অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বহু জল্পনার পর প্রকাশ্যে এলো আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’-এর ট্রেলার, আর মুহূর্তের মধ্যেই কাঁপিয়ে দিল সারা দেশের পর্দাপ্রেমী মন।

রণবীর
শেষ আপডেট: 18 November 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বহু জল্পনার পর প্রকাশ্যে এলো আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’-এর ট্রেলার, আর মুহূর্তের মধ্যেই কাঁপিয়ে দিল সারা দেশের পর্দাপ্রেমী মন।
রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপালের মতো তারকাদের পাশাপাশি নিজের অভিনয়জীবনের প্রথম বড় পদক্ষেপ রাখলেন একসময়ের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী সারা অর্জুন— এমন এক দলের আবির্ভাব, যা ছবি মুক্তির আগেই তাকে বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবির আসনে বসিয়ে দিয়েছে।
রণবীর সিংয়ের জন্মদিনে জুলাই মাসে প্রথম ঝলক প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ছবিটিকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছিল, আর নতুন ট্রেলার সেই প্রত্যাশাকে এক লাফে নিয়ে গেল অন্য স্তরে। “বাস্তব জীবনের অনুপ্রেরণামূলক ঘটনাবলি”র উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই কাহিনি ক্রস-বর্ডার ইন্টেলিজেন্স অপারেশনের অন্তরালে থাকা নিঃশব্দ যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে সামনে আনে— দেশরক্ষার প্রতিটি অদৃশ্য পদক্ষেপকে আরও তীক্ষ্ণ আলোয় ফেলে।
ট্রেলারের শুরুতেই যেন রোমাঞ্চের শিরায় বিদ্যুৎ বয়ে যায়— অর্জুন রামপালের চরিত্র মুখে তুলে নেয় পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ জিয়া-উল-হকের রক্তশীতল উক্তি, “Bleed India with a thousand cuts”— আর সেটিকে বিকৃত করে এমন এক নির্মম বাস্তবে ঠেলে দেয় যে দর্শকের শরীর কেঁপে ওঠে। সেই মুহূর্ত থেকেই যেন একে একে উঠে আসে এই গোপন যুদ্ধের প্রতিটি মুখ, যাঁরা নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
প্রথমেই প্রবেশ করেন আর মাধবন— দৃপ্ত কণ্ঠে জানিয়ে দেন, পাকিস্তানকে এ বারে তার সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরিণতি ভোগ করতেই হবে। কিছু পরেই পর্দায় ফুটে ওঠে তাঁর পরিচয়— ‘চ্যারিয়টিয়ার অব কার্মা’, অজয় সান্যাল— শান্ত, তীক্ষ্ণ, আর ভিতরে জমে থাকা প্রতিজ্ঞার মতো।
তার পরেই ধীরে ধীরে আবির্ভূত হন অক্ষয় খান্নার রহমান ডাকাত— যিনি পরিচিত ‘এপেক্স প্রিডেটর’ নামে। আর তারপর সঞ্জয় দত্তের চরিত্র, এসপি চৌধুরি আসলাম— যাকে লোকমুখে ডাকা হয় ‘দ্য জিন’। আর সবশেষে আসে সেই বিস্ফোরণ— রণবীর সিং, ‘দ্য র্যাথ অব গড’ হয়ে পর্দায় আছড়ে পড়েন এক হুঙ্কারের মতো— যেন গল্পের হৃদস্পন্দনই বদলে যায়।
দেশাত্মবোধে ভরপুর, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ের এই মহাকাব্যিক কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু ঘটনাই নয়, আরও আছে এই তারকাবহুল টিমের উপস্থিতি। রণবীরের রুক্ষ, মাধবনের স্থির, সঞ্জয় দত্তের রহস্য, তীব্র রামপাল, অক্ষয়ের মধ্যে অদ্ভুত গভীরতা— প্রতিটি চরিত্রই যেন নিজস্ব আলোয় দগ্ধ করতে প্রস্তুত।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়ায় সেই উন্মাদনা ধরা পড়েছে স্পষ্ট— রণবীরের জন্মদিনে প্রথম নজরকাড়া দৃশ্য থেকে শুরু করে এই ট্রেলারে তাঁর সংলাপ।
ইউটিউবে ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার মিনিট দুয়েকের মধ্যেই মন্তব্যের বন্যা— কেউ লিখছেন, “এমন তারকাসমাহার! ধুরন্ধর পর্দা কাঁপিয়ে দেবে!” আবার কেউ প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন আদিত্য ধর ও রণবীর সিংকে— “অসাধারণ! দুর্দান্ত! প্রেমে পড়ে গেলাম!” শোনা যাচ্ছে, ছবিটি নাকি দু’ভাগে মুক্তি পেতে চলেছে, প্রায় ১৮৫ মিনিটের দৈর্ঘ্যে এটি হতে চলেছে রণবীর সিং অভিনীত দীর্ঘতম ছবি।
ডিসেম্বরের ৫ তারিখ, যখন পর্দায় ‘ধুরন্ধর’ প্রথমবারের মতো আসবে— তখন হয়তো আরও একবার মনে পড়বে, দেশরক্ষার গল্প কখনওই শুধুমাত্র যুদ্ধের নয়; তা ছায়ার আড়ালে থাকা সেই অদৃশ্য যোদ্ধাদের, যারা নিজের সবটুকু জ্বেলে আলো করে রাখে অন্যদের পথ।