তালসারি থেকে দিঘা মাত্র ৭ কিমি, তবু হাসপাতালে পৌঁছতে এক ঘণ্টার বেশি সময়—রাহুলের মৃত্যুর টাইমলাইনে নতুন প্রশ্ন।

শেষ আপডেট: 31 March 2026 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তালসারির সমুদ্রতটে রবিবার বিকেলের ঘটনা (Rahul Arunoday Banerjee Death) এখন সময়ের হিসাবের মধ্যে আটকে। প্রতিটি মিনিট খুঁটিয়ে দেখছে পুলিশ—কারণ, এই টাইমলাইনেই লুকিয়ে থাকতে পারে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর (Rahul Arunoday Banerjee Death Mystery) আসল উত্তর।
রবিবার, বিকেল প্রায় ৫টা থেকে ৫.৩০— এই সময়ের মধ্যেই সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, তিনি সহ-অভিনেত্রীকে নিয়ে জলের মধ্যে এগোচ্ছিলেন। কেউ বলছেন শ্যুটিং চলছিল, কেউ বলছেন প্যাকআপের পরের মুহূর্ত। এখানেই প্রথম অসঙ্গতি, ঘটনার শুরুটাই স্পষ্ট নয়।
পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলের দাবি, জলের মধ্যেই একটি দৃশ্যের শ্যুট হচ্ছিল, তবে গভীরে নয়। সহ-অভিনেতারাও সেই কথাই সমর্থন করেছেন। কিন্তু অন্যদিকে প্রোডাকশন টিমের একাংশ জানাচ্ছে, তখন আর ক্যামেরা চলছিল না, সবকিছু গুটিয়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছিল।
এই বিভ্রান্তির মধ্যেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়া মুহূর্ত, সহ-অভিনেত্রী হোঁচট খেয়ে পড়ে যান, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রাহুলও তলিয়ে যান জলে।
এরপর শুরু উদ্ধার অভিযান। ইউনিটের কয়েকজন ঝাঁপিয়ে পড়েন, স্থানীয়রাও এগিয়ে আসেন। কিন্তু এখানেই দ্বিতীয় বড় প্রশ্ন— রাহুলকে তুলতে ঠিক কতটা সময় লেগেছিল?
একটি পক্ষ বলছে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে জল থেকে তোলা হয়। অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি, অনেকটা সময় তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এই দ্বন্দ্বটাই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।
কারণ, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট এক অন্য ছবি তুলে ধরছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ফুসফুসে বিপুল পরিমাণ বালি ও নোনা জল পাওয়া গিয়েছে—যা থেকে অনুমান, দীর্ঘ সময় জলের নীচে ছিলেন তিনি। ফুসফুস প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ফুলে গিয়েছিল। খাদ্যনালি, পাকস্থলী—সব জায়গাতেই ঢুকে গিয়েছিল নোনাজল ও বালি। অল্প সময়ের ডুবলে এমনটা হওয়ার কথা নয়।
এই তথ্যই সরাসরি প্রশ্ন তুলছে, উদ্ধার কি দেরিতে হয়েছিল?
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। উদ্ধার হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়েও উঠেছে নতুন ধোঁয়াশা। তালসারি থেকে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ পাড়ি দিতে লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট।
কিন্তু পুলিশি তথ্য বলছে, বিকেল ৫.৩০ নাগাদ ডুবে যাওয়ার খবর পৌঁছয়, আর সন্ধ্যা ৬.৪০ নাগাদ হাসপাতালে আনা হয় রাহুলকে। অর্থাৎ, এক ঘণ্টারও বেশি সময়।
প্রশ্ন উঠেছে, এই সময়টা কোথায় গেল? রাস্তার জ্যাম? গাড়িতে বিলম্ব? নাকি মাঝপথে অন্য কোনও সমস্যা? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। কারণ, এই দেরিই হয়তো জীবন-মৃত্যুর ফারাক তৈরি করেছে।
তবে প্রশাসনিক দিকও এড়ানো যাচ্ছে না। এত বড় শ্যুটিং ইউনিট থাকা সত্ত্বেও সেখানে কেন লাইফগার্ড ছিল না? কেন জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব ছিল? এমনকি শ্যুটিংয়ের অনুমতি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে, ঘটনাটা এখন আর সরল নয়। প্রতিটি স্তরে রয়েছে ফাঁক, অমিল, আর অনিশ্চয়তা। তদন্ত এগোচ্ছে, রিপোর্ট আসছে, বয়ান বদলাচ্ছে। কিন্তু তালসারির ঢেউ যেন এখনও একটাই প্রশ্ন ফিরিয়ে দিচ্ছে— শেষ পর্যন্ত, রাহুলকে বাঁচানোর সেই ‘সময়’টা কোথায় হারিয়ে গেল?