টেলিভিশনের পর্দা এখন যেন এক যুদ্ধক্ষেত্র—প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি গল্প, প্রতিটি সংলাপ যেন দর্শকের মন জয় করার এক অস্ত্র। আর এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা যেন সেই যুদ্ধের ফলাফলপত্র। কে জিতল দর্শকের ভালোবাসা? কে হারাল মুকুট?

শেষ আপডেট: 6 November 2025 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেলিভিশনের পর্দা এখন যেন এক যুদ্ধক্ষেত্র—প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি গল্প, প্রতিটি সংলাপ যেন দর্শকের মন জয় করার এক অস্ত্র। আর এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা যেন সেই যুদ্ধের ফলাফলপত্র। কে জিতল দর্শকের ভালোবাসা? কে হারাল মুকুট?
টলিপাড়ার আড্ডায় এখন একটাই গুঞ্জন—‘জগদ্ধাত্রী’ নাকি এবার শেষের পথে। তিন বছরের দীর্ঘ সাফল্যের পরও সিরিজটির জনপ্রিয়তা কিন্তু এখনও অবিচল। তবু এবারের রেটিং-যুদ্ধে সে পিছিয়ে পড়ল খানিকটা। ‘পরিণীতা’র কাছে হার মানল সবাই।
এই সপ্তাহেও ‘পরিণীতা’র নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে জয়ের আলো। রেটিং ৬.৮—বেঙ্গল টপার আবারও সে-ই। দ্বিতীয় স্থানে, মাত্র অল্প ব্যবধানে, রয়েছে স্টার জলসার এককালের শীর্ষধারাবাহিক ‘পরশুরাম’। রেটিং ৬.৬। তটিনী আর শিবপ্রসাদের কাহিনির আবেদন এখনও প্রবল, তবে পারুল ও রায়ানের ঝলকে এবারও টপারে জায়গা পেল না ‘পরশুরাম’।
তৃতীয় স্থানে এসে মিলেছে এক অদ্ভুত সমতা—‘জগদ্ধাত্রী’ ও ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’ দু’জনেই যৌথভাবে তৃতীয়, রেটিং ৬.৪। ‘জগদ্ধাত্রী’র গল্প শেষের পথে হলেও দর্শকের টান এখনও অটুট। অন্যদিকে, নতুন ধারার অ্যাকশন-ড্রামা ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’ ক্রমেই জায়গা তৈরি করছে দর্শকমনে।
চতুর্থ স্থানে ঠাঁই পেয়েছে রোম্যানসে ভরপুর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। রেটিং ৬.২। বর্তমানে ধারাবাহিকটিতে চলছে আর্য আর অপর্ণার বিয়ের উত্তেজনা—তাই গল্পের আবেগে দর্শকও মজে রয়েছেন। এই গতি যদি বজায় থাকে, তাহলে আগামী সপ্তাহে ‘চিরদিনই’ আরও উপরে উঠতে পারে।
পঞ্চম স্থানে যৌথভাবে রয়েছে ‘ফুলকি’ ও ‘আমাদের দাদামণি’—দু’টিরই রেটিং ৬.১। বিশেষত ‘আমাদের দাদামণি’ এখন ধীরে ধীরে তার সময়স্লট ছিনিয়ে নিচ্ছে ‘রাজরাজেশ্বরী রাণী ভবানী’র কাছ থেকে, যা নিঃসন্দেহে এক বড়ো পালাবদলের ইঙ্গিত।
আর ছয় নম্বরে যৌথভাবে আছে ‘ও মোর দরদিয়া’ ও ‘রাজরাজেশ্বরী রাণী ভবানী’, রেটিং ৫.৮। বিশ্বজিৎ ঘোষ ও রণিতা দাসের ‘ও মোর দরদিয়া’ নতুনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়োচ্ছে—গল্প, অভিনয়, সুর—সব মিলিয়ে ধারাবাহিকটি এখন টিআরপি যুদ্ধে এক চমক।
সপ্তম স্থানে ‘চিরসখা’। রেটিং ৫.৫। কমলিনী আর স্বতন্ত্রর বিয়ের কাহিনিতে এখন উষ্ণ সময় পার করছে সিরিজটি, কিন্তু তবু সেরা পাঁচের বাইরে রয়ে গেছে। তার ওপর কমলিনীর বড় ছেলে বুবলাইয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে গল্পে—দর্শক কৌতূহলী হলেও রেটিংয়ের গ্রাফ এখনও স্থিতিশীল।
অষ্টম স্থানে সমান রেটিং নিয়ে রয়েছে ‘জোয়ার ভাঁটা’ ও ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’ (৫.৪)। যদিও সামান্য ব্যবধানে (.১ নম্বর) ‘চিরসখা’র কাছে স্লট হারিয়েছে ‘জোয়ার ভাঁটা’। তবে উজি ও নিশা—আরাত্রিকা মাইতি ও শ্রুতি দাসের অনবদ্য জুটিতে দর্শকরা নতুন করে প্রেমে পড়েছেন, তা বলাই যায়।
নবম স্থানে রয়েছে ‘তুই আমার হিরো’ (৫.১), আর দশম স্থানে ‘কনে দেখা আলো’ (৪.৯)। অন্যদিকে, নন-ফিকশন শোগুলির প্রতিযোগিতাতেও জমজমাট লড়াই চলছে। ‘সা রে গা মা পা’ এই সপ্তাহে পেয়েছে ৫.২, আর ‘দিদি নাম্বার ১ সানডে ধামাকা’ কাছাকাছি ৫.১। দর্শকরা এখনও মেতে আছেন রিয়েলিটির আবেগে, হাসিতে, প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চে।
এক সময়ের টিআরপি সম্রাট ‘পরশুরাম’-এর আজকের অবস্থান যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—টেলিভিশনের রাজত্ব কারও চিরস্থায়ী নয়। আজ যে শীর্ষে, কাল সে-ও হয়তো পিছিয়ে পড়বে নতুন গল্পের আলোয়। তবু এই রেটিং-এর উত্থান-পতনের মাঝেই বেঁচে থাকে টলিপাড়ার হৃদস্পন্দন। প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি দৃশ্য যেন বলে—“আলো নিভে গেলেও গল্প থামে না।”