বাংলার সেই রবিনহুড রঘু ডাকাতরা লুপ্ত হয়ে গেলেও তাঁদের গল্পের চাহিদা আজও এতটুকু কমেনি। ৭৩ বছর পর যা প্রমাণ হয়ে গেল।

গ্রাফিক্স দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 27 September 2025 14:35
শহরে পুজোর রিলিজ ছবিগুলোর মধ্যে সবথেকে চর্চায় আছে দেব (Dev) অভিনীত 'রঘু ডাকাত' (Raghu Dakat)। ডাকাতের গল্প চিরকালই রহস্য রোমাঞ্চে ভরপুর হয়। আর তা নিয়ে ছবি হলে উত্তেজনার পারদ থাকে তুঙ্গে। তবে এই প্রতিবেদনে আজ থাকবে এক চমকপ্রদ গল্প। একই সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমাহলে ৭৩ বছর পর মুক্তি পেল একই নামে বাংলা ছবি। একই নামের 'রঘু ডাকাত' সাত দশক পর মুক্তি পেল দক্ষিণ কলকাতার 'বসুশ্রী' (Basusree Cinema) প্রেক্ষাগৃহে।
এই বিরল ঘটনা বাংলা ছবির ইতিহাসে ঐতিহাসিক বটে। ১৯৫২ সালের ১১ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল গিরীন চৌধুরী পরিচালিত 'রঘু ডাকাত' বাংলা ছবি। আবার ২০২৫ সালের এই পুজোতে মুক্তি পেল ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'রঘু ডাকাত'। ধ্রুব নিজের লেখা গল্পে ছবি বানিয়েছেন। রঘু ডাকাত কোনও ঐতিহাসিক চরিত্র নয়, একেবারেই কাল্পনিক চরিত্র। দেব-ইধিকা-সোহিনী অভিনীত 'রঘু ডাকাত' ছবির গল্প ইতিহাস নির্ভর নয়। তবে ডাকাতের গা ছমছমে ব্যাপার ভীষণ ভাবেই আছে। সঙ্গে রয়েছে প্রেম থেকে রোম্যান্স।

মজার কথা, ১৯৫২ সালের 'রঘু ডাকাত' ছবিতেও অভিযান, উত্তেজনা, রহস্য, রোমাঞ্চর সঙ্গে ছিল মধুর প্রণয়ের রসঘন চিত্র। নীতিশ মুখোপাধ্যায় ছিলেন রঘু ডাকাতের চরিত্রে। সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন চন্দ্রাবতী দেবী, মীরা সরকার, দীপক, জীবেন বসু ও প্রীতি মজুমদার। সুরারোপ করেছিলেন সুবল দাশগুপ্ত। ছবিটি মুক্তি পায় একযোগে বসুশ্রী, হিন্দ, বীণা সহ বাংলার বিভিন্ন সিনেমাহলে। একটিও সিনেমাহলের অস্তিত্ব আজ আর নেই কলকাতার বুকে, বাংলার বুকে। শুধুমাত্র স্বমহিমায় সেই অতীতের আভিজাত্য নিয়ে রমরমিয়ে চলছে 'বসুশ্রী'।
৭৩ বছর পর একই নামের বাংলা ছবি সেই বাংলার ডাকাতের গল্পে ফিরে এল বসুশ্রী সিনেমাহলে। বসুশ্রীর দেবজীবন বসু দ্য ওয়ালকে বললেন 'এই ঘটনা সত্যি বিরল। আমাদের বসুশ্রী পরিবারের কাছে বিরাট অনুভূতি। ১৯৫২ সালের 'রঘু ডাকাত' বসুশ্রীতে মুক্তি পেয়েছিল আবার ২০২৫ র 'রঘু ডাকাত' সেই বসুশ্রীতেই, যা সত্যি বড় প্রাপ্তি। কাকতালীয় এমন ঘটনা যেন গল্প হলেও সত্যি। ভবানীপুরের 'বিজলি' আর 'বসুশ্রী' শুধু বেঁচে আছে। আমরা 'বসুশ্রী' সিনেমাহলের সেই সিড়ি থেকে পর্দা সবটাই অপরিবর্তিত রেখে ঐতিহ্য বজায় রেখেছি। ৭৩ বছরের তফাতে এমন বাংলা ছবির ঐতিহাসিক রিলিজ ঘটল যা খুব বড় প্রাপ্তি। দেব অধিকারী তো আমাদের খুব কাছের। ওঁর ছবি পুজো রিলিজ মানেই আমাদের কাছে উৎসবের শুভ সূচনা।'

দেবের 'রঘু ডাকাত' ছবির গল্প আবর্তিত হয় এক নিরীহ কিশোরের তার বাবার খুনের প্রতিশোধ নেওয়ার কাহিনি দিয়ে। যে ছেলে ডাকাত মায়ের সংস্পর্শে এসে হয়ে ওঠে ডাকাত। নীল কর নিয়ে বিট্রিশ সাহেবদের শোষণ আর অত্যাচার থেকে তখনও মুক্তি পায়নি বাংলার মানুষ। সেই নীল কর আদায়কারী রাজাদের দমন করতে, 'গরীবের রবীনহুড' হয়ে আবির্ভাব হয় রঘু ডাকাতের। দক্ষিণী ছবির প্রভাব এই বাংলা ছবিতে থাকলেও সকলের অভিনয়গুণে আর টানটান চিত্রনাট্যের কারণে মন জয় করে নেয়। জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে তারকা, সবার নিখুঁত অভিনয়ে ছবি ছেড়ে ওঠা যায় না। দেব বিনা 'রঘু ডাকাত' হত না। কিন্তু দেব ছাড়াও প্রতিটি চরিত্রের করবার মতো জায়গা রয়েছে। পুজোর ভরপুর এন্টারটেনমেন্ট ছবি 'রঘু ডাকাত'।
বাংলার সেই রবীনহুড রঘু ডাকাতরা লুপ্ত হয়ে গেলেও তাঁদের গল্পের চাহিদা আজও এতটুকু কমেনি। ৭৩ বছর পর যা প্রমাণ হয়ে গেল।