডিলিট করা হয়েছে, করণের আইনজীবীরা যুক্তি দেন— মুছে ফেলার আগে সেটি বিপুল সংখ্যক দর্শক দেখেছেন এবং তার ক্লিপিংস এখনও রিল, শর্টস বা অন্য ফরম্যাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে ক্ষতির প্রভাব এখনও বিদ্যমান। আদালত এই যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে শুধু মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেই নয়, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ‘জন ডো’ আদেশ জারি করেছে। এর ফলে যে কেউ ওই ভিডিও পুনরায় প্রচার করলে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন।
ক্যারি মিনাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ডিলিট করা হয়েছে। তবে করণের বক্তব্য, মুছে ফেলার আগেই সেটি লক্ষ লক্ষ ভিউ পেয়েছে এবং এখনও রিল ও শর্টস আকারে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঘুরে বেড়াচ্ছে— ফলে ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট তৈরি ও ব্যঙ্গচর্চার স্বাধীনতা থাকলেও তা ব্যক্তিগত মানহানি বা কুরুচিকর আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছালে আদালত হস্তক্ষেপ করতেই পারে। এই মামলাটি সেই সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল— কোথায় ব্যঙ্গের শেষ, আর কোথায় আইনের শুরু।