রাম গোপাল বার্মা, ডেভিড ধাওয়ান, প্রিয়দর্শন- ইন্ডাস্ট্রির এই তিন পরিচালককে নিয়ে রাজপাল বলেন, "এঁদের আমি শ্রদ্ধা করি। ৫০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছি।"

রাজপাল যাদব-সোনু সুদ
শেষ আপডেট: 2 March 2026 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেক বাউন্স মামলায় (Check Bounce Case) গ্রেফতার হওয়ার পর রাজপাল যাদবের (Rajpal Yadav) পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেতা সোনু সুদ (Sonu Sood)। ঋণের টাকা শোধ করার জন্য রাজপালকে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। এনিয়ে এবার সোনু সুদের 'ভুল ধারণা' ভেঙে পাল্টা জবাব দিলেন রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)।
'ভুল ভুলাইয়া' খ্যাত এই অভিনেতা বলেন, "আমাকে কাজ চাইতে হয়, এই ভুল ধারণা মন থেকে মুছে ফেলুন। তাতে লজ্জার কিছু নেই। আমি কাজের জন্যই বাঁচি, সিনেমাই আমার প্রাণ। কাজ আমাকে খুঁজে বেড়ায় না, গত ১১ বছর ধরে কাজ আমার সঙ্গেই থাকে। ছুটির দিনেও কাজ করি।"
চেক বাউন্স মামলার (Check Bounce Case) প্রসঙ্গে পরিচালক প্রিয়দর্শন (Priyadarshan on Rajpal Yadav) ইঙ্গিত করেছলেন, রাজপাল কম শিক্ষিত হওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর উত্তরে অভিনেতা বলেন, "আমি যথেষ্ট শিক্ষিত। ১১ বছর থেকে কাজ শুরু করেছি, ৫৫ বছর বয়সেও ব্রেক না নিয়ে কাজ করছি। বড় বড় শিল্পীরাও সমস্যায় পড়েন, এর সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্ক নেই। যদি অশিক্ষিত হতাম, ২৫-৩০ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে পারতাম না।"
রাম গোপাল বার্মা, ডেভিড ধাওয়ান, প্রিয়দর্শন- ইন্ডাস্ট্রির এই তিন পরিচালককে নিয়ে রাজপাল বলেন, "এঁদের আমি শ্রদ্ধা করি। ৫০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছি।"
অভিনেতা আরও বলেন, "প্রিয়জির কাছে আমি ছেলের মতো। তিনি চাইলে সারা জীবন অভিনেতা হিসেবে পরীক্ষা দিতে রাজি আছি। কিন্তু বলিউডের কেউই পুরো গল্প জানে না, তাই তাঁদের বিচার আমার কাছে মূল্যহী।"
এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়দর্শন বলেছিলেন, তিনি রাজপালকে বহু বছর ধরে চেনেন। তাঁর পরিস্থিতির কথা ভেবে পরের ছবিতে রাজপালকে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য প্রযোজকদের অনুরোধ করেছেন। সেখানেই তিনি বলেছিলেন, "রাজপাল খুব ভাল মানুষ। কম শিক্ষার কারণে একটা ভুল হয়ে গেছে।"
আইনি বিপাকে পড়লেও জেল থেকে বেরিয়ে আগের মতো কাজ নিয়ে ব্যস্ত রাজপাল। প্রিয়দর্শনের সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি 'ভূত বাংলো', 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল', 'হাই ওয়ান' সিনেমা ছাড়াও দুটি ওয়েব সিরিজের কাজ রয়েছে রাজপালের হাতে।
চেক বাউন্স মামলায় রাজপালের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে (Rajpal Yadav) ছ'মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। যদিও সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) মামলা করেন। সেখানে তাঁদের সাজা স্থগিত হয়। এরপরে ২০২৪ সালে আদালত তাঁকে ফের দোষী সাব্যস্ত করে, তবে আশা ছিল মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা হলে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। সেই কারণেই আদালত আবারও সাজার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
কিন্তু আদালতের কথামতো রাজপাল বকেয়া টাকা ফেরত দেননি। তিনি জানিয়েছিলেন, পুরো টাকাটাই শীঘ্রই পরিশোধ করবেন। গত বছর অক্টোবর মাসে তিনি দেড় কোটি টাকা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে জমাও দেন। কিন্তু এখনও প্রায় ৯ কোটি টাকা বাকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আদালত মনে করেছে, আর নমনীয়তা দেখানো সম্ভব নয়। যে আশ্বাস দিয়ে তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন, তা পূরণ করেননি অভিনেতা।
চলতি মাসের শুরুতেই দিল্লি হাইকোর্ট রাজপাল যাদবকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তারপর বেশ কিছুদিন তিহার জেলে বন্দি ছিলেন অভিনেতা।