টলিউড হোক বা বলিউড—চকচকে আলো, লাল গালিচা আর ক্যামেরার ঝলক যতটা মোহময়, তার আড়ালে বাস্তবটা ততটাই কঠিন।

শেষ আপডেট: 15 December 2025 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউড হোক বা বলিউড—চকচকে আলো, লাল গালিচা আর ক্যামেরার ঝলক যতটা মোহময়, তার আড়ালে বাস্তবটা ততটাই কঠিন। এখানে কোনও শিল্পীর জীবনে কাজের ধারাবাহিকতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যাঁর নামে পোস্টার ছাপা হয়, কাল তিনিই কাজের আশায় ঘরের চার দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এমন অজস্র মুখ আছে, যাঁরা দিনের পর দিন ফোনের অপেক্ষায় বসে থেকেছেন, সঞ্চয়ের শেষ টাকাটুকুও ফুরিয়ে যাওয়ার পর জীবনের দিশা খুঁজে পাননি। কেউ কেউ তো শেষ পর্যন্ত হারিয়েও গিয়েছেন। এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বাস্তবতা এখন আর অজানা নয়—আর সেই কারণেই বদলাচ্ছে ভাবনাও।

আজকের দিনে অনেক শিল্পীই আর শুধু অভিনয়ের উপর নির্ভর করে থাকতে চাইছেন না। কেউ নিজের গল্প শোনাচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ার ভ্লগে, কেউ বা অভিনয়ের পাশাপাশি বেছে নিচ্ছেন একেবারে ভিন্ন কোনও পথ। লক্ষ্য একটাই—আগামী দিনের নিরাপত্তা। সেই প্রবণতার মধ্যেই এবার নতুন এক পরিচয়ে ধরা দিলেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য (Priyanka Bhattacharjee)।
স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মা’-তে ফুলকির বড়বেলার চরিত্রে অভিনয় করে একসময় ঘরে ঘরে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন তিনি। অল্প সময়েই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। ছোট পর্দার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজেও তাঁকে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন চরিত্রে। কিন্তু গত কয়েক বছরে ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি যেন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এসেছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই দর্শকের মনে প্রশ্ন জন্মেছিল—কেমন আছেন প্রিয়াঙ্কা? কোথায় তিনি? কী নিয়েই বা ব্যস্ততা?

উত্তরটা লুকিয়ে ছিল তাঁর জীবনের অন্য অধ্যায়ে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা এবার নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন উদ্যোগপতি হিসেবে। ব্যবসা তাঁর কাছে একেবারেই অচেনা জগৎ নয়। বাবার কয়লার ব্যবসার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়ী পরিবারের পরিবেশে বড় হওয়া। হিসেব-নিকেশ, পরিকল্পনা, ঝুঁকি নেওয়া—এই সবকিছুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় বহুদিনের। তাই মনেপ্রাণে তিনি বরাবরই চেয়েছিলেন, একদিন নিজেও কিছু একটা গড়ে তুলবেন। সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবের রূপ পেয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার নতুন পথচলার ঠিকানা গয়নার দুনিয়া। তবে তা আর পাঁচটা দামি অলংকারের গল্প নয়। তাঁর ভাবনায় রয়েছে সাধ্যের মধ্যে সৌন্দর্য। সোনা বা পুরো হীরের উচ্চমূল্যের গণ্ডি ভেঙে তিনি বেছে নিয়েছেন রুপোর সঙ্গে হীরের মেলবন্ধন। স্বল্পমূল্যে আকর্ষণীয়, রুচিশীল গয়না—এই তাঁর ব্র্যান্ডের মূল দর্শন। মাত্র দু’হাজার টাকা থেকেই শুরু হচ্ছে এই অলংকারের দাম। নিজস্ব ডিজাইনারের হাতে তৈরি প্রতিটি গয়নায় ফুটে উঠছে আলাদা যত্ন আর ভাবনা—যার কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে।

এই মুহূর্তে বাড়ি থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর ব্যবসার যাত্রা। তবে স্বপ্ন এখানেই থামিয়ে রাখতে চান না প্রিয়াঙ্কা। ভবিষ্যতে বড়বাজারে নিজস্ব শোরুম খোলার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর। তবু ব্যবসার ব্যস্ততায় অভিনয়কে বিদায় জানাতে একেবারেই নারাজ তিনি। প্রিয়াঙ্কার বিশ্বাস, একসঙ্গে একাধিক স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখাই আজকের সময়ের সত্যি পথ। তাই ব্যবসা যেমন এগোবে, অভিনয়ও তেমনই থাকবে তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে।
কলকাতা আর মুম্বই—এই দুই শহরের মধ্যেই এখন ভাগ হয়ে থাকে প্রিয়াঙ্কার সময়। মুম্বইতেই চলছে নিয়মিত অডিশন, নতুন কাজের খোঁজ। ইতিমধ্যেই মারাঠি ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রজেক্টের সুযোগও তাঁর ঝুলিতে এসেছে। সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, তিনি থামতে শেখেননি—শুধু দিক বদলেছেন।