পুজো মানেই, অপেক্ষা আর নতুন গল্পের খোঁজ। ঠিক সেই সময়েই টলিপাড়ার আকাশে ফিরে এল এক চেনা নাম, যে নামটা কেবল একটি ছবির নয়—একটা স্মৃতির।

শেষ আপডেট: 5 February 2026 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো মানেই, অপেক্ষা আর নতুন গল্পের খোঁজ। ঠিক সেই সময়েই টলিপাড়ার আকাশে ফিরে এল এক চেনা নাম, যে নামটা কেবল একটি ছবির নয়—একটা স্মৃতির। ‘বহুরূপী’। বহুদিন ধরে দর্শকের মুখে মুখে ঘোরা সেই গল্প এবার আবার ফিরছে, আরও বড় হয়ে, আরও গভীর হয়ে। উইন্ডোজ প্রোডাকশন্সের পঁচিশ বছরের যাত্রাপথে এই প্রত্যাবর্তন শুধু নতুন ছবি ঘোষণাই নয়, বরং এক আবেগঘন পুনর্মিলন।
সময়টা যেন ঠিকই বেছে নেওয়া। জানুয়ারির শুরুতে প্রথম ইঙ্গিত মিলেছিল ‘দ্য ওয়াল’-এই। আর এবার এল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা—‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ (Bohurupi-the golden daku)-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে যীশু সেনগুপ্তকে। এই খবর মুহূর্তে বদলে দিয়েছে ছবিটিকে ঘিরে প্রত্যাশার ছবি। কারণ ‘বহুরূপী’ কোনও দিনই শুধু বক্স অফিসের হিসেব ছিল না। মুক্তির পর হলভর্তি উচ্ছ্বাস, গানের সুরে গুনগুন, চরিত্রদের সঙ্গে দর্শকের আত্মীয়তা—সব মিলিয়ে ছবিটা হয়ে উঠেছিল বহু মানুষের নিজের গল্পের অংশ। তাই বছর পেরোলেও তার পরের অধ্যায়ের দাবি থামেনি কখনও।
এই নতুন ছবির প্রস্তুতি চলছে ধীরে, যত্ন নিয়ে। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কোনও তাড়াহুড়োয় নেই। তাঁরা জানেন, আগের সাফল্যের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে না। গল্পকে এবার আরও বিস্তৃত করতে হবে, চরিত্রদের ভেতরের স্তর খুলে ধরতে হবে, রহস্য আর আবেগকে নিয়ে যেতে হবে আরও গভীরে। চিত্রনাট্য নিয়ে এই মুহূর্তে চলছে নিবিড় কাজ। সব ঠিকঠাক হলে তবেই শুরু হবে প্রি-প্রোডাকশন, আর তখন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে সোনার ডাকাতির এই নতুন দুনিয়া।

উইন্ডোজের রজতজয়ন্তীর বছরে দাঁড়িয়ে নন্দিতা-শিবপ্রসাদ অকপটে স্বীকার করছেন, ‘বহুরূপী’ তাঁদের কাছে শুধু একটি হিট ছবি নয়, এ তাঁদের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি। দর্শকের দীর্ঘদিনের আগ্রহ আর বিশ্বাসই এই ফিরে আসার সবচেয়ে বড় কারণ। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতেই তাঁরা চাইছেন আরও পরিণত ভাবনা, আরও সাহসী গল্প।
প্রথম ছবিতে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, আবীর চট্টোপাধ্যায়, ঋতাভরী চক্রবর্তী ও কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় যে ছাপ ফেলেছিল, তা আজও মলিন হয়নি। সিকুয়েলেও ফিরছেন শিবপ্রসাদ ও কৌশানী, (Shiboprosad Mukherjee, Koushani Mukherjee, jishu sengupta )তাঁদের জনপ্রিয় জুটিকে আবার বড় পর্দায় দেখার খবরে পুজোর আগেই দর্শকের উত্তেজনা তুঙ্গে। তার উপর যোগ হল সবচেয়ে বড় চমক—যীশু সেনগুপ্ত। ‘পোস্ত’-এর পর প্রায় ন’ বছর কেটে গেছে। আবারও নন্দিতা-শিবপ্রসাদের পরিচালনায়, উইন্ডোজের ব্যানারে তাঁর প্রত্যাবর্তন ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় তুলে দিল।
এই নতুন গল্পেও বিক্রম প্রামাণিক আর ঝিমলি থাকছেন আগের পরিচিত রূপেই। তবে যীশুকে দেখা যাবে একেবারে নতুন অবতারে, এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে, যার কেন্দ্রে রয়েছে বারবার ঘটে যাওয়া ডাকাতি আর সোনার সন্ধান। পরিচালক জানাচ্ছেন, এই ছবির পরিসর আগের চেয়েও অনেক বড়। গল্পের শিকড় ছড়িয়ে থাকবে বাংলার মাটিতে। কলকাতা এখানে প্রায় অনুপস্থিত। শুটিং হবে মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে। বহুরূপীদের গ্রামেও পৌঁছবে ক্যামেরা। লাভপুরের বিষয়পুরে ননীচোরাদাস বাউলের গ্রামেও হবে শুটিং, যিনি আগের ছবির মতো এবারও থাকছেন এই যাত্রায়।
‘বহুরূপী’-র অন্যতম শক্তি ছিল মেকআপ ও প্রস্থেটিক্সের কাজ। সিকুয়েলেও সেই দিকটিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে আবারও মেকআপ শিল্পী পাপিয়া চন্দ। সিনেমাটোগ্রাফিতে অনিমেষ ঘড়ুই, সম্পাদনায় মলয় লাহা। শিল্প নির্দেশনায় মৃদুল বৈদ্য ও শাশ্বতী কর্মকার। নাচের দায়িত্বে মঙ্গেশ খেড়েকর। সংগীতেও ফিরছে পুরনো টিম—ননিচোরা দাস বাউল, বনি চক্রবর্তী, অনুপম রায়, শিলাজিৎ মজুমদার ও অর্ণব দত্ত। সৃজনশীল প্রযোজক জিনিয়া সেন, সহ-প্রযোজক সঞ্জয় আগরওয়াল। আগামী মার্চ ও এপ্রিল জুড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলবে শুটিং। লক্ষ্য একটাই—এ বছর পুজোয় দর্শকের সামনে হাজির হওয়া।