পুরনো হিন্দি গান মানেই হৃদয়স্পর্শী সুর আর মনের গভীর থেকে উঠে আসা শব্দ। কিন্তু জানেন কি, এই গানগুলোর অন্তরালের গল্পগুলো আরও বেশি আবেগঘন ও চমকপ্রদ!

পুরনো হিন্দি গান মানেই হৃদয়স্পর্শী সুর আর মনের গভীর থেকে উঠে আসা শব্দ।
শেষ আপডেট: 27 May 2025 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরনো হিন্দি গান মানেই হৃদয়স্পর্শী সুর আর মনের গভীর থেকে উঠে আসা শব্দ। কিন্তু জানেন কি, এই গানগুলোর অন্তরালের গল্পগুলো আরও বেশি আবেগঘন ও চমকপ্রদ! টাইম মেশিন নেই ঠিকই, তবে এই গল্পগুলো আপনাকে ফিরে নিয়ে যাবে সোনালি এক অতীতে—যেখানে জন্ম নিয়েছিল বলিউডের সেরা-সেরা গানগুলো। রইল কিছু অমর গানের অজানা গল্প।
‘তুমকো দেখা তো ইয়ে খয়াল আয়া’ – নয় মিনিটেই লেখা এক স্মৃতিমেদুর গান
১৯৮২ সালের ‘সাথ সাথ’ ছবির এই গানটি লেখা হয়েছিল মাত্র ৯ মিনিটে! গীতিকার জাভেদ আখতার এক পুরনো সাক্ষাৎকারে বলেন, গভীর রাতে (রাত ২টোর দিকে) কিছু পানীয়ের ঘোরে হঠাৎ এই গানের কথা মাথায় আসে এবং তিনি এক নিঃশ্বাসে লিখে ফেলেন পুরো গানটি। এমন অলৌকিক সৃষ্টিই কালজয়ী হয়ে ওঠে।
‘দিল চীজ কেয়া হ্যায়’– রেখার মতো গাইতে গিয়েই চরিত্রে ঢুকে পড়েছিলেন আশা ভোঁসলে
১৯৮১ সালের ‘উমরাও জান’ ছবিতে রেখার পারফর্ম করা এই গানটি আশা ভোঁসলের কণ্ঠে এক অন্য মাত্রা পেয়েছিল। নিজের ‘ফেয়ারওয়েল ট্যুর’-এর সময় আশা জানান, গানটি রেকর্ড করার সময় তিনি রেখার চরিত্রে একেবারে ঢুকে পড়েছিলেন। সেই অনুভূতি থেকেই উঠে এসেছিল এমন এক আবেগঘন সুরেলা পরিবেশনা।

<em>‘উমরাও জান’</em>
‘আঁখ সিধি লাগি’ – একাই দুই চরিত্রে কিশোর কুমার!
১৯৬২ সালের ‘হাফ টিকিট’ ছবির এই গানে হাস্যরস ভরপুর। কিশোর কুমার একই সঙ্গে পুরুষ ও নারী কণ্ঠে গান গেয়েছিলেন! মূলত, লতা মঙ্গেশকরের গান গাওয়ার কথা থাকলেও তিনি নির্দারিত সময়ে স্টুডিওতে পৌঁছতে পারেননি। তখন কিশোর কুমার হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেন দুই কণ্ঠেই নিজেই গান করবেন– এবং সৃষ্টি হয় এক অমর, রসগন্ধে ভরা গান।

<em>কিশোর কুমার</em>
‘সর যা তেরা চকরে’ – গান, যা এক নানার স্মৃতিময় ভালোবাসা
১৯৫৭ সালের ‘পেয়াসা’ ছবির এই গানটি গেয়ে গিয়েছিলেন মহম্মদ রফি। অনেকের কাছে এই গানটা অনেক স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে। এই গানটির সুরের অনুপ্রেরণা এসেছিল আর.ডি. বর্মনের শৈশবকালের বাজানো এক সুর থেকে, যাকে ধরে নিয়ে তাঁর বাবা সত্যেন দেব বর্মন তৈরি করেছিলেন এই চিরস্মরণীয় গানটি।

<em><strong>‘সর যা তেরা চকরে’</strong></em>
‘দেখা এক খোয়াব’ – প্রথমে সুর, পরে কথা
‘সিলসিলা’ (১৯৮১) ছবির এই বিখ্যাত রোম্যান্টিক গানটির কথা লেখা হয়, সুর তৈরি হওয়ার পরে। লতা মঙ্গেশকরকে অনুরোধ করেন পরিচালক যশ চোপড়া, বলেন একজন উপযুক্ত গীতিকারের নাম বলার জন্য, এবং সেখান থেকেই আসে জাভেদ আখতারের নাম। গানটির পটভূমি ছিল টিউলিপ বাগানের মাঝে প্রেমিক-প্রেমিকার রোম্যান্স—যা ধরা পড়ে অসাধারণভাবে এই গানে।
‘লগ যা গলে’ – প্রথমে ছিল না, পরে হয়ে ওঠে সিনেমার রত্ন
‘ওহ কৌন থি’ (১৯৬৪) ছবির এই গানটির শুরুতে পরিচালক রাজ খোসলা গানটিকে সিনেমায় রাখতেই চাননি! কিন্তু সুরকার মদন মোহন অনুরোধ করেন অভিনেতা মনোজ কুমারকে, যেন পরিচালককে গানটি আবার শুনতে বলেন। দ্বিতীয়বার শুনেই রাজ খোসলা সম্মতি দেন এবং পরবর্তীতে বলেন, প্রথমবার তাঁর মন অন্য কোথাও ছিল, তাই গানের সৌন্দর্য বুঝতে পারেননি। ভাগ্যিস তিনি দ্বিতীয়বার শুনেছিলেন!

<em>‘লগ যা গলে’ </em>
এই গানগুলো শুধু শ্রুতিমধুরই নয়, গল্পগুলোও যেন একেকটি চলচ্চিত্র। কারণ সেগুলোই গানের প্রকৃত আত্মা। পুরনো গানে লুকিয়ে আছে হৃদয়ের গল্প!