জুবিনের মৃত্যুর দিনে রাহুলের নাটকের শো ছিল। মঞ্চে ওঠার প্রহর খানেক আগে জুবিনের মৃত্যুর খবরে যেন পা টলে গেছিল। ফোনটা হাতে নিয়ে ধপ করে বসে পড়েছিলেন।

শেষ আপডেট: 29 March 2026 22:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে শো করতে গিয়ে সমুদ্রের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল গায়ক জুবিন গর্গের (Zubeen Garg)। মাত্র ৫২ বছর বয়সে প্রতিভাবান ওই শিল্পীর মৃত্যু আকস্মিকতা আর শোক আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল গোটা দেশকে। সেদিন সিঙ্গাপুর থেকে কয়েকশ যোজন দূরে কলকাতায় বসে গভীর শোকাহত ছিলেন পরিচিত একজন মানুষ। তিনি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunodoy Banerjee) জুবিনের মৃত্যু বিশেষ ভাবে ছুঁয়ে গেছিল তাঁকে। দ্য ওয়ালে রাহুল লিখেছিলেন, এক জন বন্ধুকে হারালাম। ও চিরসখা ছিল আমার।
রবিবার দিঘার তালসারির সমুদ্রে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunodoy Banerjee Death)। জুবিনের মতো অবিকল একই ভাবে না হলেও প্রায় একই পরিণতি ঘটল দুই বন্ধুর। মৃত্যুও যেন মিলিয়ে দিল রাহুল ও জুবিনকে।
২০০৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। ছবির পরিচালক ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। সেই সময়কার সবচেয়ে হিট এই লাভস্টোরিতে আইকনিক গান ছিল জুবিন গর্গের গাওয়া 'পিয়া রে পিয়া রে'। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটিকেও জনপ্রিয় করেছিল এই ব্যর্থ প্রেমের গান। রাহুল মানেই অনেকের কাছে আজও 'পিয়া রে পিয়া রে'।
জুবিনের মৃত্যুর দিনে রাহুলের নাটকের শো ছিল। মঞ্চে ওঠার প্রহর খানেক আগে জুবিনের মৃত্যুর খবরে যেন পা টলে গেছিল। ফোনটা হাতে নিয়ে ধপ করে বসে পড়েছিলেন। পরেপরে দ্য ওয়ালকে রাহুল বলেছিলেন জুবিনের সঙ্গে আত্মার আত্মীয়তার কথা।
রাহুল বলেছিলেন, “পিয়া রে গানটা ছিল আইকনিক। এখনও আমি কোনও রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে কিছুক্ষণ পর ওখানকার কর্মীরা বাজিয়ে দেন গানটা। এখনও ঐ গানটা দিয়েই মূলস্রোতের দর্শক আমাকে মনে রেখেছেন। খুব খারাপ লাগছে আমার সেই কণ্ঠ আজ চলে গেল।”
রাহুল আরও বলেছিলেন, “পিয়া রে পিয়া রে গানটা সেই সময়ে আমাকে আর প্রিয়াঙ্কাকে খুব জনপ্রিয় করেছিল। আমাদের জুটিটাকে মানুষ তো এখনও এই গানটা দিয়েই আইন্ডেটিফাই করে। আজ খুব মনে পড়ছে ২০০৮-০৯ সালের সময়টা। আমি, প্রিয়াঙ্কা, জুবিন একসঙ্গে প্রচুর ফাংশন করতাম। যে কারণে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল”।
‘পিয়া রে’ গানটা লিখেছিলেন প্রিয় চট্টোপাধ্যায়। সুর দিয়েছিলেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দ্য ওয়ালকে রাহুল বলেছিলেন,“আজও আমি কোনও ফাংশনে গেলে এই গানটা আমাকে গাইতে হয়। আমি তো গায়ক নই। জুবিনের মতো একদমই হয় না। তবু দর্শকরা আজও এই গান না গাইলে আমাকে ছাড়তে চায় না।”
কেমন ভাবে হয়েছিল এই গানের শুটিং? রাহুল জানিয়েছিলেন, “আমার চরিত্রের নাম ছিল কৃষ্ণ। তখন রটেছিল যে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার' ছবির গল্প রিজওয়ানুর রহমান ও প্রিয়াঙ্কা টোডির সত্য ঘটনা নিয়ে। কিন্তু সেটা ওই সময়ের পাবলিসিটি গিমিক ছিল। আদতে এই 'চিরদিনই তুমি যে আমার' ছিল দক্ষিণী ছবি 'কাদাল' ('Kadhal') এর রিমেক।”
রাহুল বলেছিলেন,“গানটা সেভাবে আমার লিপে ছিল না। মারপিটের সময়ে, হিরোইনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির সময়ে ব্যবহার করা হয়। গানটা চালিয়েও শুটিং হয়নি। দৃশ্যগুলো ছিল এমন—প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে আমি পালিয়ে বাসে করে যাচ্ছি, সারা রাত হাইওয়েতে, সিনেমাহলে সময় কাটাচ্ছি, শেষ অবধি অ্যাকশন দৃশ্যে যায় গানটা। কী গান হবে আমরা জানতামই না শুটিং করার সময়ে। পরে জিৎদা আর রাজ চক্রবর্তী গান যোগ করেন।”সেই যোগই অবিস্মরণীয় হয়ে থেকে গেল।
২০০৯ সালে 'স্বপন সাহার 'কেন কিছু কথা বল না' ছবিতে ছিলেন রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা। ওই ছবিতেও রাহুলের লিপে জুবিন গর্গের গান ছিল। জুবিনের 'ইয়া আলি' তার আগে অ্যানথেম হয়ে গিয়েছিল। আর পরে 'পিয়া রে পিয়া রে' গানটাও অ্যানথেম পর্যায়ে চলে যায়।
জুবিনের মৃত্যুর রাহুল সেদিন বলেছিলেন, “বাংলার মানুষরা হয়তো বুঝতে পারছে না জুবিনের চলে যাওয়া অসমের মানুষের বুকে কতটা হাহাকার হয়ে বাজছে। ভূপেন হাজারিকার পর এত বড় এত বড় কালচারাল আইকন অসমে খুব বেশি আসেনি।”
রাহুলও জানতে পারলেন না তাঁর অকালে চলে যাওয়া বাংলার মানুষের মনেও হাহাকার হয়ে বাজছে। রাহুল, জুবিন, ‘পিয়া রে’ গানকে এক ফ্রেমে ধরে বড্ড মনে পড়ছে অনেকেরই।