বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক বাস্তব লোকেশনে কোনও ছবির শুটিং হয়েছিল কি না, তার নির্ভুল পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন।

শেষ আপডেট: 25 February 2026 12:34
বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক বাস্তব লোকেশনে কোনও ছবির শুটিং হয়েছিল কি না, তার নির্ভুল পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। কিন্তু ‘বহুরূপী’ ফ্রাঞ্চাইজি সেই ধারণাকেই বদলে দিয়েছিল ২০২৪ সালে। নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবির ক্যামেরা ঘুরেছিল বাংলার একের পর এক বাস্তব প্রান্তরে—কলকাতা থেকে বোলপুর, টাকি, বরানগর, বাঁটলা, ব্যারাকপুর, বেলডাঙা, বেথুয়াডহরী, এমনকি আজিমগঞ্জ এবং লাভপুর পর্যন্ত। সব মিলিয়ে প্রায় ৮৪টি ভিন্ন জায়গা হয়ে উঠেছিল গল্পের শরীর।
কিন্তু এবার যা শোনা যাচ্ছে, তা যেন আরও অবিশ্বাস্য। ‘বহুরূপী’-র পরবর্তী অধ্যায় ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-তে লোকেশনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯৬! বাংলা সিনেমায় এই প্রথম কোনও ছবির শুটিং ছড়িয়ে পড়তে চলেছে মোট ছিয়ানব্বইটি বাস্তব জায়গায়।
‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’র ইঙ্গিত মিলেছিল জানুয়ারির শুরুতেই। আর আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানা গেল, ছবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে যীশু সেনগুপ্তকে। এই একটি নামই যেন মুহূর্তে ছবিটিকে ঘিরে প্রত্যাশার মাত্রা বদলে দিয়েছে।
‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ প্রস্তুতি চলছে ধীর ছন্দে, পরিমিত যত্নে। নন্দিতা ও শিবপ্রসাদ জানেন, আগের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করলেই হবে না। গল্পকে এবার আরও বিস্তৃত করতে হবে, চরিত্রদের ভেতরের অন্ধকার ও আলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে হবে। এই মুহূর্তে চিত্রনাট্য নিয়ে চলছে নিবিড় কাজ। সবকিছু প্রস্তুত হলে তবেই শুরু হবে প্রি-প্রোডাকশন, আর ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে সোনার ডাকাতির রহস্যময় প্লট। (Bohurupi-the golden daku, Shiboprosad Mukherjee, Koushani Mukherjee, jisshu sengupta)
উইন্ডোজ-এর রজতজয়ন্তীর বছরে দাঁড়িয়ে নির্মাতারা অকপটে স্বীকার করছেন, ‘বহুরূপী’ তাঁদের কাছে শুধু একটি হিট ছবি নয়, এটি তাঁদের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি। দর্শকের দীর্ঘদিনের ভালবাসা ও বিশ্বাসই তাঁদের আবার ফিরিয়ে আনছে এই জগতে।
প্রথম ছবিতে আবীর চট্টোপাধ্যায়, ঋতাভরী চক্রবর্তী, কৌশানী মুখোপাধ্যায় এবং শিবপ্রসাদের অভিনয় যে ছাপ ফেলেছিল, তা আজও অমলিন। সিকুয়েলেও ফিরছেন শিবপ্রসাদ ও কৌশানী। তাঁদের জনপ্রিয় জুটিকে আবার বড় পর্দায় দেখার সম্ভাবনাই ইতিমধ্যে দর্শকের উত্তেজনাকে উস্কে দিয়েছে।
তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সবচেয়ে বড় চমক—যীশুর প্রত্যাবর্তন। পোস্ত-র পর প্রায় ন’ বছর পর তিনি আবার নন্দিতা-শিবপ্রসাদের পরিচালনায়, উইন্ডোজের ব্যানারে। এই নতুন গল্পে তিনি হাজির হবেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে—এক রহস্যময় চরিত্রে, যার চারপাশে ঘনীভূত হচ্ছে একের পর এক ডাকাতি আর সোনার সন্ধানের কাহিনি।
গল্পের পরিচিত মুখ বিক্রম প্রামাণিক ও ঝিমলিও ফিরছে আগের পরিচিত ছায়াতে। তবে এবার গল্পের পরিসর অনেক বড়। এর শিকড় ছড়িয়ে থাকবে বাংলার মাটির গভীরে। আশ্চর্যের বিষয়, এইবার প্রায় অনুপস্থিত থাকবে কলকাতা। বরং শুটিং হবে মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম-সহ রাজ্যের বহু অজানা প্রান্তে। এমনকি বহুরূপীদের গ্রামেও পৌঁছবে ক্যামেরা। লাভপুরের বিষয়পুরে ননীচোরাদাস বাউল-এর গ্রামেও আবার শুটিং হবে, তিনি নিজেও এই যাত্রার অংশ হয়ে থাকছেন।
প্রথম ছবির অন্যতম আকর্ষণ ছিল মেকআপ ও প্রস্থেটিক্সের সূক্ষ্ম কাজ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও দায়িত্বে রয়েছেন পাপিয়া চন্দ। সিনেমাটোগ্রাফিতে অনিমেষ ঘড়ুই, সম্পাদনায় মলয় লাহা। শিল্প নির্দেশনায় মৃদুল বৈদ্য ও শাশ্বতী কর্মকার। নাচের পরিকল্পনায় মঙ্গেশ খেড়েকর।
সংগীতেও ফিরছে সেই পরিচিত দল—ননীচোরাদাস বাউল, বনি চক্রবর্তী, অনুপম রায়, শিলাজিৎ মজুমদার এবং অর্ণব দত্ত। সৃজনশীল প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন জিনিয়া সেন, সহ-প্রযোজক সঞ্জয় আগরওয়াল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিল জুড়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে চলবে শুটিং। লক্ষ্য স্পষ্ট—এ বছরের পুজোয় বড় পর্দায় হাজির হওয়া। ৮৪ থেকে ৯৬—সংখ্যাটা শুধু বাড়েনি, যেন প্রসারিত হয়েছে ‘বহুরূপী’র মানচিত্র। বাংলার অজস্র মাটির পথ, গ্রাম, ইতিহাস আর মানুষের গল্প মিলে তৈরি হচ্ছে এক নতুন রহস্য।