রোমান্টিক গল্পের প্রতি আগ্রহ কমে এসেছে বহুদিন। এখন দর্শক চায় শরীরে হিম ধরানো থ্রিলার, গা ছমছমে রহস্য, আর এমন গল্প যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝা যায় না কার উপর ভরসা করা উচিত।

শেষ আপডেট: 12 December 2025 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোমান্টিক গল্পের প্রতি আগ্রহ কমে এসেছে বহুদিন। এখন দর্শক চায় শরীরে হিম ধরানো থ্রিলার, গা ছমছমে রহস্য, আর এমন গল্প যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝা যায় না কার উপর ভরসা করা উচিত।
সেই দর্শক প্রবণতাকেই পুঁজি করে পরিচালক সৌমাভ বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করেছেন এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার—‘অটোবি’। প্রযোজনায় রয়েছেন ডিকে ভারতী এবং সিদ্ধি বিনায়ক ক্রিয়েশন। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় মধুমিতা সরকার (madhumita sarcar) ছাড়াও দেখা যাবে ইনায়া চৌধুরী, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরিয়ান ভৌমিককে।
ছবির কেন্দ্রে দুই বোন—ডিম্পল ও তানিয়া। ছোটবেলায় চোখের সামনে বাবা-মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু তাঁদের জীবনকে চুরমার করে দেয়। মানসিক আঘাত এতটাই গভীর ছিল যে বড় হতে হতে ডিম্পল বোন তানিয়াকে ঘিরে ফেলে এক অদ্ভুত রক্ষণশীলতায়। সেই বদ্ধ বন্ধনই একসময় হয়ে ওঠে শ্বাসরুদ্ধকর।
শিক্ষকতা করেন তানিয়া, আর ডিম্পল সংসার পেতেছেন স্বামী সঞ্জীবের (আরিয়ান) সঙ্গে। কিন্তু শান্ত জীবনে হঠাৎ নেমে আসে অশনি। একদিন ঝাড়গ্রাম থানা থেকে ফোন পান ডিম্পল। জানানো হয়, তানিয়া কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ। আশঙ্কা আরও বাড়ে যখন উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তানিয়াকে শেষবার দেখা গেছে চামসুট্টি জঙ্গলের সামনে, যা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘আত্মহত্যার জায়গা’ হিসেবে। লোককথা বলে, এই জঙ্গলে ঢুকলে মৃত্যু নাকি আপনাকে ডাকতে শুরু করে।
বোনকে খুঁজতে বিন্দুমাত্র দেরি করেন না ডিম্পল। সেই পথে তাঁর দেখা হয় বাংলাদেশের এক সাংবাদিক শাকিবের সঙ্গে, যে নাকি জঙ্গলকে ঘিরে একটি প্রতিবেদন লিখছে। স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা সত্ত্বেও ডিম্পল থামেন না। সঙ্গে নেন শাকিব এবং শমিক নামের এক গাইডকে—রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত এই চরিত্রটি জানিয়ে দেয়, জঙ্গলে কোনও কম্পাস বা প্রযুক্তি কাজ করে না এবং সূর্যাস্ত নামলে শুরু হয় প্রকৃত বিপদ।
ধীরে ধীরে জঙ্গলের গভীরে পৌঁছতেই পরিবেশের স্বর বদলে যায়। ঘন অন্ধকারে অচেনা ফিসফিসানি, ছায়ার দ্রুত সরে যাওয়া, আর ডিম্পলের মাথার ভিতর হঠাৎ জেগে ওঠা অতীতের দুঃস্বপ্ন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অদ্ভুত। একসময় ডিম্পল সন্দেহ করতে শুরু করে শাকিবকেও। তানিয়ার গায়েব হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে কি সত্যিই কেউ আছে, নাকি জঙ্গলই মানুষের মনকে বিকল করে দেয়?
পরিচালক সৌমাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘অটোবি’ নিখোঁজ একজনকে খোঁজার গল্প হলেও এর আসল স্তর লুকিয়ে আছে মানুষের মনের ভেতরকার অন্ধকারে। তাঁর ভাষায়, যত্নের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অধিকারবোধ অনেক সময় শ্বাসরোধের কারণ হতে পারে। ছবিতে চামসুট্টি জঙ্গল কেবল পটভূমি নয়, বরং ডিম্পলের ভেঙে পড়া মানসিক অবস্থার প্রতীক। এমন একটি স্থানে দাঁড়িয়ে চরিত্ররা যেমন নিজের ভয়কে দেখছে, ঠিক তেমনই দর্শকও নিজের বাস্তবতার ধারণাকে প্রশ্ন করতে বাধ্য হবে।
প্রযোজক ডিকে ভারতী মনে করেন, এই স্ক্রিপ্টের শক্তি ঠিক এখানেই—চেনা জঙ্গলকে পরিণত করা হয়েছে এক দমবন্ধ খলনায়কে। অতিপ্রাকৃত গল্প আর নায়িকার মানসিক লড়াই মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এমন একটি নির্মাণ, যা দর্শকের কৌতূহল ধাপে ধাপে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
শেষমেশ ডিম্পল কি বোনকে খুঁজে পাবে? সত্যিই কি কেউ তানিয়াকে সরিয়ে দিয়েছে, নাকি জঙ্গলই সবকিছুর শেষ বিচারক? নাকি ডিম্পলের নিজের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এমন এক স্মৃতি, যা তাকে গ্রাস করতে চায়? ‘অটোবি’ মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত এর উত্তর অবশ্য মিলবে না।
অন্যদিকে, ২০১৯-এর বৈবাহিক বিচ্ছেদের পর বহুদিন ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রেখেছিলেন মধুমিতা সরকার। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার নতুন শুরু। ছোটবেলার বন্ধু ও পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দেবমাল্য চক্রবর্তীর সঙ্গেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দুই বছরের সম্পর্ক এবার আনুষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ বারুইপুর রাজবাড়িতে। ২৫ জানুয়ারি হবে রিসেপশন শোভাবাজার রাজবাড়িতে। বাঙালি ঐতিহ্য মেনে সেজে উঠবে দুই রাজবাড়িই। বিচ্ছেদ, বিরতি, নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়া—সবশেষে মধুমিতার জীবনে ফের আসছে স্থিরতা আর সুখের আলো।