অভিনেতার পাড়ার মানুষজনের কিয়দংশের বক্তব্য, তাঁদের বাবিনের যেভাবে সম্মান পাওয়ার ছিল, তাই পেয়েছে। অযথা 'কমরেড'-কে নিয়ে এত জলঘোলা না করাই ভাল।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 30 March 2026 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তালসারির সমুদ্রতটে শুটিং করতে গিয়ে রোববার অকালমৃত্যু হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee)। সোমবার তাঁর মরদেহ যখন তমলুক মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিজয়গড়ের পল্লীশ্রীর বাড়িতে পৌঁছল, তখন শোকাতুর অনুরাগী ও পরিজনদের ভিড়ে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল এলাকা। কিন্তু শেষকৃত্যে অভিনেতার মরদেহকে ঘিরে সিপিএমের ‘ইন্টারন্যাশনাল’ গান এবং রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনেতার শেষযাত্রাকে কি ভোটের মুখে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ করল আলিমুদ্দিন? এই প্রশ্নই তুলছে অনেকে।
এদিকে আজ সকালেই প্রয়াত অভিনেতার (Rahul Banerjee Death) বাড়ির সামনে পৌঁছতেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী (Papia Adhikari BJP)। গেরুয়া শিবিরের এই প্রার্থীকে দেখা মাত্রই স্থানীয়দের একাংশ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন। শোকের পরিবেশে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে— এই অভিযোগে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের তুমুল বচসা ও হট্টগোল শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের মুখে কার্যত পিছু হঠতে বাধ্য হন পাপিয়া।
আবার বেলা গড়াতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। বিজয়গড়ের সিপিএম কার্যালয় ‘ভোলা বসু ভবন’-এর সামনে যখন রাহুলের শববাহী গাড়ি দাঁড়ায়, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদ সেলিম-সহ (Md Salim CPM) প্রথম সারির বাম নেতারা। পতাকা অর্ধনমিত করে, মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল’ গেয়ে অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায় সিপিএম (CPM)। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই ঘটনার সমালোচনা করে লিখেছেন, যেখানে বিজেপি প্রার্থীকে প্রচারের দায়ে তাড়ানো হল, সেখানে বামেদের এই স্লোগান ও গান কি আদতে ভোট-রাজনীতি নয়?
সমালোচনার মুখে পড়ে অবশ্য বিন্দুমাত্র পিছু হঠতে নারাজ বাম নেতৃত্ব। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ দ্য ওয়ালকে স্পষ্ট জানান, “রাহুলদা একজন ঘোষিত কমিউনিস্ট এবং সিপিএম-অন্ত প্রাণ মানুষ ছিলেন। আমাদের কোনও কমরেড মারা গেলে আমরা তাঁকে ‘লাল সেলাম’ জানাব, এটাই দস্তুর। বিষয়টাকে নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, রাহুলদা বেঁচে থাকলে তাঁদের কড়া ভাষায় জবাব দিতেন। আমাদের শোকপ্রকাশের ধরন নিয়ে কেউ খবরদারি করতে এলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday) চিরকালই বামপন্থী আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে বামেদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে প্রথম সারিতে দেখা যেত। তরুণ প্রজন্মের বাম কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ‘রাহুলদা’। অভিনেতার পাড়ার মানুষজনের কিয়দংশের বক্তব্য, তাঁদের বাবিনের যেভাবে সম্মান পাওয়ার ছিল, তাই পেয়েছে। অযথা 'কমরেড'-কে নিয়ে এত জলঘোলা না করাই ভাল।