রবিবার (২৯ মার্চ) তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। সকাল থেকে টানা শুটিংয়ের পর দুপুর তিনটে নাগাদ প্রথম দফায় প্যাকআপ হয়। অধিকাংশ অভিনেতা, শিল্পী তখন কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে কিছু দৃশ্য বাকি থাকায় রাহুল এবং নায়িকা শ্বেতা সেখানেই থেকে যান। পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলও (Subhasish Mondal) ছিলেন।
_0.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 29 March 2026 22:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee News) আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে। পরিচালক ও সহ-অভিনেতাদের বয়ান থেকে উঠে আসছে ঘটনার এক টাইমলাইন, যেখানে দুর্ঘটনার (Rahul Arunoday Banerjee death) প্রতিটি মুহূর্ত যেন ক্রমশ সামনে আসছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। সকাল থেকে টানা শুটিংয়ের পর দুপুর তিনটে নাগাদ প্রথম দফায় প্যাকআপ হয়। অধিকাংশ অভিনেতা, শিল্পী তখন কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে কিছু দৃশ্য বাকি থাকায় রাহুল এবং নায়িকা শ্বেতা সেখানেই থেকে যান। পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলও (Subhasish Mondal) ছিলেন। ছিল টেকনিশিয়ান টিম।
পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলের (Subhasish Mondal) কথায়, বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ তালসারি সৈকতে শুটিং চলছিল। দৃশ্য অনুযায়ী, জলের ধারে, গোড়ালি সমান জলে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলার কথা ছিল সিরিয়ালের নায়ক রাহুল ও নায়িকা শ্বেতার। কিন্তু সেই নির্ধারিত সীমার বাইরে হঠাৎই সমুদ্রের দিকে এগোতে শুরু করেন রাহুল। ইউনিটের তরফে বারবার তাঁকে থামতে বলা হলেও তিনি এগোতেই থাকেন, এমনটাই জানিয়েছেন শুভাশিস।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধীরে ধীরে কোমর সমান জলে পৌঁছে যান রাহুল। তখনও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার হাত ধরা ছিল তাঁর। তবে পরিস্থিতি বিপজ্জনক বুঝে ইউনিটের কয়েকজন সদস্য, যাঁরা সাঁতার জানতেন, তাঁরা এগিয়ে যান। আশপাশে থাকা ছোট নৌকোগুলিও সতর্ক হয়ে কাছে আসতে শুরু করে।
এই সময়েই ঘটে বিপত্তি। শুভাশিসের কথায়, আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন রাহুল। জলে ডুবে যেতে থাকেন, ওঠা-নামার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তিনি বেশ কিছু জল গিলেও ফেলেন। দ্রুত তাঁকে টেনে পাড়ে তোলা হয়। পরিচালক জানিয়েছেন, তখনও তাঁর জ্ঞান ছিল।
এরপর তড়িঘড়ি তাঁকে দিঘা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গাড়িতে তোলার সময়েও তাঁর সংজ্ঞা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
এই ঘটনার আর এক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে সহ-অভিনেতা ভাস্কর চট্টোপাধ্যায়ের কথায়। তিনি জানান, দুপুরে প্যাকআপের পর তিনি এবং অন্যরা কলকাতার পথে রওনা দেন। মাঝপথে প্রথমে খবর পান, রাহুল জলে ডুবে গেছেন, একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় ফোন— তখন জানানো হয়, রাহুল আর নেই।
জলে নামার সময়ে রাহুলের মদ্যপান সংক্রান্ত জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন ভাস্কর। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “সকাল থেকে একসঙ্গে শুটিং করেছি, কোনও অসঙ্গতির প্রশ্নই ওঠে না।” আরও এক সহ-অভিনেত্রী সোমাশ্রী চাকীর কথায়, শুটিংয়ের দৃশ্যে জলে নামার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। ফলে রাহুলের সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন ইউনিটের সদস্যরা।
সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, তাতে এটি নিছকই এক দুর্ঘটনা—নির্ধারিত শটের বাইরে গিয়ে সমুদ্রে এগিয়ে যাওয়া, আচমকা ভারসাম্য হারানো এবং জলে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল জনপ্রিয় এই অভিনেতার প্রাণ।
তবে কাঁথির পুলিশ টিম সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে ওই সিরিয়ালের শ্যুটিংয়ের টিমের কাউকেই চৌহদ্দিতে পায়নি তারা। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, অর্থাৎ রাত ১০টায়, তখনও রাহুলের পরিবার বা শ্যুটিং টিমের কাউকে থানায় পায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শুনতে পুলিশ যখন শ্যুটিং টিমের লোকজনকে খোঁজ করার চেষ্টা করেন, কাউকেই দেখতে পাওয়া যায়নি।
প্রশাসন ও পুলিশের কাজ নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে। তবে শোকের ছায়া ক্রমে গাঢ় হচ্ছে গোটা টলিউডে তথা বাংলায়। মৃত্যুর অনুপুঙ্খ বিবরণ ও রিপোর্ট হয়তো অচিরেই তৈরি হবে, তার আগে অবধি তালসারি থেকে আসা প্রত্যেকক্ষদর্শীদের বর্ণনাটুকুই জানছেন সকলে। হয়তো একটা মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত, আর কয়েক মিনিটের অঘটন— সেখানেই থেমে গেল এক উজ্জ্বল কেরিয়ার।