অভিনেতা হয়তো মনে করিয়ে দিতে চান যে, রণবীর কত বড় পরিবারের সন্তান - বাবা, ঠাকুরদা, দিদি, বোন সব মিলিয়ে বহু যুগের ঐতিহ্য। কিন্তু সেই পরিবারের এতটুকু চাপও রণবীর যে বহন করেন না, তা দেখেই কার্যত অবাক হয়ে যান পীযূষ।

রণবীর কাপুর এবং পীয়ুষ মিশ্র
শেষ আপডেট: 9 December 2025 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ প্রতিভা দিয়ে মন কাড়েন, কেউ শৃঙ্খলায়। কিন্তু বর্ষীয়ান অভিনেতা পীযূষ মিশ্রের (Piyush Mishra) চোখে রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor) একেবারেই আলাদা মাপের মানুষ। কাপুর পরিবারের (Kapoor Family) ঐতিহ্য যার পিছনে রয়েছে, সেই ব্যক্তি এতটা সহজ-সরল কীভাবে হতে পারে, সেটাই অবাক করে পীযূষকে। আর সেটাই এক সাক্ষাৎকারে (Interview) বলেছেন তিনি।
এত বড় ফিল্মি পরিবার (Filmy Family), ঐতিহ্য, ফ্যান ফলোয়িং, তারপরও রণবীর যেন মাটির মানুষ। বিন্দুমাত্র অহংকার (EGO) নেই তাঁর মধ্যে। ‘দ্য লল্লনটপ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা–লেখক জানান, রণবীরের মতো সাবলীল, সরল এবং চাপমুক্ত মানুষ তিনি আর দেখেননি।
পীযূষের কথায়, রণবীর নিজের স্টারডমের (Stardom) ১ শতাংশও বহন করেন না। 'রকস্টার' (Rockstar) ও 'তামাশা'র (Tamasha) শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অভিনেতা আরও বলেন, প্রথম দিন থেকেই রণবীর তাঁকে চমকে দিয়েছেন। শটের সময় অত্যন্ত মনোযোগী হলেও ক্যামেরা বন্ধ হওয়া মাত্রই রণবীর হয়ে যান অবিশ্বাস্য খোশমেজাজি, মিশুকে, যেন কোনও চাপই নেই।
হেসে মিশ্র বলেন, “অরে, সে তো আলাদা গ্রহের মানুষ! এত নির্লজ্জ, এত স্বচ্ছন্দ কাউকে আমি আগে দেখিনি!” তাঁর কথায়, সবচেয়ে অবাক করা বিষয় - ক্যামেরা অফ হলেই রণবীর সম্পূর্ণ ভাবে দূরে সরে যান কাপুর পরিবারের উত্তরাধিকারের চাপ থেকে।
অভিনেতা হয়তো মনে করিয়ে দিতে চান যে, রণবীর কত বড় পরিবারের (Kapoor Family) সন্তান - বাবা, ঠাকুরদা, দিদি, বোন সব মিলিয়ে বহু যুগের ঐতিহ্য। কিন্তু সেই পরিবারের এতটুকু চাপও রণবীর যে বহন করেন না, তা দেখেই কার্যত অবাক হয়ে যান পীযূষ।
রণবীরের মতোই আরও এক অভিনেতাকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন পীযূষ মিশ্র (Piyush Mishra)। তিনি ইরফান খান (Irfaan Khan)। তাঁর অকাল মৃত্যুতে তিনি কতটা গভীর শোক পান, সে কথা বলতে গিয়ে পীযূষ বলেন, এখনও কষ্ট হয়। ও ছিল অসাধারণ অভিনেতা। তাঁর সংযোজন, অনেক কম বয়সে চলে গেছে ইরফান। হয়তো আমরা খুব ঘনিষ্ঠ হতে পারিনি, কিন্তু শুনেছি মানুষ হিসেবে ভীষণ ভাল ছিল।
২০১৮ সালে নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার ধরা পড়ে ইরফানের। সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের জটিলতায় ২০২০ সালের এপ্রিলে মুম্বইয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকরা জানান, কোলনের সংক্রমণই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়।