শীত নামলেই কলকাতার বাতাসে যেমন উষ্ণ কফির গন্ধ ভাসে, তেমনই এবার ছুটির আমেজে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল এক পরিচিত নাম—মিতিন মাসি।

শেষ আপডেট: 17 December 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীত নামলেই কলকাতার বাতাসে যেমন উষ্ণ কফির গন্ধ ভাসে, তেমনই এবার ছুটির আমেজে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল এক পরিচিত নাম—মিতিন মাসি। রহস্য, মানসিক টানাপড়েন আর আধুনিক শহুরে অন্ধকারের গলিপথ ধরে বড়দিনের উপহার হিসেবে আসছে ‘মিতিন – একটি খুনির সন্ধানে’ (MITIN-Ekti Khunir Sandhaney
মঙ্গলবার শহরের হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে পড়ুয়াদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে এল ছবির ট্রেলার ও সঙ্গীত, যেন শীতের সন্ধ্যায় হঠাৎই জ্বলে উঠল রহস্যের আলো।
একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ট্রেলার লঞ্চের সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে হাজির ছিলেন ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সৃজনশীল দলের প্রায় সবাই—কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick), কনীণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভ্রজিৎ দত্ত, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, গৌরব চক্রবর্তী, রোশনি ভট্টাচার্য। সঙ্গীতের জগৎ থেকে উপস্থিত ছিলেন সুরকার জিৎ গাঙ্গুলী, শিল্পী চন্দনা চক্রবর্তী, আরমান খান ও অরুণিতা কাঞ্জিলাল। আর যাঁর মুনশিয়ানায় মিতিন মাসি ক্রমশ আধুনিক বাংলা গোয়েন্দা কাহিনির এক শক্তিশালী মুখ হয়ে উঠেছেন, সেই পরিচালক অরিন্দম শীলও ছিলেন অনুষ্ঠানে।
প্রয়াত সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের সমসাময়িক গল্প অবলম্বনে সুরিন্দর ফিল্মস-এর প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবি মিতিন মাসির তৃতীয় তদন্ত। আগের দুই ছবির টানটান থ্রিলের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আরও সূক্ষ্ম মানসিক দ্বন্দ্ব। গল্পের কেন্দ্রে এক নারীর জীবন—যার স্বামী আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায়। সেই নিখোঁজের সূত্র ধরে তদন্তে নামেন মিতিন। যত এগোয় অনুসন্ধান, ততই উন্মোচিত হয় এক অস্বস্তিকর অন্ধকার—যেখানে সম্পর্ক, স্মৃতি আর গোপন ক্ষত একে একে মুখোশ খুলে ফেলে।
ট্রেলারের পাশাপাশি সন্ধ্যাটি আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে সঙ্গীত পরিবেশনে। জিৎ গাঙ্গুলী ও চন্দনা চক্রবর্তীর কণ্ঠে “দিনে দিনে”, জিৎ গাঙ্গুলী ও অরুণিতা কাঞ্জিলালের গাওয়া “ঠাহের যাও”, আর জিৎ গাঙ্গুলীর সঙ্গে আরমান খান ও অরুণিতা কাঞ্জিলালের “সাইয়াঁ”—প্রতিটি গানেই মিলেছে উষ্ণ প্রশংসা। এই সুরগুলো শুধু আবহ নয়, ছবির আবেগের এক গভীর ইশারা।
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের সাহিত্যভুবন বরাবরই সমসাময়িক বাংলা আখ্যানকে এক আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। সেই স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে নির্মিত এই ছবি মিতিনের তদন্তে এনে দিয়েছে বাড়তি স্তর। একটি স্বামীর রহস্যময় অন্তর্ধান ধীরে ধীরে পরিণত হয় এমন এক মামলায়, যা গোয়েন্দাকে শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও নাড়িয়ে দেয়। পরিচালক অরিন্দম শীলের কথায়, এই ছবিতে মিতিন আরও আত্মদর্শী, আরও জটিল—যেখানে গল্প ধাপে ধাপে উন্মোচিত হয়, আর চরিত্ররাই নিজেদের অজান্তে সত্য প্রকাশ করে ফেলে।
ট্রেলার শুরু হতেই এক ফোনকল—কোয়েল মল্লিকের মিতিনকে ফোন করে কনীণিকা জানান তাঁর স্বামীর খুনের খবর। আপাতদৃষ্টিতে নিহত সাহেবের শত্রু খুব বেশি নয় বলেই মনে হয়। কিন্তু যতই দৃশ্য এগোয়, ততই বোঝা যায়, বাড়ির ভেতরের সম্পর্কগুলোই ছিল সবচেয়ে টানটান। কখনও স্ত্রীর উপর চিৎকার, কখনও বাবার পুরনো কেচ্ছা নিয়ে অশান্তি। সেই অতীত কি এমন কিছু ছিল, যার জন্য সাহেব ব্ল্যাকমেলের শিকার হচ্ছিল? তার উপর স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও বাইরের একাধিক সম্পর্ক—ফলে প্রশ্ন একটাই: খুনি কি বাইরের কেউ, নাকি ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আততায়ী?
মিতিন মাসি যখন তদন্তে নামেন, তখন লুকিয়ে নয়—খোলাখুলিই ছক কষা হয়। গৌরবের চরিত্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মিতিন এমনভাবে ছড়িয়ে দেন সূত্র, যেন খুনি নিজেই বাধ্য হয় সামনে এসে পড়তে। এই খেলায় বুদ্ধি আর সাহসই শেষ কথা। ‘স্বার্থপর’ ছবিতে শান্তশিষ্ট গৃহবধূর চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করার পর, এবার একেবারে অ্যাকশন মোডে বড়দিন মাতাতে প্রস্তুত কোয়েল মল্লিক। আগামী ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি।