Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রে

ফিরে দেখা ২০২৫: হাসি-কান্না, রহস্যের রোলার কোস্টার: সেরা ১০ বাংলা ছবি

২০২৫ সালটা যেন বাংলা ছবির ক্যালেন্ডারে লাল কালিতে ঘেরা। এই বছরটা শুধু মুক্তির তারিখ বা বক্স অফিসের হিসাব হয়ে থাকেনি—এ বছর বাংলা সিনেমা নিজের ভেতরের ভাষাটাকেই নতুন করে চিনে নিয়েছে।

ফিরে দেখা ২০২৫: হাসি-কান্না, রহস্যের রোলার কোস্টার: সেরা ১০ বাংলা ছবি

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 19 December 2025 17:26

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫ সালটা যেন বাংলা ছবির ক্যালেন্ডারে লাল কালিতে ঘেরা। এই বছরটা শুধু মুক্তির তারিখ বা বক্স অফিসের হিসাব হয়ে থাকেনি—এ বছর বাংলা সিনেমা নিজের ভেতরের ভাষাটাকেই নতুন করে চিনে নিয়েছে। চেনা ছকের বাইরে এসে গল্পেরা কথা বলেছে আলাদা স্বরে, আলাদা অনুভবে। কোথাও হাসির হালকা রোদ, কোথাও চোখ ভেজানো নীরবতা, কোথাও আবার রহস্যের অন্ধকার গলি ধরে হাঁটতে হাঁটতে বুকের ভিতর টানটান উত্তেজনা। পুরনো কলকাতার গন্ধ, নিত্যদিনের জীবনের চাপা কষ্ট, প্রেমের অপূর্ণতা আর লড়াইয়ের দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে এই বছর বাংলা পর্দা হয়ে উঠেছিল জীবন্ত, স্পন্দিত এক ক্যানভাস। যে ছবিগুলো দর্শকের মনে স্থায়ী দাগ কেটে গেল, তাদের গল্প একসুতোয় বাঁধলে পাওয়া যায় সময়েরই আত্মকথা। (best bengali films of 2025, top 10 bengali films)

এই আত্মকথার শুরুটা হয় ‘ধূমকেতু’ দিয়ে—এক এমন মানুষের জীবনকথা, যে যেন শেষ বয়সে এসে আবার একবার নিজের ফেলে আসা সময়ের দরজায় দাঁড়ায়। জমে থাকা প্রেম, ভুলে যাওয়া স্বপ্ন আর অনুচ্চারিত অনুশোচনা—সব একসাথে ফিরে আসে। দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলীর পরিণত, সংযত রসায়ন ছবিটাকে দেয় এক গভীর আবেগের পরত। প্রেম আর বিচ্ছেদ, বন্ধুত্ব আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এগোতে এগোতে গল্পটা বলে যায়—জীবন যতই শেষের দিকে গড়াক, ভালোবাসা আর স্মৃতির কাছে মানুষ কখনও পুরোপুরি পরাজিত হয় না। করুণতার ভেতরেও এখানে আছে ফিরে দাঁড়ানোর এক অদ্ভুত আলো।

এরপর সময়ের ঘড়ি পিছিয়ে যায় বহু বছর। ‘রঘু ডাকাত’ আমাদের নিয়ে যায় উনিশ শতকের এক রক্তাক্ত, অস্থির বাংলায়। এখানে এক ডাকাতের গল্প শুধু অপরাধের কাহিনি নয়; এটা অবদমন আর অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক মানুষের আত্মপরিচয়ের লড়াই। শোষণের আগুনে পুড়ে পুড়ে রঘু ধীরে ধীরে বদলে যায়—একক মানুষের অস্তিত্ব ছাপিয়ে সে হয়ে ওঠে জনতার প্রতীক। ইতিহাসের চিরকালীন প্রশ্নগুলো এই ছবিতে গল্পের শরীরে মিশে যায়, আর দর্শক বুঝতে পারে, নায়ক হওয়া মানে শুধু বীরত্ব নয়, মর্যাদার দাবি তোলাও।


হালকা মেজাজে কিন্তু বুদ্ধির তীক্ষ্ণতায় ভর করে আসে ‘দ্য একেন: বেনারসে বিভীষিকা’। একেন বাবু, বাপি আর প্রমথর বন্ধুত্বের রসায়ন এবার গড়িয়ে পড়ে বেনারসের ঘিঞ্জি গলি আর ঘাটের ধারে। রহস্য এখানে শুধু ধাঁধা নয়; হাসি-ঠাট্টা, টানটান অনুসন্ধান আর বন্ধুত্বের উষ্ণতায় গল্পটা ধীরে ধীরে খুলে যায়। পাথরের শহরের আধ্যাত্মিক আবছায়া যেন রহস্যের সঙ্গে মিশে গিয়ে দর্শকের মনেও আলাদা এক অনুভব রেখে যায়।

উত্তেজনার পারদ হঠাৎ চড়তে থাকে ‘রক্তবীজ ২’-এ। আগের ছবির সাফল্যের রেশ ধরে, আরও বিস্তৃত ক্যানভাসে ছড়িয়ে পড়ে এই থ্রিলার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পুলিশ, গোয়েন্দা আর সাধারণ মানুষের ভয়ের সঙ্গে মিশে যায় লড়াইয়ের দৃঢ়তা। প্রতিটি মুহূর্তে শ্বাস আটকে রাখা টানাপোড়েন, জয় আর পরাজয়ের দোলাচল—এই ছবি দর্শককে ছাড়ে না শেষ ফ্রেম পর্যন্ত।

এই টানটান আবহের মাঝেই নরম, মানবিক স্বরে কথা বলে ‘আমার বস’। এখানে নায়িকা কোনও সুপারহিরো নন—তিনি এক অবসরপ্রাপ্ত নার্স, যিনি জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন করে নিজের জায়গা খুঁজছেন। পেশাগত দক্ষতা, সন্তান আর পরিবারের প্রত্যাশা, নিজের স্বপ্ন—সব একসঙ্গে সামলে এগোনোর সংগ্রামটা খুব সাধারণ, কিন্তু সেই সাধারণত্বেই লুকিয়ে থাকে ছবির গভীরতা। নিঃশব্দভাবে এই গল্প দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়।


এরপর আসে অন্ধকারে মোড়া এক অস্বস্তিকর ভাবনা—‘কিলবিল সোসাইটি’। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এক মানুষের এমন সিদ্ধান্ত, যা সমাজের চেনা ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। নিজের মৃত্যুকে নিয়ে চুক্তি করার ভাবনা, জীবনের মূল্য আর নিয়তির অর্থ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন—ছবিটা শেষ হলেও তার রেশ থেকে যায় অনেকক্ষণ।

কলকাতার অলিগলি, স্মৃতি আর রহস্য একসাথে জড়িয়ে যায় ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-তে। ঢাকা থেকে আসা এক তরুণী যখন নিজের পূর্বপুরুষের খোঁজে শহরের ভেতর ঢুকে পড়ে, তখন একের পর এক গোপন গল্প উন্মোচিত হয়। কলকাতা এখানে শুধু পটভূমি নয়—শহর নিজেই যেন এক চরিত্র, যার প্রতিটি কোণে ইতিহাস আর বর্তমান হাত ধরাধরি করে হাঁটে।

প্রাচ্যের ঐতিহ্য আর বিদ্রোহের বিস্তৃত ক্যানভাস মেলে ধরে ‘দেবী চৌধুরানী’। সমাজের তাড়নায় প্রান্তে ঠেলে দেওয়া এক তরুণী কীভাবে ধীরে ধীরে শক্তিশালী নেত্রীর রূপ নেয়, সেই রূপান্তরের গল্প এখানে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। প্রেম আছে, বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষত আছে, আবার সেই ক্ষত থেকেই জন্ম নেয় প্রতিরোধ আর পরিবর্তনের সাহস।

সম্পর্কের নীরব টানাপড়েন নিয়ে আসে ‘গৃহপ্রবেশ’। হঠাৎ স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক নারী নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। ঘর, স্মৃতি, ভালোবাসা আর ব্যথা—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় এক আবেগী বন্ধন, যা নিঃশব্দে দর্শকের হৃদয়ে ঢুকে পড়ে।

আর শেষে, খুব পরিচিত অথচ চিরনতুন এক গল্প বলে ‘স্বার্থপর’। একটি পরিবারের দৈনন্দিন হাসি-ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এখানে আয়নার মতো ধরা দেয়। এই ছবি মনে করিয়ে দেয়—সব অমিলের পরেও পরিবার মানে আশ্রয়, যেখানে কষ্টও শেষমেশ ভালোবাসার ভাষা খুঁজে নেয়।

এই দশটি ছবি শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের হিসাব নয়। তারা ২০২৫ সালের বাংলাকে বুঝিয়েছে—আমাদের সমাজের অনুভূতি, ইতিহাসের ছায়া, প্রেমের ভাঙাগড়া আর জীবনের বহুমুখী সত্য। যে তিনটি ছবি ২০২৫ সালের বাংলা সিনেমায় আলাদা করে চোখে পড়েছে, কারণ তারা বড় ক্যানভাস বা জাঁকজমকের বদলে মানুষের ভেতরের গল্প বলেছে খুব সহজ ভাষায়।

‘অঙ্ক কি কঠিন’ একদল কিশোর–কিশোরীর জীবনের কথা বলে, যাদের সামনে জীবন যেন হঠাৎ করেই অচেনা এক অঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। করোনার সময়ে থমকে যাওয়া পড়াশোনা, চারপাশের অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়—সব কিছুর মধ্যেও তারা স্বপ্ন দেখতে শেখে। এই ছবির শক্তি তার সরলতায়। এখানে বড় কোনো বক্তৃতা নেই, আছে বন্ধুদের হাত ধরা সাহস আর বিশ্বাস—যে জীবনের অঙ্ক কঠিন হলেও, একসঙ্গে থাকলে তার উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। 

<strong>‘অঙ্ক কি কঠিন’&nbsp;</strong>

‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ গ্রামবাংলার এক নিঃশব্দ অথচ গভীর যন্ত্রণার গল্প। মানুষের জীবন এখানে যেন অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা—সমাজ, সংস্কার আর লুকিয়ে থাকা কামনা–বাসনার টানে সবাই নাচে। ডাক্তার শশীর চোখ দিয়ে আমরা দেখি, মানুষ কীভাবে নিজের ইচ্ছের বাইরে অন্যের প্রত্যাশায় বাঁচে। ছবিটি ধীরে ধীরে মনে ঢুকে পড়ে, কারণ এতে কোনো চটক নেই—শুধু জীবনের কঠিন সত্য, যা নীরবে বুকের ভেতর ভার হয়ে জমে থাকে। 

<strong>‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’</strong>

এবং ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ আমাদের মুখোমুখি দাঁড় করায় সত্যের প্রশ্নে। একটি মামলার রায় ঘিরে কয়েকজন মানুষের তর্ক–বিতর্কের মধ্য দিয়ে ধরা পড়ে মানুষের নিজের বিশ্বাস, সন্দেহ আর পূর্বধারণা। এখানে সত্য একরৈখিক নয়; প্রত্যেকের চোখে তার রং আলাদা। ছবিটি মনে করিয়ে দেয়, আমরা অনেক সময় যাকে সত্য বলে ধরে নিই, তা আসলে আমাদের নিজের ভয়ের বা সুবিধার তৈরি ছায়া মাত্র।

<strong>‘পুতুলনাচের ইতিকথা’</strong>

শেষমেশ, এই বছরের চলচ্চিত্রচর্চার আলোচনায় আরেকটি নাম আলাদা করে স্থান পেয়েছে—‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’। ২০২৫-এ অনেক ব্যতিক্রমী, চিন্তাশীল ছবি এই মঞ্চেই দর্শকের সামনে এসেছে, যেখানে আলো নিভে গেলে শুধু পর্দাই নয়, মানুষের মনও নীরবে খুলে যায়। ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ সেই জায়গা, যেখানে সাহসী গল্প জায়গা পায়, যেখানে পরীক্ষামূলক সিনেমা দর্শকের সঙ্গে সরাসরি চোখে চোখ রেখে কথা বলে। এখানে বসে ছবি দেখলে মনে হয়, আমরা শুধু দর্শক নই—গল্পের অংশ।

The Academy of Fine Arts streaming: watch online

<strong>‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’</strong>

এই চারটি ছবিই প্রমাণ করে, ২০২৫ সালের বাংলা সিনেমা শুধু বিনোদন নয়—সে ভাবতে শেখায়, প্রশ্ন তোলে, আর খুব সাধারণ ভাষায় মানুষের ভেতরের জটিল গল্পগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরে। এই বছর বাংলা সিনেমা যেন খুলে বসেছিল এক বিস্ময়ের গ্রন্থ—যার প্রতিটি পাতায় লেখা ছিল মানুষের আনন্দ, যন্ত্রণা আর বদলে যাওয়ার অনিবার্য, সুন্দর কাব্য।


```