নতুন বছরের প্রথম সকালেই যেন বাজি ফাটিয়েছিলেন দেব। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে ২০২৬-এর ১ জানুয়ারি শুরু হতেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন—এই বছরটা তাঁর কেরিয়ারে শুধু ব্যস্ত নয়, ঐতিহাসিকও হতে চলেছে।

দেব-শুভশ্রী।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের প্রথম সকালেই যেন বাজি ফাটিয়েছিলেন দেব। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে ২০২৬-এর ১ জানুয়ারি শুরু হতেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন—এই বছরটা তাঁর কেরিয়ারে শুধু ব্যস্ত নয়, ঐতিহাসিকও হতে চলেছে। একসঙ্গে তিনটি ছবির ঘোষণা—‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’, ‘টনিক-২’ এবং ‘খাদান-২’। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়া ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’র পোস্টারে দেব নিজেই লিখেছিলেন, “রাস্তার ধুলোয় লেখা এক নীরব বিপ্লব। সাক্ষী থাকুন বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদার হিরোইক গল্পের।” সেই সঙ্গেই জানিয়ে দেন, এই ছবিটিই তাঁর অভিনীত ৫০তম ছবি—একটা মাইলফলক, যা বড় পর্দায় আসবে ১৪ আগস্ট।
পরিকল্পনা তখন স্পষ্ট—পুজোয় মুক্তি পাবে ‘খাদান-২’, আর ২০২৬-এই দর্শক পাবে ‘টনিক-২’। সব কিছু যেন সাজানো-গোছানো ছকের মধ্যেই এগোচ্ছিল। কিন্তু টলিপাড়া তো আর অঙ্কের খাতা নয়, এখানে চমক আসে আচমকাই। ঠিক এমন সময়ে গতকাল অর্থাৎ ২র জানুয়ারি, এল আর এক বিস্ফোরক খবর—ফিরছে ‘দেশু’।
বহুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, কিন্তু বিশ্বাসের মাটিতে পা রাখেনি। আর তারপরই, যেন বজ্রপাতের মতো, ঘোষণা—আগামী দুর্গাপুজোয় আবার একসঙ্গে বড় পর্দায় দেব ও শুভশ্রী। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই আবেগে ভাসল অনুরাগীরা। স্মৃতির অ্যালবাম খুলে গেল—‘দেশু’ যেন ফিরে এল নতুন রূপে, নতুন সময়ে।
এই আনন্দের ঢেউয়ের মধ্যেই শুরু হল নতুন জল্পনা। তাহলে কি এক বছরে চারটি ছবি? দেব কি সত্যিই পরপর এতগুলো মুক্তি দিতে চলেছেন? সোশ্যাল মিডিয়া ভরে উঠল প্রশ্নে। সেই ধোঁয়াশা অবশ্য নিজেই কাটালেন দেব। এক পোস্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—‘টনিক-২’ আসবে ২০২৬-এর ক্রিসমাসে, আর ‘খাদান-২’ দর্শকের সামনে হাজির হবে ২০২৭ সালে।
ঠিক এমন সময়েই গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার হেনস্থা, অপমান, ব্যক্তিগত আক্রমণ আর হুমকির বিরুদ্ধে সরব হতে একজোট হল টলিউড। লালবাজারে হাজির হন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পার প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁদের সঙ্গে দেখা গেল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, আবীর চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রানা সরকার, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়—টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ।
লালবাজারে ঢোকার আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বরূপ বিশ্বাসের কণ্ঠে ধরা পড়ল ক্ষোভ। তিনি জানান, শিল্পী ও কলাকুশলীদের বিরুদ্ধে যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার কুৎসা, হুমকি আর ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে, তারই প্রতিবাদে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া। পুলিশের উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থার কথাও জানালেন তিনি—আশা, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এই ভিড়ের মধ্যেই একটা অনুপস্থিতি চোখে পড়ল সবার—দেব নেই। প্রশ্ন উঠল স্বাভাবিকভাবেই। তিনিও তো টলিউডের অংশ, তাহলে কেন এলেন না? এই প্রশ্ন করা হলে ফেডারেশন সভাপতি জানালেন, অনেকেই আসতে পারেননি, নানা ব্যস্ততা রয়েছে।
কিন্তু সেই ব্যাখ্যা কি সকলের মন ভরাল? কারণ ঠিক আগের দিন, বৃহস্পতিবার, ‘প্রজাপতি ২’-এর হল ভিজিটে দেব নিজেই সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন—লালবাজার অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। জানা গিয়েছে, দেব তখনও কলকাতাতেই ছিলেন। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে তৈরি হল নতুন রহস্য। সত্যিই কি কাজের চাপ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও কারণ—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে টলিপাড়ার অলিগলিতে।
একদিকে দেবের ছবির ঘোষণার আলো, আবেগে ভেজা ‘দেশু’-র প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে শিল্পীদের প্রতিবাদের দৃশ্য আর এক অনুপস্থিত তারকার নীরবতা—সব মিলিয়ে টলিপাড়া এই মুহূর্তে যেন এক টানটান সিনেমার চিত্রনাট্য। যার পরের দৃশ্য কী, তা জানার অপেক্ষায় দর্শক, অনুরাগী আর গোটা ইন্ডাস্ট্রি।