রহমান ডাকাতের লুক তৈরি হয় তাঁর চরিত্রের যাত্রাপথ মাথায় রেখে। ছবিতে দেখা যায়, কীভাবে ধীরে ধীরে রহমান রাজনৈতিক দুনিয়ায় পা রাখে। সেই পরিবর্তন ধরা পড়ে পোশাকেও।

শেষ আপডেট: 25 December 2025 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধুরন্ধর (Dhurandhar)-এ অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna) পর্দায় আসামাত্রই যেন গোটা ছবির টোনই বদলে যায়। গভীর চাহনি, মাপা সংলাপ, আর এমন এক উপস্থিতি - যা দর্শককে চুপ করে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করে। আর তারপর আসে সেই দৃশ্য, ‘Fa9la’। যা নিয়ে এই মুহূর্তে রিল, ক্লিপ আর স্ক্রিনশটের খেয়ালে ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়া।
কিন্তু এই আইকনিক লুকের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অজানা গল্প। অবাক করার মতো বিষয় হল - আজ যে লুক রহমান ডাকাতের পরিচয় হয়ে উঠেছে, সেটাই একসময় প্রায় ছবি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছিল (Akshaye Khanna Fa9la look background story)।
এই লুকের ভাবনাচিন্তাটা শুরুতে ছিল একেবারেই অন্যরকম
ডিজিটাল কমেন্টারিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছবির কস্টিউম ডিজাইনার স্মৃতি চৌহান জানালেন, প্রথমে অক্ষয় খান্নার চরিত্রের জন্য ভাবা হয়েছিল একেবারে সোজাসাপ্টা পোশাক। পরিকল্পনা ছিল, ছবির বেশির ভাগ অংশে তাঁকে দেখা যাবে সাধারণ পাঠানি পোশাকে।
শুনতে সহজ, ছবির মেজাজ হিসেবে নিরাপদ - কিন্তু অভিনেতা হিসেবে যিনি রহমান ডাকাতকে ফুটিয়ে তুলছেন, সেই অক্ষয় খান্নার কাছে তা যথেষ্ট মনে হয়নি।
স্মৃতি বলেন, “অক্ষয় স্যার নিজেই বলেছিলেন, আমরা যেন ভুলে না যাই, এই চরিত্রটা কিন্তু রাস্তা থেকেই উঠে এসেছে।” এই একটিমাত্র মন্তব্যেই পাল্টে যায় পুরো পোশাক নিয়ে যাবতীয় ভাবনা।
ক্ষমতার সঙ্গে বদলেছে পোশাকের ভাষা
এরপর রহমান ডাকাতের লুক তৈরি হয় তাঁর চরিত্রের যাত্রাপথ মাথায় রেখে। ছবিতে দেখা যায়, কীভাবে ধীরে ধীরে রহমান রাজনৈতিক দুনিয়ায় পা রাখে। সেই পরিবর্তন ধরা পড়ে পোশাকেও।
স্মৃতি জানাচ্ছেন, “শুরুর দিকে ওকে দেখা যায় লিনেন আর ডেনিমে - কিছুটা ক্লান্ত, কিছুটা ভাঙাচোরা। এরপর গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আসে সিল্ক-উল পাঠানি, যা ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লুক।”
এক কথায়, পোশাকেই ধরা পড়ে রহমান ডাকাতের উত্থানের গ্রাফ।
লুক টেস্টের পরেও পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না অক্ষয়
এখানেই শেষ নয়। প্রথম লুক টেস্টের পরেও নাকি অক্ষয় খান্নার মনে ছিল দ্বিধা। কয়েক সপ্তাহ পরে আবার ডাকা হয় একটি মিটিং। সেখানেই অভিনেতা স্পষ্ট করে বলেন, “আমি নিশ্চিত নই, আমরা এই রাস্তা ধরেই এগোব কিনা।”
এরপর চরিত্রের শিকড় নিয়ে আরও গভীর আলোচনা হয়। স্মৃতি বলেন, “ওখানেই উনি আবার বলেন, এই লোকটা রাস্তার মানুষ। ওর মধ্যে একটা রুক্ষতা, একটা ধার থাকতেই হবে।”
সেই ভাবনা থেকেই লুক নিয়ে আরও মাজাঘষা শুরু হয়, সেখানেই রহমান ডাকাতের লুক যেন আরও বাস্তবসম্মত হয়ে ওঠে। তা ফুটে ওঠে Fa9la-তেও।
‘Fa9la’ দৃশ্যেও বদলে যায় পরিকল্পনা
ধুরন্ধরের সবচেয়ে বেশি আলোচিত দৃশ্য ‘Fa9la’ গানে রহমানের উপস্থিতি। মজার বিষয়, এই দৃশ্যেও শেষ মুহূর্তে বড়সড় বদল হয়েছিল।
শুরুর ভাবনা ছিল, সব নৃত্যশিল্পী থাকবেন কালো পোশাকে। কিন্তু বালোচ সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ করেন পরিচালক আদিত্য ধর। “আসল ওখানকার মানুষ সাদা পোশাকই বেশি পরেন। তাই আদিত্য স্যার বললেন, আমাদের সাদাতেই যেতে হবে,” জানান স্মৃতি।
কিন্তু তখনই তৈরি হয় নতুন সমস্যা। প্রখর রোদে সাদা পোশাক পরা এত মানুষের ভিড়ে রহমান ডাকাত কীভাবে আলাদা করে চোখে পড়বেন?
সাদার মাঝে কালো - একটি আইকনিক সিদ্ধান্ত
সমাধান আসে দ্রুত। সিদ্ধান্ত হয়, সবাই সাদায়, আর অক্ষয় খান্না পুরো কালো পোশাকে। ছবিতে তখন রহমান ডাকাত পেয়েছে ‘শের-ই-বালোচ’ সম্মান। তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরাটাই ছিল লক্ষ্য।
স্মৃতি বলেন, “আমরা বিভিন্ন রঙ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম ওঁকে কালোতেই থাকতে হবে। সবাই খুব তাড়াতাড়ি একমত হয়ে যায়। বালোচ সংস্কৃতির শিকড়ে রেখেই ওর জন্য বালোচ পাঠানি বেছে নিই।”
আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় সেই লুক - যা আজ ভাইরাল।
পরিচালক হিসেবে আদিত্য ধরের একটাই লক্ষ্য ছিল
এই পুরো প্রক্রিয়াতেই পরিচালক আদিত্য ধর হাতেকলমে যুক্ত ছিলেন। স্মৃতির কথায়, “আদিত্য স্যার সবসময় বলতেন, রহমান ডাকাত যখনই ফ্রেমে ঢুকবে, মানুষ যেন নিঃশ্বাস নিতেও ভুলে যায়।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের প্রতিক্রিয়া আর অক্ষয় খান্নার সেই লুকের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবই প্রমাণ যে, ধুরন্ধরের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে অক্ষয় অভিনীত এই চরিত্র।