মিস্টার বিন (Mr. Bean) খ্যাত রোয়ান অ্যাটকিনসন (Rowan Atkinson) একবার প্লেনের পাইলট অচেতন হলে নিজেই ককপিট সামলে বাঁচালেন পরিবারকে। পড়ুন অবিশ্বাস্য কাহিনি।

মিস্টার বিন যখন পাইলট!
শেষ আপডেট: 17 August 2025 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোয়ান অ্যাটকিনসন— যাঁকে গোটা বিশ্ব চেনে ‘মিস্টার বিন’ হিসেবে। নয়ের দশক থেকে দর্শকদের হাসির জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি, গড়েছেন অগণিত ভক্ত। কিন্তু অনেকেই জানেন না, বাস্তব জীবনে একদিন তিনিই হয়ে উঠেছিলেন নায়ক। অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে বিমানের পাইলট অচেতন হয়ে পড়ায়, অ্যাটকিনসন নিজেই নিয়ন্ত্রণে নেন ককপিট। অথচ, তিনি প্লেন চালানো জানতেনই না! তবু নিজের উপস্থিত বুদ্ধি আর অদম্য সাহসের জোরে বাঁচিয়েছেন নিজের পরিবারকে।
ঘটনাটি ঘটে কেনিয়ার আকাশে, পারিবারিক ভ্রমণের সময়। তাঁরা প্রাইভেট বিমানে যাচ্ছিলেন, হঠাৎই পাইলট অচেতন হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক নেমে আসে। পরিবারের সামনে দাঁড়ায় মৃত্যুভয়।
সেই মুহূর্তে অ্যাটকিনসন নিয়ন্ত্রণ নেন ককপিটে। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি চেষ্টা করতে থাকেন বিমানকে আকাশে ভাসিয়ে রাখার। তাঁর মনের মধ্যে তখন একটাই ভাবনা— “আমরা হয় ভেঙে পড়ব, নয়তো আমি কোনওভাবে শিখে নেব, কীভাবে আকাশে ভাসিয়ে রাখতে হয় বিমান।”
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী অচেতন পাইলটকে জাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে অ্যাটকিনসনের দৃঢ় মনোবল আর সময়োচিত উপস্থিত বুদ্ধির জন্য পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব হয়। কিছুক্ষণ পর পাইলট চেতনা ফিরে পান এবং বিমান নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়।
মঞ্চ আর পর্দায় রোয়ান অ্যাটকিনসনকে আমরা দেখেছি অসাধারণ কৌতুকাভিনেতা হিসেবে। Never Say Never Again, Love Actually, কিংবা Wonka—সবেতেই তাঁর অভিনয় প্রশংসিত। কিন্তু সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে Mr. Bean চরিত্রটি। তবুও বাস্তব জীবনের এই ঘটনাই প্রমাণ করে, তিনি শুধু কৌতুকাভিনেতাই নন, সাহসিকতার এক বিরল দৃষ্টান্তও বটে।
Johnny English সিরিজে রোয়ান অ্যাটকিনসনকে আমরা দেখেছি জেমস বন্ডের ধাঁচের এক মজার গুপ্তচর হিসেবে। পর্দায় কৌতুক আর অ্যাকশনের সংমিশ্রণে তিনি দর্শকদের মাতিয়েছেন। কিন্তু জীবনের এই বাস্তব অধ্যায়ে তিনি যে নায়কত্ব দেখিয়েছেন, তা যে কোনও চলচ্চিত্রের কাহিনিকেও হার মানায়।
অ্যাটকিনসনের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে আইকনিক চরিত্র নিঃসন্দেহে Mr. Bean। এই চরিত্র তাঁকে বিশ্বজুড়ে খ্যাত করেছে, এনে দিয়েছে ভালবাসা, জনপ্রিয়তা, এমনকি এক নতুন পরিচয়। কিন্তু এই চরিত্রের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে প্রবল চাপও।
একসময়ে রেডিও টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাটকিনসন জানান, Mr. Bean চরিত্রে অভিনয় করা তাঁকে অনেক সময় ভীষণ চাপের মধ্যে ফেলে। তিনি বলেন, “আমি আসলে এই চরিত্রে অভিনয় করে খুব একটা আনন্দ পাই না। দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণের দায় আমাকে চাপে ফেলে দেয়। ভীষণ ক্লান্তিকর মনে হয়। তাই আমি চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ চরিত্র থেকে মুক্তি পেতে।”
অ্যাটকিনসনকে সর্বশেষ নেটফ্লিক্স সিরিজ Man Vs Bee–তে দেখা গেছে, যা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সামনে রয়েছে Johnny English সিরিজের চতুর্থ কিস্তি। আর Mr. Bean–এর নতুন অ্যানিমেটেড মুভি দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে ভিন্ন মাত্রার বিনোদন নিয়ে।
তবে জীবনের ঝুঁকির মুহূর্তে হাসির জগৎ থেকে উঠে এসে প্রকৃত নায়কের মতো আচরণ করেছিলেন রোয়ান অ্যাটকিনসন। তাঁর কাহিনি প্রমাণ করে, পর্দার বাইরেও তিনি এক অসাধারণ চরিত্র। একজন পাইলটের আসনে বসে পরিবারকে বাঁচিয়ে দেওয়ার মতো কাজ শুধু সাহসী আর ব্যতিক্রমী মানুষরাই করতে পারেন।