এই পুরো যাত্রার শেষ পর্ব হবে আগামী ২৩ মে, Nazrul Mancha-য় গ্র্যান্ড ফিনালে দিয়ে। সেখানে সেরা ব্যান্ডদের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা হবে, এবং সেখান থেকেই উঠে আসবে নতুন নাম—যারা ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে।

শেষ আপডেট: 20 March 2026 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার মিউজিক সার্কিটে নতুন সংযোজন—0DB – Zero Decibel। একেবারে নতুন ফরম্যাটের এই বহু-সপ্তাহের লাইভ ব্যান্ড প্রতিযোগিতার পর্দা উঠল সম্প্রতি। শুরু থেকেই বোঝা গেল, বিষয়টা সিরিয়াস—কারণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বাংলা রক দুনিয়ার প্রতিষ্ঠিত নামরা। মঞ্চে ছিলেন Siddhartha Ray, ব্যান্ড Cactus-এর কণ্ঠস্বর; Gaurab Chatterjee, Lakkhichara-র ড্রামার; এবং Indrajit Dey, যিনি একসময় Fossils-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি এই উদ্যোগের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘০ডিবি’কে শুধুমাত্র একটা প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে মূলত বাংলার ব্যান্ডসংস্কৃতিকে নতুন করে সামনে আনার লক্ষ্য নিয়ে। একটা সময় ছিল, যখন কলকাতার ব্যান্ড মিউজিক নিয়ে আলাদা উত্তেজনা ছিল। সেই জায়গাটাকে আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এই উদ্যোগ। নতুন, অচেনা ব্যান্ডদের পাশাপাশি কর্পোরেট ব্যান্ডগুলিও এখানে অংশ নিতে পারবে—ফলে অংশগ্রহণের পরিসরটা বেশ বড়।
এই প্রতিযোগিতা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে, যেখানে বিভিন্ন ব্যান্ড নিজেদের মৌলিক সঙ্গীত ও পারফরম্যান্স দিয়ে বিচারকদের নজর কাড়ার চেষ্টা করবে। শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটাকে ধীরে ধীরে একটা মিউজিক মুভমেন্ট হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে আয়োজকদের। লক্ষ্য হল, কলকাতার তরুণ প্রজন্মকে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে নতুন সঙ্গীত, নতুন ব্যান্ড এবং নতুন ধারার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই সঙ্গে মিউজিক লাভার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ইনফ্লুয়েন্সারদেরও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে।
এই পুরো যাত্রার শেষ পর্ব হবে আগামী ২৩ মে, Nazrul Mancha-য় গ্র্যান্ড ফিনালে দিয়ে। সেখানে সেরা ব্যান্ডদের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা হবে, এবং সেখান থেকেই উঠে আসবে নতুন নাম—যারা ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে।
আয়োজকদের বক্তব্য, এটা প্রথম বছর হলেও পরিকল্পনা অনেক বড়। তাঁরা চান, ‘০ডিবি’ প্রতি বছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হোক এবং ধীরে ধীরে কলকাতার লাইভ মিউজিক ক্যালেন্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠুক। নতুন প্রতিভাদের সামনে আনা, স্বাধীন সঙ্গীতচর্চাকে উৎসাহ দেওয়া এবং বাংলার ব্যান্ডসংস্কৃতিকে আবার জনপ্রিয় করে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, ‘০ডিবি’ এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে যারা এতদিন সুযোগ পায়নি, তারা সামনে আসার সুযোগ পাবে। প্রতিযোগিতা তো থাকবেই, কিন্তু তার বাইরেও এটা একটা দরজা খুলে দিচ্ছে—নতুন সুর, নতুন ব্যান্ড এবং নতুন সম্ভাবনার জন্য। কলকাতার লাইভ মিউজিক দৃশ্যের জন্য এটা যে একটা গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, তা এখনই স্পষ্ট।