ভালোবাসার মরসুমে যখন বড়পর্দা সাধারণত রোম্যান্টিক ছবিতে ভরে ওঠে, ঠিক তখনই সেই চেনা আবহে রক্তের দাগ টেনে দিলেন শাহিদ-বিশাল ভরদ্বাজ।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালোবাসার মরসুমে যখন বড়পর্দা সাধারণত রোম্যান্টিক ছবিতে ভরে ওঠে, ঠিক তখনই সেই চেনা আবহে রক্তের দাগ টেনে দিলেন শাহিদ-বিশাল ভরদ্বাজ। ৯ জানুয়ারি, শুক্রবার—একটি পোস্টার, একটি হিংস্র হাসি, আর সঙ্গে-সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে আলোড়ন। ‘ও রোমিও’—নামটা যতটা কাব্যিক, প্রথম ঝলকটা ততটাই ভয়ংকর, অস্থির আর বেপরোয়া।
শাহিদের রক্তে ভেজা মুখ, গলায় ও হাতে কাটা। শরীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্তাক্ত হাতের ছাপ, চোখে এমন এক দৃষ্টি—যেখানে রাগ, পাগলামি আর বিজয়ের উল্লাস একসঙ্গে মিশে গেছে। মুখ ফাঁক করে সেই বিকৃত হাসি, কালো পোশাকের নিচে উন্মুক্ত ট্যাটু, গলায় চেন, হাতে আংটি ও ব্রেসলেট—সব মিলিয়ে তিনি আর শুধু একজন নায়ক, হিংস্র।
ইনস্টাগ্রামে পোস্টার শেয়ার করে নির্মাতারা লিখেছিলেন, “Romeo O Romeo where art thou O’ROMEO!”—আর সঙ্গেই জানিয়ে দেন, এর ঝলক মাত্র শুরু। প্রেক্ষাগৃহে আসছে ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬—ভ্যালেন্টাইনের ঠিক এক দিন আগে। প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রযোজনায়, বিশাল ভরদ্বাজের পরিচালনায় এই ছবির ট্রেলার মুক্তি পাবে ১০ জানুয়ারি। শাহিদ নিজেও পোস্টার শেয়ার করে একই শেক্সপিয়রীয় পঙ্ক্তি লিখে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন।
‘ও রোমিও’ শুধু আরেকটি ছবি নয়, শাহিদ কাপুর ও বিশাল ভরদ্বাজের চতুর্থ যৌথ যাত্রা। ‘কামিনে’, ‘হায়দার’, ‘রেঙ্গুন’-এর পর এই জুটি আবার ফিরছে। এই ছবিতে শাহিদকে দেখা যাবে এক flamboyant গ্যাংস্টারের চরিত্রে, যেখানে গান, হিংসা, প্রেম আর মানসিক ভাঙন একে অপরের সঙ্গে জট পাকিয়ে আছে। অন্ধকার জগতে শাহিদের পাশে থাকছেন তৃপ্তি দিমরি, রণদীপ হুডা, নানা পাটেকর, অবিনাশ তিওয়ারি, বিক্রান্ত ম্যাসি ও ফরিদা জালাল—আর বিশেষ উপস্থিতিতে দিশা পাটানি। একঝাঁক অভিনেতার সমাবেশে ছবির আবহ আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
পোস্টারে সবচেয়ে বেশি চোখ টেনেছে শাহিদের শরীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ট্যাটু। জানা যাচ্ছে, এটি নিছক চমক নয়—পুরো চরিত্রের মনস্তত্ত্বের অংশ। প্রতিটি ট্যাটুর নকশা, অবস্থান ও তাৎপর্য নিয়ে নাকি হয়েছে দীর্ঘ গবেষণা। এই দাগগুলো চরিত্রের রাগ, ক্ষত, না-বলা যন্ত্রণা আর অতীতের ট্রমার প্রতিচ্ছবি। শাহিদের জন্য এটি একেবারেই নতুন অধ্যায়—এমন পূর্ণাঙ্গ শারীরিক রূপান্তর মূলধারার হিন্দি সিনেমায় বিরল বলেই মত ইন্ডাস্ট্রির।
পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই নেটদুনিয়া উত্তাল। কেউ লিখেছেন, ট্যাটু থেকে শুরু করে রক্তের দাগ—সব মিলিয়ে এই লুক তাঁকে অস্থির করে তুলেছে, আবার কেউ ঘোষণা করেছেন, আরেকটি ব্লকবাস্টার আসছে। পোস্টারের নিচে মন্তব্যের স্রোত যেন প্রমাণ করে দিচ্ছে—শাহিদ ও বিশালের এই পুনর্মিলন প্রত্যাশাকে বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশাল ভরদ্বাজের সিনেমা মানেই ধূসরতা, মানসিক টানাপড়েন আর আপসহীন ভিশন। আর ‘ও রোমিও’ নাকি সেই স্বাক্ষরকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা ছবির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কথায়—এটি এমন এক কাজ, যা দর্শককে আরাম দেবে না, বরং নাড়া দেবে, ক্লান্ত করবে, ভাবতে বাধ্য করবে। শাহিদ নাকি নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিয়েছেন এই চরিত্রের কাছে।
ভ্যালেন্টাইনের ঠিক আগে মুক্তি পাওয়া এই ছবি যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রেমের চেনা সংজ্ঞাকে ভেঙে দিতে চায়। পোস্টারের টিজ—“ও রোমিও-র খুশবু উড়বে এই ভ্যালেন্টাইনস”—স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এখানে প্রেম থাকবে, কিন্তু তা গোলাপি নয়; থাকবে রক্ত, যন্ত্রণা আর উন্মত্ততা মেশানো এক অদ্ভুত সুবাস।