প্রাচীন বাংলার আবহে মোড়া জনপ্রিয় মেগাসিরিয়াল ‘খনার কাহিনি’-র গল্প এবার ঘুরল এক নতুন মোড়ে।

শেষ আপডেট: 29 November 2025 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাচীন বাংলার আবহে মোড়া জনপ্রিয় মেগাসিরিয়াল ‘খনার কাহিনি’-র গল্প এবার ঘুরল এক নতুন মোড়ে। মিলন মণ্ডলের পরিচালনায় দেবুলির ছোট রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর রাজপরিবারের উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কাহিনি পেতে চলেছে এক ঝকঝকে, তরতাজা অধ্যায়।
টাইমস্কিপের পরে মূলত দুই মুখকে সামনে এনে চমক দিল চ্যানেল—ইশিকা রাউত এবার অভিনয় করছেন খনার ভূমিকায়, আর সোহম বসু রায় চৌধুরী হচ্ছেন মিহির। নতুন পর্যায়ে গল্পকে প্রাণবন্ত করতে নির্মাতারা যে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন, সেই আভাস মিলছে ঘোষণাতেই।
এই ধারাবাহিকের কেন্দ্রে রয়েছে রানি কলাবতির কন্যা খনা—যিনি জন্মেই পেয়েছেন সময়ের সীমা ছাড়ানো এক প্রখর মেধা। তাঁর প্রতিভা যেখানে প্রবল চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় তৎকালীন বিখ্যাত পণ্ডিত বরাহদেবের কাছে, সেখানে বরাহদেবের ছেলে মিহির—যে নিজেও একাধারে বিদ্বান—ধীরে ধীরে খনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এক গভীর বন্ধুত্বে। আর সেই বন্ধুত্বই কবে যেন হয়ে হয়ে ওঠে প্রেম, আর সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে খনার অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা আর বরাহদেবের প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানমর্যাদার তুমুল লড়াই।
টাইমস্কিপের পরবর্তী এই নতুন অধ্যায় নিয়ে উচ্ছ্বাস গোপন করেননি চ্যানেলের অন্যতম দায়িত্বশীল কর্তা প্রিয়াঙ্কা বারদিয়া। তাঁর কথায়, “টাইমস্কিপ আমাদের গল্প বলার পথকে আরও গভীর করেছে। বাংলার ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে সত্যতার সঙ্গে তুলে ধরাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। নতুন অভিনেতারা যুক্ত হওয়ায় কাহিনির আবেগ-স্তর আরও সমৃদ্ধ হবে বলে বিশ্বাস করি।”

নতুন খনা হয়ে পর্দায় আসতে চলেছেন ইশিকা রাউত। বলেন, “খনাকে ধারণ করা ভীষণ সম্মানের। তাঁর মেধা, অনুভব আর শক্তির বহুমাত্রিকতা তুলে ধরা বড় দায়িত্ব। আশা করি দর্শক তাঁর যাত্রার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত মনে করবেন।”
অন্যদিকে মিহির হিসেবে সোহমের উচ্ছ্বাসও কম নয়। তিনি বললেন, “মিহিরের পরিণত রূপ ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পেয়ে খুবই আনন্দিত। দীর্ঘ নালন্দা জীবনের পর দেবুলিতে ফিরে আসার মুহূর্তটা আবেগে ভরা। খনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো দর্শক কীভাবে নেবেন, তা জানার অপেক্ষায় আছি।”নতুন মুখ, নতুন অনুভূতি, নতুন উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক কাহিনি নতুন প্রাণ পাচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই নতুন খনা-মিহির যুগল কি দর্শকের মন আরও জোরে ছুঁতে পারবে? নাকি দেবুলির রাজ্যে অপেক্ষা করছে আরও কোনও অপ্রত্যাশিত কিছু?