নতুন গান প্রকাশ মানেই অনেক সময় নতুন সাড়া। কিন্তু কখনও কখনও সেই সাড়া প্রশংসার চেয়ে বিতর্কেই বেশি প্রতিধ্বনিত হয়। ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন জনপ্রিয় র্যাপার-গায়ক বাদশা

শেষ আপডেট: 7 March 2026 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন গান প্রকাশ মানেই অনেক সময় নতুন সাড়া। কিন্তু কখনও কখনও সেই সাড়া প্রশংসার চেয়ে বিতর্কেই বেশি প্রতিধ্বনিত হয়। ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন জনপ্রিয় র্যাপার-গায়ক বাদশা (Badshah, Aditya Pratik Singh Sisodia)। তাঁর সদ্য মুক্তি পাওয়া হরিয়ানভি গান ‘তাতারী’ (Tateeree) ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। গানের কিছু কথাকে ‘অশালীন’ ও ‘আপত্তিকর’ বলে অভিযোগ উঠতেই এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে Haryana State Commission for Women (HSCW)। কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে আনুষ্ঠানিক সমন।
গত সপ্তাহেই প্রকাশিত হয়েছে ‘Tateeree’। গানটি প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই একাধিক মহল থেকে অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে। অভিযোগকারীদের দাবি, গানের কথায় এমন কিছু শব্দ ও ইঙ্গিত রয়েছে যা সামাজিক শালীনতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। বিশেষ করে নারী ও নাবালকদের প্রতি গানের ভাষা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিশন নিজ উদ্যোগে বিষয়টির উপর ‘suo motu cognisance’ নিয়েছে।
এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন HSCW-এর চেয়ারপার্সন রেণু ভাটিয়া Renu Bhatia। তিনি জানিয়েছেন, গানের বিষয়বস্তু নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরই কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, জনপ্রিয় সংগীতের প্রভাব তরুণ প্রজন্মের উপর গভীর হয়। তাই যদি কোনো গানের ভাষা সমাজে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে, তাহলে তা নিয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
৬ মার্চ জারি হওয়া সরকারি সমন নোটিসে মামলার প্রধান উত্তরদাতা হিসেবে নাম রয়েছে বাদশার। নোটিসে তাঁর আসল নাম Aditya Pratik Singh Sisodia উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমন পাঠানো হয়েছে Panipat-এর Superintendent of Police-এর কাছেও, যাতে নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকতে বলা যায়। শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৩ মার্চ ২০২৬, সকাল ১১টা ৩০ মিনিট। পানিপতের ডিসি অফিসের কনফারেন্স হলে বসবে সেই শুনানি, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন রেণু নিজেই।
এই অভিযোগের সূত্রপাত দুই সমাজকর্মীর অভিযোগ থেকে। তাঁদের মধ্যে একজন সবিতা আর্য, যিনি Nari Tu Narayani Utthan Samiti-এর সভাপতি। অন্যজন শিব কুমার Shiv Aarti India Foundation-এর পরিচালক। তাঁদের অভিযোগ, ‘Tateeree’ গানের কিছু শব্দচয়ন ও বাক্যবন্ধে নারীদের বস্তুগতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে এমন কিছু যৌন ইঙ্গিত রয়েছে যা নারী ও নাবালকদের প্রতি অসম্মানজনক। তাঁদের দাবি, এই ধরনের বিষয়বস্তু সামাজিক ও নৈতিক সীমা অতিক্রম করেছে এবং এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিতর্ক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেণু ভাটিয়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের গান কীভাবে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া পেরিয়ে প্রকাশের অনুমতি পেল, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে তিনি তিন বছর ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের সদস্য ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর বক্তব্য, জনসাধারণের নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ধরনের বিষয়বস্তু কীভাবে অনুমোদন পেল, তা বোঝা জরুরি।
যে গান ঘিরে এত বিতর্ক, সেই ‘Tateeree’ আসলে একটি হরিয়ানভি হিপ-হপ ট্র্যাক। গানটি প্রকাশিত হয় ১ মার্চ ২০২৬। এতে বাদশা-এর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন গায়িকা সিমরন জগলন গানের কথা লিখেছেন বাদশা নিজেই। সংগীত পরিচালনা ও কম্পোজিশনের দায়িত্বে ছিলেন হিতেন, যিনি গানটির প্রযোজনার কাজও সামলেছেন। আধুনিক ব়্যাপ-এর ছন্দের সঙ্গে আঞ্চলিক সুরের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে এই গান। এর অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিয়ো পরিচালনা করেছেন মাহি সন্ধু এবং জোবান সন্ধু।
সঙ্গীতের জগতে সৃষ্টিশীল স্বাধীনতা বরাবরই শিল্পীদের বড় শক্তি। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও। ‘Tateeree’ গান ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক যেন আবারও সেই পুরনো আলোচনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে—শিল্পের স্বাধীনতা ঠিক কোথায় শেষ হয়, আর সমাজের সংবেদনশীলতার সীমারেখা কোথা থেকে শুরু হয়।
এখন সব চোখ ১৩ মার্চের শুনানির দিকে। সেই দিনের আলোচনাই হয়তো ঠিক করবে, একটি গানের কয়েকটি শব্দ কতটা বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ততদিন পর্যন্ত, ‘Tateeree’ শুধু একটি গান নয়—এটি হয়ে উঠেছে বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা এক আলোচিত নাম।