অক্সফোর্ডে পড়াশোনার দিনগুলোতে আচমকাই উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনে এল এক অভাবনীয় ডাক। নেটফ্লিক্সের তরফে প্রস্তাব। তারপর শুরু হয়েছিল নিরলস প্রস্তুতি—গবেষণা, লেখালিখি, অ্যানিমেশনের কাজ। কেটে গেছে প্রায় দু’বছর। অবশেষে বুধবার সকালে সেই প্রতীক্ষার অবসান, প্রকাশ্যে এল ঘোষণা—আসছে নেটফ্লিক্সে ‘কুরুক্ষেত্র’।

উজান গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 11 September 2025 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্সফোর্ডে পড়াশোনার দিনগুলোতে আচমকাই উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনে এল এক অভাবনীয় ডাক। নেটফ্লিক্সের তরফে প্রস্তাব। তারপর শুরু হয়েছিল নিরলস প্রস্তুতি—গবেষণা, লেখালিখি, অ্যানিমেশনের কাজ। কেটে গেছে প্রায় দু’বছর। অবশেষে বুধবার সকালে সেই প্রতীক্ষার অবসান, প্রকাশ্যে এল ঘোষণা—আসছে নেটফ্লিক্সে ‘কুরুক্ষেত্র’।
‘কুরুক্ষেত্র’ নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মহাভারতের মহাযুদ্ধ। আজকের হরিয়ানার বিস্তীর্ণ সমতল, একসময় যা হয়ে উঠেছিল ধর্ম ও অধর্মের সংঘাতের প্রতীক। সেই অষ্টাদশ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্জুনের দ্বিধা ভেঙেছিল শ্রীকৃষ্ণের উপদেশে। আর সেই উপদেশই পরবর্তীতে মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে দাঁড়ায় ভগবদ্গীতা নামে। তাই কুরুক্ষেত্র শুধু যুদ্ধক্ষেত্র নয়, আধ্যাত্মিকতারও এক অনন্ত কেন্দ্র, যেখানে প্রশ্ন উঠেছিল ন্যায়–অন্যায়, কর্তব্য–অকর্তব্যের সীমারেখা নিয়ে। ধ্বংসের মধ্যেও গড়ে উঠেছিল নৈতিক শিক্ষার মহাগ্রন্থ। আজও জীবনের টানাপড়েন, মানসিক সংগ্রাম কিংবা ন্যায়ের লড়াইয়ে আমরা ‘কুরুক্ষেত্র’ শব্দটিকে মেটাফর হিসেবে ব্যবহার করি।
পুরাণের সেই কুরুক্ষেত্রকেই প্রেক্ষাপট করে উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন সিরিজ ‘কুরুক্ষেত্র’। লেখক ও পরিচালক—দু’টি ভূমিকাতেই দেখা যাবে তাঁকে। ফোনে পাওয়া গেল উজানকে। গলা ভরে উঠল আবেগে—“আনন্দ হচ্ছে, এতদিনের নিজের ভিতরের উত্তেজনাটা জমিয়ে রেখেছিলাম। নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক পরিসরে আমার গড়া একটি কাজ স্বীকৃতি পেয়েছে, তাতে সত্যিই অভিভূত। আমার গোটা টিমকে শুভেচ্ছা। তাঁরা প্রত্যেকে যেভাবে খেটেছে প্রতিনিয়ত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবেগহীন মুহূর্ত।”
প্রশ্ন উঠল, ছোটবেলা থেকেই কি রামায়ণ-মহাভারতের প্রতি টান ছিল? উজানের উত্তর—“মহাভারতের সিরিয়াল যখন চলত, বা সেই জনপ্রিয় সুর কানে আসত, তখন খালি গায়ে নিজেদের কখনও ভীম–অর্জুন মনে হতো। দেখলে ছালা ছাড়ানো মুর্গির মতো লাগলেও নিজেদের হাতে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে লার্জার দ্যান লাইফ মনে করতাম। তবে সাহিত্যর ছাত্ররা ‘মহাভারত’কে যেভাবে বোঝেন, একটা এপিক হিসেবে, সেটা ধরতে আমার অনেকটা সময় লেগেছে। অনেক পরের দিকে মহাভারতের ‘রাজনীতি’ উপলব্ধি করেছি।”
এই সিরিজের আরেক চমক—গুলজার। প্রথম পোস্টারেই উজানের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে তাঁর নাম। আবেগ চেপে রাখতে পারলেন না উজান—“আমার প্রথম কাজে গুলজারজিকে পাশে পেয়েছি, এ এক স্বপ্নের মতো। সত্যিই আমি ভাগ্যবান, ওঁর মতো প্রবাদপ্রতিম মানুষের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি।”
স্বাভাবিকভাবেই এই খবর পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেসে গেলেন বাবা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। ফেসবুকে লিখলেন—“সন্তান কোনোদিনই বাবা মায়ের কাছে বড় হয় না। তাই ছোটবেলার স্কুলের প্রথম দিনের আবেগ আর গ্র্যাজুয়েশনের ডিগ্রি পাওয়ার আনন্দের কোনো ফারাক পাইনি। আজ সকালে উঠে নেটফ্লিক্স সিরিজ কুরুক্ষেত্রর প্রথম ঘোষণার পোস্টারের নিচে লেখা ‘লিরিক্স গুলজার’ আর তার ঠিক পাশেই ‘রাইটার ডিরেক্টর উজান গাঙ্গুলী’ নামটা দেখে বাবা মায়ের মনে যা ঘটতে পারে, ঠিক তাই হচ্ছে! আমি, চূর্ণী তো চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও অভিনয় করছি; আজ উজানও অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় তার দক্ষতা যাচাই করার বিরাট সুযোগ পেয়েছে।
দীর্ঘ ৩ বছর মুখ বুজে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল আজকের এই দিনটা। বিশেষ করে বলতে হয় Hi-Tech Film & Broadcast Academy Pvt. Ltd.-র কথা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ অ্যানিমেটরদের সাথে নিজেদের সুদক্ষ ও প্যাশনেট টিমের নিরলস একাগ্রতার জন্য আজ বাস্তব হলো এই স্বপ্ন। ওরা কলকাতার গর্ব। অ্যানিমেশন হোক বা লাইভ অ্যাকশন ছবি, নেপথ্যে অজস্র মানুষের যৌথ লড়াই থাকে। তাঁদের প্রত্যেককে আমার ও চূর্ণীর তরফ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা উজানকে আশীর্বাদ করুন যাতে ও ওর স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারে ও নিজেকে আজীবন উজাড় করে দিতে পারে বিনোদনের কর্মজীবনে।”
এক মজার কাকতালীয়ও বটে। আর কয়েকদিন পর পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন শাহরুখপুত্র আরিয়ান। তাঁর সিরিজ The Ba**ds of Bollywood* আসছে ১৮ সেপ্টেম্বর। আর বাংলা থেকে কৌশিক–চূর্ণীর ছেলে উজানের হাতে নেটফ্লিক্সে ‘কুরুক্ষেত্র’। ১০ অক্টোবর মুক্তি পেতে চলেছে উজানের নতুন সিরিজ। প্রায় একই সময়ে দুই তারকা পুত্রের নতুন যাত্রা—এ যেন এক অনন্য সাযুজ্য।