আজ সেই গৌরবময় ভবন যেন ইতিহাসের পাতায় রূপান্তরিত হয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। দেয়ালে ফাটল, জানালায় ছেঁড়া পর্দা, জরাজীর্ণ চেহারায় ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে পঞ্চমের স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি।
.png.webp)
শেষ আপডেট: 20 July 2025 21:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময়, দক্ষিণ কলকাতার ৩৬/১ সাউথ এন্ড পার্ক মানেই ছিল সুরের কেন্দ্রবিন্দু। সেই বাড়িতেই থাকতেন কিংবদন্তি সঙ্গীতকার শচীনদেব বর্মন ও তাঁর ছেলে, ‘পঞ্চম’ নামেই খ্যাত রাহুলদেব বর্মন। ১৯৩৯ সালে এই বাড়িতেই জন্ম পঞ্চমের, আর ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ছিল তাঁদের স্থায়ী নিবাস। শোনা যায়, গুরু দত্ত, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো দিকপালরা প্রায়শই আসতেন এই বাড়িতে। জমত সুরের আড্ডা, সৃষ্টি হত কালজয়ী গান।
কিন্তু আজ সেই গৌরবময় ভবন যেন ইতিহাসের পাতায় রূপান্তরিত হয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। দেয়ালে ফাটল, জানালায় ছেঁড়া পর্দা, জরাজীর্ণ চেহারায় ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে পঞ্চমের স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি।
এই পরিস্থিতিতে বাড়িটির সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছেন পরিচালক অভিজিৎ দাশগুপ্ত। Change.org–এ তিনি একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেছেন, যেখানে দাবি জানানো হয়েছে, “এই ঐতিহাসিক ঠিকানায় যেন একটি মিউজিয়াম বা সঙ্গীত ভবন গড়ে ওঠে।” পিটিশনে ইতিমধ্যেই সাড়া দিয়েছেন বহু বিশিষ্ট মানুষ। বাংলার বহু শিল্পী, গায়ক-গায়িকা, সঙ্গীতপ্রেমী এই দাবিতে সরব হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে পোস্ট, প্রচার, আবেদন।
পরিচালকের কথায়, “বাংলাদেশে পুরনো রায়বাড়ি সংরক্ষণের জন্য সরকারের আগ্রহ আছে। তাহলে আমাদের এখানে কেন নয়?” তিনি আরও জানিয়েছেন, হেরিটেজ কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে।
বিজ্ঞানী ও পরিচালক বেদব্রত পাইনের কথায় , “আমার শৈশবের স্মৃতি এই বাড়ি। শুনেছি, ‘মনে পড়ে রুবি রায়’ গানটি এখানেই তৈরি হয়েছিল। আমি এখনও আমার ছেলেকে ও বাড়িটা দেখাই।”
২০২১ সালে বাড়ির পাশের রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল ‘সংগীত সরণি’। তবু বাড়িটি পড়ে আছে অবহেলায়। পঞ্চমের স্মৃতি কি তবে হারিয়ে যাবে চিরতরে? নাকি এবার প্রশাসন মুখ তুলে তাকাবে এই পিটিশনের জেরে? এ যে নেহাত বাড়ি নয়, বাংলা সংগীতের ইতিহাস। এখন দেখার, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচাতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়।