‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ মুক্তির পর ফের বিতর্ক। ছবিটিকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার বলা হচ্ছে কি?

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 7 March 2026 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কের আবহেই মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ (The Kerala Story 2)। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং তীব্র জনআলোচনার পর গত সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহে আসে ছবিটি। শুরু থেকেই ছবিটির উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকের মতে, পরিস্থিতি অনেকটাই মিল রয়েছে এর প্রথম পর্ব ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-এর সঙ্গে, যা ২০২৩ সালে মুক্তি পেয়ে ওই বছরের নবম সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি ছবিগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল।
তবে সিক্যুয়েলের ক্ষেত্রে ছবিটির বক্স অফিস ফলাফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ মাত্র ২৫.৪ কোটি টাকা আয় করতে পেরেছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে দর্শকদের কাছ থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এর আগেই কংগ্রেস নেতা শশী থারুর ছবিটিকে “ঘৃণা ছড়ানোর একটি মাধ্যম” বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এবার এই বিতর্কে মুখ খুললেন সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সম্প্রতি এক জনসভায় এক শিক্ষার্থী তাঁকে প্রশ্ন করেন, সিনেমা কি ধীরে ধীরে জনমত গঠনের জন্য একটি “রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার” হয়ে উঠছে? সেই প্রশ্নের জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, “ভাল খবর হল, ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ ছবির হলগুলো প্রায় ফাঁকাই দেখা যাচ্ছে এবং বাস্তবে খুব কম মানুষই ছবিটি দেখতে যাচ্ছেন। এর থেকেই বোঝা যায়, দেশের অধিকাংশ মানুষ কেরলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন।”
এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “তোমার কথা একদম ঠিক। সিনেমা, টেলিভিশন এবং সংবাদমাধ্যমকে এখন এক ধরনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে মানুষকে অপমান করতে, একে অপরের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করতে। এর ফলে কিছু মানুষ লাভবান হচ্ছে, আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমার মনে হয় ভারত ধীরে ধীরে সেই দিকেই এগোচ্ছে।”
রাহুল গান্ধীর মতে, কেউ যদি নির্দিষ্ট ধরনের চলচ্চিত্র বানাতে চান বা কোনও বিশেষ মত প্রকাশ করেন, অনেক সময় তাঁকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয় এবং নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগও দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, “আমি নিজেও প্রায়ই এই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই।”
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নির্দিষ্ট বয়ান বা মতামতকে বেছে বেছে প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “অন্যদিকে কিছু বয়ান যত খুশি ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাতে কোনও বাধা আসে না। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভারতে এখন বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।”
এর আগেই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও ছবিটির দ্বিতীয় অংশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, “কেরল সম্পর্কে ঘৃণা ছড়ানো এবং আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যকে অপমান করার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-র দ্বিতীয় অংশের মুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।”