জানুয়ারির ৩ তারিখ যেন আছড়ে পড়ল ‘ধূমকেতু’। ঠিক তখনই, যখন চারপাশে দেবের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, লালবাজার অভিযানে তাঁর না-থাকাকে ঘিরে প্রশ্ন আর সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে, সেই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝলসে উঠল একটাই ঘোষণা—দেব ও শুভশ্রী আবার একসঙ্গে আসছেন।

শেষ আপডেট: 5 January 2026 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জানুয়ারির ৩ তারিখ যেন আছড়ে পড়ল ‘ধূমকেতু’। ঠিক তখনই, যখন চারপাশে দেবের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, লালবাজার অভিযানে তাঁর না-থাকাকে ঘিরে প্রশ্ন আর সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে, সেই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝলসে উঠল একটাই ঘোষণা—দেব ও শুভশ্রী (Dev and subhashree ganguly)আবার একসঙ্গে আসছেন। কোনও ব্যাখ্যার বাড়াবাড়ি নেই, কোনও আবেগী ভূমিকাও নয়। শুধু এক লাইন, আর তাতেই বদলে গেল সমস্ত আলোচনার অভিমুখ। দুর্গাপুজোয় বড় পর্দায় ফিরছে ‘দেশু’।
এই ফেরা সহজ ছিল না। অনেক দিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল, কিন্তু বাস্তবের মাটিতে পা দেবে—আর শুভশ্রী যে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেবেন—এই বিশ্বাসটা যেন কোথাও অসম্পূর্ণই থেকে গিয়েছিল। তাই খবরটা প্রকাশ্যে আসতেই আবেগে ভেসে যায় অনুরাগীরা। মুখে ফুটে উঠল দীর্ঘদিন পর স্বস্তির হাসি। যেন হারিয়ে যাওয়া কোনও প্রিয় চরিত্র, বহুদিন পর আবার জীবনে ফিরে এল—নাম তার ‘দেশু’।
কিন্তু এই ঘোষণার সঙ্গেই শুরু হল নতুন কৌতূহল। তাহলে কি এক বছরের মধ্যেই দেব চার চারটি ছবি নিয়ে হাজির হতে চলেছেন? ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’, ‘টনিক-২’, ‘খাদান-২’-এর পরেই কি দেব-শুভশ্রীর সপ্তম ছবি? প্রশ্নে প্রশ্নে ভরে উঠল সোশ্যাল মিডিয়া। সেই বিভ্রান্তির অবসান ঘটালেন দেব নিজেই। পরের পোস্টে ঠান্ডা মাথায় জানিয়ে দিলেন—‘টনিক-২’ মুক্তি পাবে ২০২৬-এর ক্রিসমাসে, আর ‘খাদান-২’ আসবে ২০২৭ সালে। আবেগ নয়, হিসেব; হঠাৎ নয়, পরিকল্পনা—সবটাই যেন সুস্পষ্ট ছকে বাঁধা।
এরপর এসে পড়ল অন্য এক প্রশ্ন—নতুন ছবির পরিচালকের আসনে কে বসছেন? খবর বলছে, নামটা নতুন নয়। দেব অভিনীত ‘খাদান ২’-এর পরিচালক সুজিত রিনো দত্তই নাকি এবার হাত ধরছেন একেবারে খাঁটি প্রেমের গল্পের। ছবির নাম এখনও ঠিক হয়নি, কিন্তু তাকে ঘিরে চর্চা থেমে নেই। প্রযোজনার ক্ষেত্রেও বদল আসছে। দেব এবার একা দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। দেব ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেডের বাইরেও পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু সেখান থেকে এখনও সবুজ সংকেত মেলেনি। এমনকি দেবের ‘ব্লকবাস্টার’ ছবির প্রযোজকের সঙ্গেও আলোচনা হলেও, সেখানেও সম্মতির দরজা খোলেনি।
তবু দেব থেমে থাকছেন না। একের পর এক প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এর মাঝেই শোনা যাচ্ছে, স্ক্রিনিং কমিটির সঙ্গে দেবের দূরত্ব বেড়েছে। নানা বিষয়ে মতবিরোধের জেরে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে আর আলোচনার টেবিলে দেখা যায়নি। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলেছে লাগাতার আক্রমণ, কটূক্তি, এমনকি হুমকিও। সেই প্রেক্ষিতেই দিন দুয়েক আগে ইঙ্গিত মিলেছিল—শুক্রবার লালবাজারের দিকে পা বাড়াতে পারে টলিউড। দুপুর গড়াতেই সত্যিই একে-একে হাজির হলেন ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখরা। কোনও আনুষ্ঠানিক ডাক নয়, তবু এক অদৃশ্য ঐক্যে বাঁধা প্রতিবাদ। কিন্তু সেখানেও দেব অনুপস্থিত ছিলেন।
অনেকেরই ধারণা, এই অনুপস্থিতির প্রভাবেই তিনি ধীরে ধীরে প্রযোজকদের নজর থেকেও সরে যাচ্ছেন। একের পর এক বিতর্কের মাঝেই দেব নিজে ‘দেশু’কে সামনে রেখে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন ঠিকই, কিন্তু এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত তাঁকে কোন দিকে নিয়ে যাবে—আর ‘দেশু’র প্রত্যাবর্তন আদৌ বাস্তবে রূপ নেবে, না কি তা কেবল ঘোষণাতেই আটকে থাকবে, কিংবা কোনও প্রতিষ্ঠিত প্রযোজক আদৌ মেগাস্টারের পাশে দাঁড়াবেন কি না—তার উত্তর সময়ই দেবে।