নন্দন সিনেমার নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে যে ‘নন্দন’ লেখাটি রয়েছে সেই ক্যালিগ্রাফিটিও করেছিলেন তিনি।

গ্রাফিক্স -দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 2 September 2025 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির চিরকালের সংস্কৃতি পীঠ 'নন্দন' (Nandan Cinema)। এই শহরের আবেগ, নস্টালজিয়া, প্রেমের ঠেক, ছায়াছবির ঠিকানা হল 'নন্দন'। কলকাতা শহরের প্রথম মাল্টিপ্লেক্স তো বলাই যায় এই সিনেমাহলকে। আজ সেই নন্দন সিনেমাহলের জন্মদিন। ৪০ বছর (40 Years) পূর্ণ করল নন্দন।
১৯৮৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন হয় নন্দনের। এই সিনেমাহলের শিল্যানাস থেকে উদ্বোধন সময়টা বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদ্যোগে শুরু হয় নন্দন তৈরির কাজ। এই সিনেমাহল ছিল সত্যজিৎ রায়েরও স্বপ্ন।

নন্দন সিনেমার নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে যে ‘নন্দন’ লেখাটি রয়েছে সেই ক্যালিগ্রাফিটিও করেছিলেন তিনি।
১৯৮৫ সালের আজকের দিনে (২ সেপ্টেম্বর) নন্দন প্রেক্ষাগৃহের উদ্বোধন করেছিলেন সত্যজিৎ রায়, সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, মৃণাল সেন। চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চলচ্চিত্র-সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দ্যেশ্যেই এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম।

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন থাকলেও ঋত্বিক ঘটক ততদিনে প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু ঋত্বিককে ছাড়া কী সত্যজিৎ-মৃণাল সম্পূর্ণ হয়? তাই
নন্দন ১-এর পর্দায় প্রথম ছবি ভেসে উঠেছিল ঋত্বিক ঘটকের 'যুক্তি তক্কো আর গপ্পো'।
সত্যজিৎ জায়া বিজয়া রায় ও মৃণাল জায়া গীতা সেন দু'জনেই উপস্থিত ছিলেন এই উদ্বোধনে।

একে একে খুলে গেল নন্দন ১ এর পর নন্দন ২, ৩ সিনেমাহল। নন্দন ৪ খোলা হল সেমিনার ও আলোচনা সভার জন্য।
নন্দন ছিল ক্লাস ইন্টেলেকচুয়াল ক্ষেত্র। কখনও মূলধারার ছবি নন্দনে চলতে দেওয়া হয়নি। মনে করা হত সিনেমা হলের মান পড়ে যেতে পারে।
কিন্তু বর্তমান সরকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ঐ বিভাজন ভেঙে যায়। নন্দনকে সকলের তরে খুলে দেন মাননীয়া। ছবিতে কোনও বিভাজন আর রইল না।
কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে বিদেশী অভিনেতাদের সঙ্গে ভেসে উঠল উত্তম-সুচিত্রার মুখ।
আজ ৪০ বসন্তে নন্দন কিন্তু একই ভাবে বাংলার দর্শকের মনে টিকে আছে। সস্তায় ভাল ছবি দেখতে আঠেরো থেকে আশির আজও প্রথম পছন্দ 'নন্দন'। ৪০ পেরলেও নন্দন চিরন্তন, চিরহরিৎ।