বলিউডের গ্ল্যামার জগৎ থেকে ব্যবসার জগৎ—যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই বিতর্ক যেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। এবার আবারও বড় বিপাকে শিল্পা শেঠির স্বামী ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা।

রাজ-শিল্পা
শেষ আপডেট: 27 September 2025 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের গ্ল্যামার জগৎ থেকে ব্যবসার জগৎ—যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই বিতর্ক যেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। এবার আবারও বড় বিপাকে শিল্পা শেঠির স্বামী ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা। প্রায় ১৫০ কোটির বিটকয়েন কেলেঙ্কারিতে তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
ইডি-র দাবি, কুন্দ্রা মোট ২৮৫টি বিটকয়েন নিজের দখলে রেখেছেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৫০.৪৭ কোটি টাকা। এই বিটকয়েন তিনি পেয়েছিলেন কুখ্যাত ক্রিপ্টো কেলেঙ্কারির ‘মাস্টারমাইন্ড’ অমিত ভরদ্বাজের কাছ থেকে। অথচ তদন্তে সহযোগিতা তো দূরের কথা, তিনি নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বিটকয়েনের ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রকাশ করেননি, এমনকি সেই বিটকয়েনও আত্মসমর্পণ করেননি—অভিযোগ ইডি-র।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, কুন্দ্রা বিটকয়েন লেনদেনের বিষয়টিকে আড়াল করতে স্ত্রীর সঙ্গেও এক ‘জেনুইন লেনদেন’-এর নাটক করেন। শিল্পা শেঠির কাছে অনেক কম দামে লেনদেন করে এই অর্থকে বৈধ বলে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ইডি-র ভাষায়, এ ছিল মানি লন্ডারিংয়ের স্পষ্ট উদাহরণ—অপরাধের টাকা ধাপে ধাপে সাজিয়ে নির্দোষ দেখানো।
মহারাষ্ট্র পুলিশ এবং দিল্লি পুলিশের একাধিক এফআইআরের ভিত্তিতেই শুরু হয়েছিল এই মানি লন্ডারিং মামলা। ভেরিয়েবল টেক প্রাইভেট লিমিটেড নামের এক সংস্থা, অমিত ভরদ্বাজ, অজয় ভরদ্বাজ, বিবেক ভরদ্বাজ, সিম্পি ভরদ্বাজ ও মহেন্দ্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিলেন তাঁদের অর্থ দিয়ে বিটকয়েন মাইনিং হবে, আর এর থেকে তাঁরা পাবেন মোটা লাভ। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের প্রতারিত করা হয়েছিল। ‘অবৈধ’ উপায়ে উপার্জিত এই বিটকয়েন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল নানা অচেনা অনলাইন ওয়ালেটে
অভিযোগ অনুযায়ী, অমিত ভরদ্বাজ কুন্দ্রাকে ২৮৫ বিটকয়েন দিয়েছিলেন ইউক্রেনে একটি বিটকয়েন মাইনিং ফার্ম খোলার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তবুও কুন্দ্রা নাকি বিটকয়েনগুলো নিজের কাছেই রেখে দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি কেবল ‘মধ্যস্থতাকারী’। কিন্তু সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে ইডি। সংস্থার বক্তব্য, কুন্দ্রা ও মহেন্দ্র ভরদ্বাজের মধ্যে যে “টার্ম শিট” সই হয়েছিল, তা আসলে অমিত ভরদ্বাজ ও কুন্দ্রার মধ্যে হওয়া চুক্তির প্রমাণ। ফলে তাঁর ‘মধ্যস্থতাকারী’ তত্ত্ব দাঁড়ায় না।
আরও বিস্ময়কর তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা। সাত বছর আগের লেনদেনের সঠিক সংখ্যা ও পাঁচ দফায় প্রাপ্ত বিটকয়েনগুলির হিসাব আজও হুবহু মনে রেখেছেন কুন্দ্রা। ইডি বলছে, এ থেকেই প্রমাণ হয় যে তিনি প্রকৃত মালিক, স্রেফ কোনো দালাল নন। অথচ ২০১৮ সাল থেকে বহুবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও আজও তিনি দেখাতে পারেননি সেই ওয়ালেট অ্যাড্রেস। তাঁর অজুহাত—লেনদেনের পরই নাকি নষ্ট হয়ে যায় তাঁর iPhone X! এই যুক্তিকে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হিসেবেই দেখছে ইডি।
এই মামলায় কুন্দ্রার পাশাপাশি চার্জশিটে নাম রয়েছে আরেক ব্যবসায়ী রাজেশ সতিজারও।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। রাজ কুন্দ্রা এবং শিল্পা শেঠির বিরুদ্ধে চলছে আরও একটি তদন্ত। ৬০.৪ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় তাঁদের নাম রয়েছে অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখার (ইকোনমিক অফেন্স উইং) এফআইআরে। অভিযোগ, ‘বেস্ট ডিল টিভি প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নামে এক ব্যবসায়ীকে লোন-সহ বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করেছিলেন তাঁরা। এই সংস্থার ডিরেক্টর ছিলেন কুন্দ্রা-শিল্পা দু’জনেই।
একসময় বলিউডের হাই-প্রোফাইল দম্পতির রূপকথা আজ যেন আইনের জালে জড়িয়ে ধুঁকছে। শিল্পা যেখানে এখনও সিনেমা ও রিয়েলিটি শো-র দুনিয়ায় সক্রিয়, সেখানে রাজ কুন্দ্রার নাম উঠে আসছে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির খবরে। বিনিয়োগকারীদের স্বপ্নভঙ্গ আর কোটি টাকার লোভের খেলায় তাঁদের নামও ধরা পড়েছে বিতর্কের কেন্দ্রে। এখন দেখার, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এই ঝড় থেকে তাঁরা কতটা রেহাই পান।