গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের সমুদ্রে স্কুবা ডাইভ করতে নেমে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ৫২ বছরের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর (Zubeen Death)।

জুবিন গর্গ ও হিমন্ত বিশ্বশর্মা
শেষ আপডেট: 25 November 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গায়ক-সুরকার জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) মৃত্যু ‘দুর্ঘটনা’ নয়, বরং সরাসরি ‘খুন’— অসম বিধানসভায় (Assam Assmebly) দাঁড়িয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma)। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের সমুদ্রে স্কুরা করতে নেমে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ৫২ বছরের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর (Zubeen Death)।
মঙ্গলবার বিধানসভায় বিরোধীদের আনা স্থগিতাদেশ প্রস্তাবের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “প্রাথমিক তদন্তেই পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে— এটা কোনও আকস্মিক মৃত্যু নয়। এটা নিছক খুন।” তাঁর কথায়, “এক জন ব্যক্তি জুবিনকে খুন করেছে, বাকি কয়েক জন তাকে সাহায্য করেছে। মোট চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।”
জুবিন ওই সময়ে গিয়েছিলেন নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে। সেখানে অন্য শিল্পীদের সঙ্গে ইয়াটে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রে নামার পর আচমকাই ঘটে বিপত্তি।
এই ঘটনার পর রাজ্য জুড়ে ৬০টিরও বেশি অভিযোগ দায়ের হয়। রাজ্য সরকার গঠন করে বিশেষ তদন্ত দল (SIT), যার নেতৃত্বে রয়েছে অসম পুলিশের সিআইডি শাখা। পাশাপাশি গঠন করা হয় এক সদস্যের বিচার কমিশন— গৌহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমিত্র সাইকিয়ার নেতৃত্বে।
ঘটনার কয়েক দিন পর গ্রেফতার করা হয় ফেস্টিভ্যাল আয়োজক শ্যামকানু মহান্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিধার্থ শর্মা, ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী ও অমৃত প্রভা মহন্তকে। গ্রেফতার হন শিল্পীর আত্মীয় ও অসম পুলিশের কর্তা সন্দীপন গার্গও। পরে জুবিনের দুই নিরাপত্তা রক্ষী— নন্দেশ্বর বরা এবং প্রবীণ বৈশ্যকেও আটক করে পুলিশ। তাঁদের অ্যাকাউন্টে ১.১ কোটি টাকার লেনদেনের হদিস পায় তদন্তকারী দল।
এ পর্যন্ত মোট সাত জন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, খুনের উদ্দেশ্যে আঘাত, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অবহেলায় মৃত্যুর মতো একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, “ডিসেম্বরে SIT যে চার্জশিট দেবে, তা হবে একেবারে জল-অবধি। আর সেই চার্জশিটে উঠে আসা হত্যার মোটিভ গোটা রাজ্যকে স্তম্ভিত করবে।” তাঁর কথায়, চার্জশিট জমা পড়ার পর অবহেলা, বিশ্বাসভঙ্গসহ আরও কয়েকটি দিকেও তদন্ত বিস্তৃত করা হবে।
এদিকে সিঙ্গাপুর পুলিশও আলাদা ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সীমা কমিশন বাড়িয়েছে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত ৩ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল। অসমের সাংস্কৃতিক জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখের মৃত্যু নিয়ে রাজ্যজুড়ে শোক ও ক্ষোভ— তার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল।