জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর দোরগোড়ায় যেন আচমকাই বাজ পড়ে। মঙ্গলবার সকালেই প্রায় পরিষ্কার—আর্য সিংহ রায়ের চরিত্রে আর ফিরছেন না জিতু কমল।

জিতু-দিতিপ্রিয়া।
শেষ আপডেট: 18 November 2025 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর দোরগোড়ায় যেন আচমকাই বাজ পড়ে। মঙ্গলবার সকালেই প্রায় পরিষ্কার—আর্য সিংহ রায়ের চরিত্রে আর ফিরছেন না জিতু কমল। অথচ প্রযোজনা সংস্থা থেকে শুরু করে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ—কেউই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত করেননি। নীরব জিতুও। কিন্তু তাঁর আচরণই বয়ে আনল ঝড়ের ইঙ্গিত।
ঠিক সোমবার গভীর রাতেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন এক বার্তা দিলেন, যা দেখেই বোঝা যায়, মেগা-জগতের এই অধ্যায়ের ইতি টেনে দিয়েই ফেলেছেন তিনি। ‘মানুষ মৃত্যুর চেয়ে বদনামকে বেশি ভয় করে’—এই তীব্র বাক্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছুড়ে দিয়ে তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে যোগ করলেন আরও একটি লাইন—‘এই সুন্দর অভিজ্ঞতার জন্য ধন্যবাদ। এই জয় তোমার নয়, এটা হল তোমার অভিশপ্ত জীবনের সূচনা।’
ওদিকে দিতিপ্রিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া—অদ্ভুতভাবে স্তব্ধ। গত কয়েকদিন ধরে তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ন্যাকা নায়িকা’ বলে সমানে আক্রমণ করা হচ্ছে, ট্রোলের ঝড় বইছে তাঁর দিকে। অথচ আত্মপক্ষ সমর্থনে একটিও শব্দ উচ্চারণ করেননি তিনি।
সূত্রের দাবি—সোমবারের সেই দীর্ঘ মিটিংয়ে দিতিপ্রিয়া ও জিতু মুখোমুখি বসেছিলেন। টেবিলের অন্য প্রান্তে ছিলেন এসভিএফ-এর দুই কর্ণধার—শ্রীকান্ত মোহতা ও মহেন্দ্র সোনি। উপস্থিত ছিলেন ক্রিয়েটিভ টিমের বাকিরাও। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়েই নাকি জিতু অত্যন্ত গা-ছাড়া আচরণ করেন, বিশেষ কিছু না বলেই মিটিং থেকে বেরিয়ে যান।
আর সেখানেই চটে ওঠেন এসভিএফ কর্তারা। দিতিপ্রিয়া অবশ্য শান্তভাবেই পুরো আলোচনা শুনেছেন। এর পরই—উপরমহল থেকে স্পষ্ট নির্দেশ—জিতুর বদলি খোঁজা শুরু হোক ‘আর্য’ চরিত্রের জন্য।
এই ঘটনাই ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’র টিমে নেমেছে ঘন সিঁদুরে মেঘ। সিরিয়াল দুনিয়ায় নায়ক-নায়িকার রিপ্লেসমেন্ট নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আলাদা। কারণ আর্য সিংহ রায়ের চরিত্র এমন এক জায়গায় পৌঁছেছিল, যেখানে দর্শকের আবেগ জড়িয়ে গভীরভাবে। সেই জায়গায় নতুন মুখকে মানুষ কতটা গ্রহণ করবে—তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মনে। টিআরপি-তেও যে বড়সড় ধাক্কা লাগবে, তা বলাই যায়।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—চ্যানেল আদৌ এই অবস্থায় মেগা চালিয়ে যেতে চাইবে? নায়ক-নায়িকার ইগোর সংঘাতে যদি সিরিয়ালই বন্ধ হয়ে যায়, তবে কাজ হারানোর ভয় তৈরি হবে একদল কলাকুশলীর—যাদের ভবিষ্যৎও এখন প্রশ্নের মুখে।
সেটের পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখা এক ব্যক্তি—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক—সরাসরি বলেছেন, “দোষ দুই পক্ষেরই আছে। নায়িকার আচরণ অপেশাদার, নায়ক নাকি ছুঁতে পারবে না—এটা আবার কেমন নিয়ম! আর সারাক্ষণ নায়িকার মায়ের সেটে ঘোরাঘুরি অস্বস্তিকর।” তবে নায়ক কি তবে একেবারেই নির্দোষ? কথাটা কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না ভেতরের মহল। সেই সূত্রই জানাচ্ছে—সহকর্মীদের সঙ্গে জিতুর আচরণও সব সময় নাকি খুব একটা মসৃণ ছিল না।
সব মিলিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—নতুন আর্য হিসাবে কার নাম ভাবছে প্রযোজনা সংস্থা? কারণ প্রথম থেকেই এই চরিত্রের অফার গিয়েছিল রাহুল মজুমদারের কাছে। লুক টেস্ট করার পরই তিনি সরে দাঁড়ান। পরে চরিত্রটিকে নিজের মুঠোয় নিয়েছিলেন জিতু। দর্শক আদৌ চাইবে নতুন কাউকে সেই জায়গায়?
আর সত্যিই কি সবকিছু শেষ? না কি এখনও কোথাও কোনও অলৌকিক মোড় লুকিয়ে আছে? কে জানে—টেলিভিশনের দুনিয়ায় কখন কোন স্ক্রিপ্ট বদলে যায়, তার তো কোনও ঠিক নেই…