কাজল অভিনীত ‘মা’ ছবির পোস্টার দেখে মনে হতে পারে, এ এক চমকে ভরা হরর সিনেমা—যেখানে এক মা নিজের মেয়েকে বাঁচাতে রুখে দাঁড়ান অতিপ্রাকৃত শক্তির বিরুদ্ধে।

কেমন হল 'মা'?
শেষ আপডেট: 27 June 2025 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘর। বাইরে কী যেন ঘুরছে—মানুষ নয়, ছায়াও নয়। আর তখনই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। 'মা'। মুখে ভয় নেই, চোখে জ্বলছে আগুন। নিজের সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে যিনি লড়াই করতে পারেন দানবের সঙ্গেও। কাজল যখন এক মায়ের চরিত্রে পর্দায় আসেন, তখন মনে হয় কোনও হিন্দি হরর ছবির থেকে একটু ভিন্ন কিছু হয়তো দেখা যাবে এবার। পৌরাণিকতা, আবেগ, আর আধুনিক হররের সংমিশ্রণে তৈরি ‘মা’—কে নিয়ে একটা চেষ্টা করা হয়েছে, বড় কিছু বলার। কিন্তু সেই গল্প আদৌ কোথায় পৌঁছয়?
কাজল অভিনীত ‘মা’ ছবির পোস্টার দেখে মনে হতে পারে, এ এক চমকে ভরা হরর সিনেমা—যেখানে এক মা নিজের মেয়েকে বাঁচাতে রুখে দাঁড়ান অতিপ্রাকৃত শক্তির বিরুদ্ধে। ছবির ভিজ্যুয়াল তাই বলেও। কিন্তু পুরো সিনেমাটা দেখে মনে হয়, গল্প যতটা বড় করে ভাবা হয়েছিল, পর্দায় তা আর ঠিকভাবে পৌঁছয় না।
পরিচালক বিশাল ফুরিয়া এর আগে ছোড়ি বানিয়েছেন। সেই ছবির ছাপ ‘মা’ তেও রয়ে গিয়েছে। ভয়ের জায়গাগুলো যেন খুব চেনা—দৈত্য, অভিশাপ, অতীতের পাপ আর শেষে এক দৈবিক রূপান্তর। গল্পের মোচড় আপনি আগেই বুঝে ফেলবেন। ফলে ‘হরর’ বলেও খুব একটা ভয় পাওয়ার সুযোগ নেই।
তবে একটা জায়গায় ‘মা’ পাস মার্ক পায়—তা হল ছবির ভিএফএক্স। ছায়া বদল, পৌরাণিক দৈত্য, অন্ধকার বাড়ি—সব মিলিয়ে অনেক দৃশ্য চোখে লেগে থাকে। কিছু কিছু ফ্রেম যেন গ্রাফিক নভেলের পাতা থেকে উঠে এসেছে। কাজল বরাবরের মতোই, নিজের চরিত্রে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। তাঁর চোখে-মুখে মা হিসেবে ভয়, রাগ, হতাশা সবই ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে শেষদিকে দেবী কালী রূপে তাঁর জেগে ওঠা ছবির সবচেয়ে শক্তিশালী মুহূর্ত।
কিন্তু ছবির দুর্বল জায়গা হল তাঁর বাংলা প্রেক্ষাপট। বাংলা ভাষায় সংলাপ বললেও উচ্চারণ এতটাই ভুল যে, বাস্তবতা হারিয়ে যায়। রনিত রয় অভিনয়ে ভাল হলেও তাঁর বাংলা উচ্চারণ রীতিমতো কানে বাজে। তার মাঝেও ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ছোট চরিত্রে নজর কাড়েন। নতুন মুখ কেরিন শর্মা আর রূপকথা চক্রবর্তীর অভিনয়ও খারাপ নয়। একটা জিনিস মন ছুঁয়ে যায়—ছবির শেষে কলাকুশলীদের নামের পাশে তাঁদের মায়েদের নাম দেখানো হয়েছে। আর জুবিন নটিয়াল-এর গাওয়া ‘হুমনাভা মেরে’ গানটা মা-মেয়ের সম্পর্কের আবেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
শেষমেশ ‘মা’ এমন এক ছবি, যা দেখতে গেলে কিছুটা কম ভয় পেয়ে বাড়ি ফিরতে হতে পারে, কিছুটা আবেগেও ভেসে যেতে পারেন। কিন্তু অতিরিক্ত যা কিছু পাবেন, তা হল দারুণ ভিজ্যুয়াল, আর এক মায়ের একার লড়াই। হরর ঘরানার ভেতর যদি গল্পের গভীরতা, ভাষার বাস্তবতা, আর আবেগের তীব্রতা না থাকে—তবে সে ছবি মনে দাগ ফেলে না। ‘মা’ সেই জায়গা থেকেই একটু পিছিয়ে পড়ে।
রেটিং: ২.৫/৫