কলকাতায় বাংলা ছবির অভাব এবং দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার জেরে বন্ধ হয়ে গেল শহরের দুই পরিচিত প্রেক্ষাগৃহ।

শেষ আপডেট: 26 February 2026 12:33
কলকাতায় বাংলা ছবির অভাব এবং দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার জেরে বন্ধ হয়ে গেল শহরের দুই পরিচিত প্রেক্ষাগৃহ। উত্তর কলকাতার বিনোদিনী থিয়েটার মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া সিনেমা কর্তৃপক্ষও। বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে এই হলটিও। হলমালিকদের বক্তব্য, নতুন বাংলা ছবি না থাকা এবং চলতি ছবিগুলিতে দর্শক না আসার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। (Bengali Film, bangla films, priya cinema hall, star theatre, noti binodini)
ফেব্রুয়ারি মাসে বড় কোনও বাংলা ছবি মুক্তি পায়নি। বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে চলছিল মন মানে না এবং খাঁচা। কিন্তু এই দুই ছবি দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে শো চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিনোদিনী থিয়েটারের মালিক, প্রাক্তন স্টার থিয়েটার-এর সঙ্গে যুক্ত জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ‘মন মানে না’ চালিয়েছিলাম, কিন্তু দর্শক আসেনি। ‘প্রজাপতি ২’ও চলছিল। কিন্তু দর্শক কমে গেছে। আমরা সিনেমাহল চালাই, দাতব্য চিকিৎসালয় নয়। গত সপ্তাহে যে দুটি হিন্দি ছবি মুক্তি পেয়েছিল, সেগুলিও আমরা পাইনি, কারণ সীমিত স্ক্রিনিং ছিল। আমি চাই বাংলা ছবিই চলুক, কিন্তু তার জন্য দর্শকের চাহিদা থাকতে হবে। নতুন ছবি মুক্তি পেলে আবার হল খুলব।”
প্রিয়া সিনেমার মালিক অরিজিৎ দত্ত বলেন, “বুধবার থেকে হল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে হল খোলা রাখলে লোকসানই বাড়ছে। সারাদিনে টিকিট বিক্রি করে ১০ হাজার টাকাও উঠছে না, অথচ প্রতিদিন বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন এবং এসি চালানোর খরচ মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ‘মন মানে না’ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, দর্শক আসেননি। হিন্দি ছবির অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়, ‘রোমিও’ও দর্শক টানতে পারেনি। ‘বধ ২’ আমরা চালাইনি। এই মুহূর্তে নতুন কোনও ছবি মুক্তি পাচ্ছে না। এই আয়ের উপর নির্ভর করে হল চালিয়ে যাওয়া মানে আরও বড় লোকসানের মুখে পড়া। আমার আশঙ্কা, আগামী দিনে আরও অনেক প্রেক্ষাগৃহ একই কারণে বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে।”
এই পরিস্থিতির পিছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন হলমালিকরা। বর্তমানে পরীক্ষার মরশুম চলছে এবং রাজ্যজুড়ে ভোটের আবহাওয়াও রয়েছে। এই সময় বড় বাজেটের ছবি মুক্তির ঝুঁকি নিতে চাননি প্রযোজক ও পরিচালকরা। ফলে নতুন বাংলা ছবি মুক্তি না পাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহে দর্শক কমেছে। অন্যদিকে, বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইম দেওয়ার নীতির কারণে হিন্দি ছবির প্রযোজক এবং পরিবেশকরাও এই সময়ে সব হলকে ছবি দেননি। এতে সমস্যায় পড়েছে সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলি।
তবে সব হল একই পরিস্থিতির মুখে পড়েনি। অজন্তা সিনেমা-র মালিক শতদীপ সাহা বলেন, “‘প্রজাপতি ২’, অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস এবং ‘রোমিও’ চলছে। দর্শক একেবারে নেই, তা নয়।”
অন্যদিকে, নবীনা সিনেমাহল-এর মালিক নবীন চৌখানি জানান, তাঁদের হল বর্তমানে সংস্কারের জন্য বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “রমজানের সময় সাধারণত বড় ছবি মুক্তি পায় না। এই পরিস্থিতির জন্য শুধু বাংলা ছবিকে দায়ী করা ঠিক নয়। হিন্দি ছবিও চলছে না। প্রাইম টাইম নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার অনেকটাই ভুল ধারণা।”
নতুন ছবি না আসা পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে করছেন হলমালিকরা। প্রেক্ষাগৃহ চালিয়ে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হওয়ায় আপাতত বন্ধ রাখাই তাঁদের কাছে একমাত্র বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
আগামী শুক্রবার নতুন বাংলা বা হিন্দি ছবি মুক্তি পেলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা। কিন্তু এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দর্শক ও নতুন ছবির অভাবে সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলি এখন বড় সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে। হল খোলা থাকবে কি বন্ধ থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করছে একটাই বিষয়ের উপর—নতুন ছবি এবং দর্শকের ফিরে আসা।