বড়পর্দা থেকে ওয়েব—তারপর আবার ছোটপর্দা। ইদানীং এই যাতায়াত যেন নতুন স্বাভাবিক। তারকাদের ফিরে আসা নিয়ে দর্শকের কৌতূহলও কম নয়। সেই তালিকায় এবার জুড়ল আরও একটি নাম—পায়েল সরকার।

শেষ আপডেট: 21 February 2026 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়পর্দা থেকে ওয়েব—তারপর আবার ছোটপর্দা। ইদানীং এই যাতায়াত যেন নতুন স্বাভাবিক। তারকাদের ফিরে আসা নিয়ে দর্শকের কৌতূহলও কম নয়। সেই তালিকায় এবার জুড়ল আরও একটি নাম—পায়েল সরকার। অনেকদিন পর তাঁকে টেলিভিশনে দেখতে চলেছেন দর্শক। কিন্তু কোনও ধারাবাহিকের নায়িকা হয়ে নয়, অন্য এক আলোর মঞ্চে। (paayel sarkar)
সান বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-এর বিশেষ পর্বে হাজির থাকবেন টলিউডের এই অভিনেত্রী। বহুদিন ধরে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া এই শো শুরু হয়েছিল শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে, নতুন সাজে, নতুন আয়োজনে, আরও বড় পরিসরে ফিরে এসেছে অনুষ্ঠানটি। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সন্ধ্যা ৬টার বদলে এখন এটি দেখা যাচ্ছে সন্ধ্যা ৭টায়। দেখতে দেখতে এসে পড়েছে সিজন ২-এর মাসিক ফিনালে, আর সেই বিশেষ পর্বেই থাকছেন পায়েল।
ফেব্রুয়ারির ফিনালে নিয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই এই শো তিনি দেখেন। এখানকার ‘লক্ষ্মী’দের লড়াই, আত্মসম্মান আর স্বপ্নপূরণের ইচ্ছে তাঁকে সত্যিই অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর কথায়, এই অনুষ্ঠান শুধু বিনোদন নয়, এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতাও পালন করছে। বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাওয়া এই শো যে এত মানুষের ভালবাসা পেয়েছে, তা দেখে তাঁর ভাল লাগে।
মাসিক ফিনালে মানেই হাসি, খেলা, উত্তেজনা আর আবেগের মিশেল। বিজয়িনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে ২ লক্ষ টাকার পুরস্কার। পাশাপাশি শোনা যাবে প্রতিযোগী ‘লক্ষ্মী’দের জীবনসংগ্রামের গল্প। সেই গল্পের সাক্ষী থাকবেন পায়েল নিজে। শুধু গল্প শোনাই নয়, থাকছে তাঁর পারফরম্যান্সও। ‘প্রেম আমার’, ‘জাগে রে’-র মতো জনপ্রিয় গানে নেচে মঞ্চ মাতাবেন তিনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় সম্প্রচারিত হবে এই বিশেষ পর্ব।
এই শো-তে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলার প্রতিটি মহিলার জন্য। অডিশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তাঁরা পাঁচটি রাউন্ডে প্রতিযোগিতা করেন। প্রতিটি রাউন্ডের শেষে থাকে নগদ পুরস্কার। ফাইনাল রাউন্ডে বিজয়িনীর জন্য নির্ধারিত এক লক্ষ টাকার নগদ সম্মান। এখন প্রতি পর্বে তিনজনের বদলে চারজন মহিলা প্রতিযোগী অংশ নেন, এবং কাউকেই খালি হাতে ফিরতে হয় না। নতুন ফরম্যাটে যুক্ত হয়েছে নতুন খেলা—‘টাকার খনি’, ‘বল ফেলতে টাকা কুলো’-র সঙ্গে এখন ‘টাকার গদি’ও বাড়তি আকর্ষণ।
এই পুরো আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। তাঁর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি শুধু খেলার মঞ্চ নয়, যেন এক আত্মসম্মানের জায়গা। বারবার তিনি বলেছেন, এত নারীর সংগ্রামের গল্প শুনতে শুনতে নিজের জীবনের অভিযোগ করা তিনি প্রায় ভুলে গিয়েছেন।
মাঝেমধ্যে এই মঞ্চে হাজির হন একঝাঁক তারকারাও। তাঁদের আড্ডা, গল্পে জমে ওঠে বিশেষ পর্ব। তবে তারকারা যে পুরস্কার পান, তার সবটাই তাঁরা নিয়ে যান না। সেই অর্থ জমা হয় ‘লক্ষ্মী ব্যাঙ্ক’-এ। এবার সেই সঞ্চিত অর্থ থেকে কয়েকজন লড়াকু মা লক্ষ্মীর হাতে তুলে দেওয়া হবে টাকা, যাতে তাঁরা নিজেদের স্বপ্নের পথে আরও একধাপ এগোতে পারেন।
দর্শকের বিপুল চাহিদায় এখন অনুষ্ঠানটি টানা দেড় ঘণ্টা ধরে সম্প্রচারিত হচ্ছে। কারণ এই মঞ্চ শুধু বিনোদনের জন্য নয়—এখানে জিতে যাওয়ার অর্থ নিজের ভিতরে সাহস খুঁজে পাওয়া। ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই সন্ধ্যায় পায়েলের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বাড়তি আকর্ষণ, কিন্তু আসল আলো থাকবে সেই সব নারীর চোখে, যারা স্বপ্ন দেখার সাহস রাখেন। ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’ তাই শুধু একটি শো নয়—এ এক বিশ্বাস, যে স্বপ্ন দেখা এখনও সম্ভব।