এর আগে একই অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টেও একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়েছিল। দিল্লির উচ্চ আদালত (Delhi High Court) ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে জানায়, নির্মাতার পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের আশ্বাস রেকর্ডে নেওয়া হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষিতে মামলার আর কোনও বিষয় বিচারাধীন নেই।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কিত ছবির শিরোনাম। ঘুষখোর পণ্ডিত। যা ঘিরে জোর বিতর্কের মাঝেই সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিলেন পরিচালক নীরজ পাণ্ডে (Neeraj Pandey)। সেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, ছবির পূর্বের নাম ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’(Ghooskhor Pandat) সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনওভাবেই সেই শিরোনাম আর ব্যবহার করা হবে না।
হলফনামায় কী লেখা?
হলফনামায় তিনি দাবি করেন, তাঁর বা তাঁর প্রযোজনা সংস্থার কোনওভাবেই দেশের কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না। ছবিটি একটি কাল্পনিক পুলিশ-ড্রামা, যা একটি তদন্তকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। এতে কোনও জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায়কে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে দেখানো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিতর্কের শুরু কোথায়?
৩ ফেব্রুয়ারি টিজার প্রকাশের পর আপত্তি উঠতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হলফনামায় জানানো হয়েছে, জনমতের কথা বিবেচনা করে ৬ ফেব্রুয়ারি সমস্ত প্রচারমূলক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন শিরোনাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও তা আগের নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বা ইঙ্গিতপূর্ণ হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন নির্মাতা।
এর আগে একই অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টেও একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়েছিল। দিল্লির উচ্চ আদালত (Delhi High Court) ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে জানায়, নির্মাতার পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের আশ্বাস রেকর্ডে নেওয়া হয়েছে এবং সেই প্রেক্ষিতে মামলার আর কোনও বিষয় বিচারাধীন নেই।
তবে বিষয়টি পৌঁছয় দেশের শীর্ষ আদালতে। ১২ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে শীর্ষ আদালত (Supreme Court of India) ছবির নাম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতি বি.ভি. নাগরাথনা ও উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ মন্তব্য করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনও সম্প্রদায়কে হেয় করার লাইসেন্স নয়। আদালত ইঙ্গিত দেয়, শিরোনাম পরিবর্তন না হলে ছবিটি মুক্তির অনুমতি মিলবে না।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়, ছবির নাম ও কাহিনি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মর্যাদাহানিকর এবং জাতিগত স্টিরিওটাইপকে উস্কে দেওয়া। ‘পণ্ডিত’ শব্দের সঙ্গে ‘ঘুষখোর’ শব্দ জুড়ে দেওয়াকে মানহানিকর বলে দাবি করা হয়।
তবে সেই নাম বর্তমানে যে আর রাখা হচ্ছে না, তা এক প্রকার স্পষ্ট। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট এই আশ্বাসের ভিত্তিতে মামলাটি একই শর্তে নিষ্পত্তি করে কি না।
প্রসঙ্গ ঘুষখোর পণ্ডিত
নেটফ্লিক্সে (Netflix) মুক্তির আগে বিতর্কে ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ (Ghooskhor Pandat)। ব্রাহ্মণ সমাজকে অপমান করা হয়েছে— এই অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে লখনউ (Lucknow) পুলিশের তরফে ছবির পরিচালক নীরজ পাণ্ডে (Neeraj Pandey), প্রযোজক এবং গোটা টিমের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটি হয়েছে হজরতগঞ্জ থানায় (Hazratganj Police Station)। পুলিশ জানিয়েছিল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)-এর নির্দেশ অনুযায়ী ধর্মীয় ও জাতিগত ভাবাবেগে আঘাত করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সূত্রেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita) ও আইটি অ্যাক্ট (IT Act)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল।
এই ছবিতে অভিনয় করেছেন মনোজ বাজপেয়ী (Manoj Bajpayee)। টিজার প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও ধর্মগুরুদের তরফে অভিযোগ ওঠে, ছবিটি ব্রাহ্মণ সমাজকে (Brahmin Community) ঘুষখোর ও নেতিবাচক রূপে তুলে ধরেছে। বিতর্কের মাঝেই নীরজ পাণ্ডে ইনস্টাগ্রাম (Instagram)-এ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ছবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক (Work of Fiction) এবং কোনও জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায়কে নির্দেশ করে না। তিনি বলেন, পণ্ডিত শব্দটি কেবল একটি কল্পিত চরিত্রের নাম, কোনও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নয়। তবুও বিতর্কের জেরে তখন সব প্রচার (Promotional Material) বন্ধ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই ছবির নাম বদল হতে চলেছে। এখন দেখার নতুন কোন শিরোনামে এই ছবি মুক্তি পায়।