সিনেমার প্রেক্ষাপটে উঠে আসে সুন্দরবনের মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম, নদীভাঙন, দারিদ্র আর শ্বাসরুদ্ধ রাজনৈতিক বাস্তবতা।

শেষ আপডেট: 12 December 2025 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে দিনের আলো যেমন দ্রুত হারিয়ে যায়, তেমনই চোরাস্রোতে অন্ধকার নেমে আসে মানুষের জীবনে। সেই অন্ধকারেই বেড়ে ওঠে ২৩ বছরের পলাশ—জঙ্গলের ভাষা, নদীর স্রোত আর বেঁচে থাকার লড়াই যার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড রাতারাতি ওলটপালট করে দেয় তার জীবন। শিকারি পলাশ হঠাৎ নিজেই পরিণত হয় অদৃশ্য শত্রুর টার্গেটে। রাষ্ট্রের চোখে সে ‘অপরাধী’, আর নিজের প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয় তার পালিয়ে বেড়ানো। এই পলাশের গল্পই রঞ্জন ঘোষের নতুন সিনেমা ‘অদম্য’, যা নিবেদন করছেন অপর্ণা সেন—প্রথমবারের মতো কোনও ছবির সঙ্গে তাঁর এমন সংযুক্তি।
সিনেমার প্রেক্ষাপটে উঠে আসে সুন্দরবনের মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম, নদীভাঙন, দারিদ্র আর শ্বাসরুদ্ধ রাজনৈতিক বাস্তবতা। দেখার সময় দর্শকের মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খেতেই পারে—পলাশ আসলে কে? সে কি চরমপন্থী? নাকি এক বিপ্লবী যুবক, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চেয়েছিল? ছবির ট্রিটমেন্টে রাতের কালো অন্ধকার যেন আরও কালচে হয়, আর সেই অন্ধকার ভেদ করেই পলাশ নিজের নতুন লড়াইয়ের ঘোষণা করে—কোন লড়াই, কার বিরুদ্ধে, তা জানা যাবে বড়পর্দায়।
পরিচালক রঞ্জন ঘোষ জানালেন, ‘অদম্য’ অপর্ণা সেনকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে তাতে নিবেদক হিসেবে নিজেকে যুক্ত করতে সহজেই রাজি হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “গল্পের উপস্থাপনায় যে তীব্রতা আছে, তা তাঁকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল।”
রঞ্জন আরও বলেন, “যখন গণতন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হয়, যখন সাধারণ মানুষের ন্যায়ের পথ ক্রমশ আটকে যেতে থাকে, তখনই উঠে আসে তরুণদের এক অন্য লড়াই। রাষ্ট্র তাঁদের তকমা দেয়—চরমপন্থী। কিন্তু তাঁরা আসলে দেশদ্রোহী নাকি দেশপ্রেমিক—তার বিচার করার দায়িত্ব জনগণের।”
ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন আরয়ুন ঘোষ, সেঁজুতি মুখোপাধ্যায়, শুভম দত্ত, সম্রাট বসু সহ অনেকে। প্রথম ছবিতেই এমন মুখ্য চরিত্র পেয়ে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি আরয়ুন। তাঁর কথায়, “এই চরিত্রের সঙ্গে আমার রক্ত, ঘাম আর যন্ত্রণা মিশে আছে। সারাজীবন মনে গেঁথে থাকবে।”
‘অদম্য’-র প্রযোজনা করছে অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশন, চ্যানেল বি এন্টারটেনমেন্ট এবং কাইনেটোস্কোপ ফিল্মস। গল্প ও পরিচালনায় রঞ্জন ঘোষ, সিনেমাটোগ্রাফিতে অর্কপ্রভ দাস, সাউন্ড ডিজাইনে আদিপ সিং , সঙ্গীতে অভিজিৎ কুণ্ডু, সম্পাদনায় কৌশিক রায়—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক তীক্ষ্ণ, রাজনৈতিক স্পন্দনে ভরা ছবি। দর্শকমনে তা কতটা তীব্রতা সৃষ্টি করতে পারে, সে উত্তর দেবে সময়।