কোনও পোস্টার নয়, কোনও টিজ়ার নয়— শুধু একটিমাত্র ঘোষণাই যথেষ্ট ছিল উত্তেজনার পারদ চড়াতে। দেব জানান, ‘ধুমকেতু’র পরে আবার বড়পর্দায় একসঙ্গে ফিরছেন তিনি ও শুভশ্রী। সময়টা নির্ধারিত।

রাজ-শুভশ্রী-দেব
শেষ আপডেট: 8 January 2026 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও পোস্টার নয়, কোনও টিজ়ার নয়— শুধু একটিমাত্র ঘোষণাই যথেষ্ট ছিল উত্তেজনার পারদ চড়াতে। দেব জানান, ‘ধুমকেতু’র পরে আবার বড়পর্দায় একসঙ্গে ফিরছেন তিনি ও শুভশ্রী। সময়টা নির্ধারিত। ২০২৬-এর দুর্গাপুজো। ব্যস, এটুকুই। যদিও সূত্রের খবর ছবির পরিচালক সুজিত রিনো দত্তই নাকি এবার হাত ধরছেন একেবারে খাঁটি প্রেমের গল্পের। তবে, বাকি অনেক কিছুই, আপাতত রহস্যে মোড়া। এই জুটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শুধু স্মৃতি নয়, রয়েছে তাঁদের ব্যক্তিগত ইতিহাসও— ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, তিক্ততা, নীরবতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু পেরিয়ে আজ দু’জনেই দাঁড়িয়েছেন অন্য জায়গায়।
বাংলা ছবির স্বার্থে পুরনো সব জটিলতা সরিয়ে রেখে তাঁরা আবার এক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তে পাশে পেয়েছেন রাজ চক্রবর্তী ও রুক্মিণী মিত্রকেও। কিন্তু সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সমঝোতার মাঝেই অতি উৎসাহে জল ঢেলে দিল কিছু প্রশ্ন।
সম্প্রতি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র বিশেষ স্ক্রিনিংয়ে হাজির ছিলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন দেব-শুভশ্রীর আসন্ন সপ্তম ছবি ‘দেশু’ নিয়ে— তিনি কি এই ছবির পরিচালক? কী ধরনের ছবি হতে চলেছে? এই প্রশ্নোত্তর পর্ব যে রাজের জন্য অস্বস্তিকর, তা স্পষ্ট ছিল। আর সেই ঘটনাই দেবের মনে গভীর বিরক্তির জন্ম দেয়।
‘প্রজাপতি ২’-এর পোস্ট রিলিজ প্রচারে এসে দেব, নিজের সেই ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। স্পষ্ট, কড়া ভাষায় তিনি বলেন— অন্য কোনও প্রিমিয়ারে গিয়ে অন্য কোনও অভিনেতা, প্রযোজক বা পরিচালকের কাছে (রাজ চক্রবর্তী)‘দেশু’ নিয়ে প্রশ্ন করা একেবারেই অনুচিত। তাঁর কথায়, এই বিষয়টি শুধু ভুল নয়, অত্যন্ত বোকামির মতোও লাগে। অন্য ছবির মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাউকে ‘দেশু, দেশু’ করে প্রশ্ন করা তাঁর কাছে অসম্মানজনক।
দেবের যুক্তি আরও পরিষ্কার— হয়তো দর্শক বা মিডিয়ার কাছে এটা উন্মাদনা, ডিমান্ড বা কৌতূহল। কিন্তু এই ছবির উত্তর দেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁর এবং শুভশ্রীর। এর বাইরে কেউ কিছু বলতেই পারবে না। শুভশ্রী যেমন নিজের জায়গা থেকে উত্তর দিয়েছেন, তেমনই দেবও জানালেন— ‘দেশু’ নিয়ে তাঁরাও সমানভাবে উত্তেজিত। বরং দর্শকের দিক থেকে যে সাড়া মিলছে, তা তাঁদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর ক্ষেত্রে, কারণ এই ছবির প্রযোজক দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চারস নিজেই।
দেব-শুভশ্রী জুটির পথচলা তো শুরুই হয়েছিল রাজ চক্রবর্তীর হাত ধরেই। পাশাপাশি, তিনিই কি এই ছবির পরিচালক— সেটাও জানার আগ্রহ ছিল। দেব সেই ব্যাখ্যার উত্তরে জানিয়ে দেন— দর্শক এতদিন যেভাবে ‘দেশু’কে দেখেছে, সেই ছ’টি ছবির অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই সপ্তম ছবির পরিকল্পনা চলছে। তাঁর বিশ্বাস, এই ছবি আগের সবকটিকে ছাপিয়ে যেতে পারে। স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছে অত্যন্ত সচেতনভাবে, এক্সিকিউশনও হবে সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই।
দেবের অনুরোধ— এই সব কথা জানাতে দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারস নিজেই একটি প্রেস কনফারেন্স ডাকুক এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সামনে আনুক। আপাতত এর বেশি কিছু বলার নেই।
সবশেষে দেব যে কথা বললেন, তা যেন শুধু একটি ছবির নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রির জন্যই একটি বার্তা। আজকের পর থেকে তিনি চান, কেউ যেন আর কোনও অভিনেতা, পরিচালক বা প্রযোজককে ‘দেশু’ নিয়ে প্রশ্ন না করেন। কারণ এটা অপমানজনক। নিজের সহকর্মীদের এমন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের মুখে পড়তে দেখে তাঁর ব্যক্তিগতভাবেও খারাপ লাগে।
ভিউ বা টিআরপির জন্য একটি নাম ব্যবহার করে অন্যদের অস্বস্তিতে ফেলা নৈতিকভাবে সঠিক নয় বলেই মনে করেন তিনি। ‘দেশু’ নিয়ে উত্তেজনা থাকুক, উন্মাদনা থাকুক— কিন্তু তার উত্তর আসুক সঠিক জায়গা থেকে, সঠিক সময়ে। আপাতত নীরবতাই এই ছবির সবচেয়ে বড় প্রচার। আর সেই নীরবতার মধ্যেই জমে উঠছে প্রত্যাশার আগুন— যা ২০২৬-এর দুর্গাপুজোয় বড়পর্দায় বিস্ফোরণের অপেক্ষায়।