দেশে ২০০–৩০০ কোটির ঝড়, বিদেশে বড় ধাক্কা! পাকিস্তান-বিরোধী প্রেক্ষাপটের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ছ’টি দেশে নিষিদ্ধ রণবীর–অক্ষয় অভিনীত ‘ধুরন্ধর’।

‘ধুরন্ধর’
শেষ আপডেট: 12 December 2025 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে এখন ‘ধুরন্ধর’ (Dhruvandar) উন্মাদনা তুঙ্গে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ভারতীয় বক্স অফিসে ২০০ কোটির গণ্ডি ছুঁয়েছে সিনেমাটি, আর আন্তর্জাতিক বাজারে আয় পৌঁছেছে প্রায় ৩০০ কোটিতে। দক্ষিণী ছবির দাপটের মধ্যেও বলিউডের পক্ষে এ এক বড় মাইলস্টোন। তাই স্বাভাবিকভাবেই হিন্দি সিনেদুনিয়ার তারকারা ছবির সাফল্যে প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।
কিন্তু এই ব্যপক জনপ্রিয়তার মাঝেও বড় ধাক্কা খেল ‘ধুরন্ধর’। মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশেই মুক্তির অনুমতি মিলল না ছবিটির।

৫ ডিসেম্বর, আইনি বিতর্কের মধ্যেই রণবীর সিং ও অক্ষয় খান্না অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পেয়েছিল ভারতের পাঁচ হাজার স্ক্রিনে। পাকিস্তানের প্রাচীন শহর লিয়ারি–ভিত্তিক গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য আর এক ভারতীয় গুপ্তচরের মিশন নিয়ে নির্মিত এই ছবি ইতিমধ্যেই দর্শকদের মন জয় করেছে। রণবীর সিং অভিনীত ‘হামজা আলি’র চরিত্র ও তাঁর ঝুঁকিপূর্ণ মিশন বিশ্বজুড়েই প্রশংসিত হচ্ছে।
কিন্তু পাকিস্তান-বিরোধী প্রেক্ষাপট থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ এই ছবিকে মুক্তি দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। বলিউড সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাহারিন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই ছয়টি দেশে ‘ধুরন্ধর’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ, তাঁদের মতে ছবির রাজনৈতিক বার্তা পাকিস্তান-বিরোধী।
মুক্তির আগেই এই আশঙ্কা ছিল। ট্রেলারে লিয়ারির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখানোর পর পাকিস্তানের একাংশ আপত্তি তোলে। এমনকি বালোচদের সঙ্গে ‘কুমির’-এর তুলনা টানায় বালোচিস্তানের ‘ভারতবন্ধু’ মহল থেকেও কটাক্ষ আসে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সামাজিক মাধ্যমে তুঙ্গে ছবির জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে অক্ষয় খান্নার বালোচিস্তান-এন্ট্রি সিকোয়েন্সে ব্যবহৃত ভাইরাল গান FA9LA। আরবি ভাষায় ধুন্ধুমার র্যাপ মিশিয়ে এই গানটি তৈরি করেছেন বাহারিনের র্যাপার হুসাম অসীম। পাকিস্তান ও বালোচিস্তানে এখন এই র্যাপই নতুন ট্রেন্ড।
ব্যঙ্গাত্মক ভাবে, ছবির বহু দৃশ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চমৎকার লোকেশন দেখানো হলেও সেখানকার দর্শকরাই ছবিটি বড়পর্দায় দেখতে পাচ্ছেন না।
এটাই অবশ্য প্রথম নয়। এর আগে ‘স্কাই ফোর্স’, ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’, ‘আর্টিকেল ৩৭০’, ‘টাইগার ৩’, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’, এমনকি হৃতিক রোশন–দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘ফাইটার’, সবকটাই মধ্যপ্রাচ্যে সেন্সর জটিলতার মুখে পড়েছিল। ‘ফাইটার’-এর ক্ষেত্রে কয়েকটি সংলাপ ও দৃশ্য বাদ দিয়ে নতুন সংস্করণ মুক্তি দিতে হয়।