পুরাণের দেবদেবী, আত্মা, পুনর্জন্ম আর অলৌকিক শক্তি—এই সব কিছু কি কেবল ধর্মীয় বই আর ঠাকুরঘরেই সীমাবদ্ধ? মোটেই না! বলিউড বারবার প্রমাণ করেছে, হাজার বছর আগের মিথকেও নতুন রঙে, আধুনিক ভাষায় তুলে ধরা যায় বড়পর্দায়।

বলিউড।
শেষ আপডেট: 27 May 2025 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরাণের দেবদেবী, আত্মা, পুনর্জন্ম আর অলৌকিক শক্তি—এই সব কিছু কি কেবল ধর্মীয় বই আর ঠাকুরঘরেই সীমাবদ্ধ? মোটেই না! বলিউড বারবার প্রমাণ করেছে, হাজার বছর আগের মিথকেও নতুন রঙে, আধুনিক ভাষায় তুলে ধরা যায় বড়পর্দায়। কখনও সুপারহিরোদের চোখ দিয়ে দেখা যায় দেবদবীদের অস্ত্রের ভাণ্ডার, কখনও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় ঈশ্বরকে, আবার কখনও আত্মা হয়ে আসে প্রেম। এমনই কিছু ছবির হদিশ, যেখানে পুরাণের গন্ধ মিশে গেছে আধুনিক গল্পে—একটা মোহময় মিশেল, যেখানে 'ওল্ড ইজ গোল্ড' নতুন মোড়কে উঠে এসেছে সিলভার স্ক্রিনে।
দেবতা যখন ডিজিটাল যুগে
ব্রহ্মাস্ত্র: পার্ট ওয়ান - শিব (২০২২)
এই ছবিতে হিন্দু পুরাণের "অস্ত্র"-এর ধারণাকে সুপারহিরো জগতে রূপ দেওয়া হয়েছে। মহাশক্তির খোঁজ, জন্মজন্মান্তরের প্রেম আর বিশ্বরক্ষার কাহিনি—সব মিলিয়ে এটি এক ভিএফএক্সে ভরপুর আধুনিক ফ্যান্টাসি সিনেমা। দেবশক্তি ও মানবিক ভালোবাসার টানাপোড়েনে গড়ে ওঠে এই নতুন যুগের পুরাণ।
/movietalkies/media/post_attachments/wp-content/uploads/2022/09/brahmastra-rev-7.jpg)
<em>ব্রহ্মাস্ত্র: পার্ট ওয়ান - শিব (২০২২)</em>
আদালতে পুরাণের বিচার
ওহ মাই গড! (২০১২)
দেবতা কি মানুষের দায় নিতে পারেন? এই প্রশ্ন নিয়ে আদালতে চলে যায় এক দোকানদার, যখন তার দোকান ধ্বংস হয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে। চলচ্চিত্রটি শ্রীকৃষ্ণকে একজন বাইকার গাইড হিসেবে তুলে ধরে, আর ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে জোরালো কটাক্ষ করে।
<em>ওহ মাই গড! (২০১২)</em>
ইতিহাসে হারানো পুরাণের ধ্বনি
মহেঞ্জোদাড়ো (২০১৬)
সিনেমাটি আমাদের নিয়ে যায় সিন্ধু সভ্যতার সময়ে। কিন্তু তার মধ্যেও আছে দেব-স্বপ্ন, নিয়তির ইঙ্গিত আর নদী পূজার ছোঁয়া। প্রেম ও বিপদের মাঝে দাঁড়ানো এক যোদ্ধার কাহিনি হয়ে ওঠে এক কাল্পনিক অথচ পৌরাণিক মহাকাব্য।

<em>মহেঞ্জোদাড়ো (২০১৬)</em>
পুনর্জন্মে প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা
করণ অর্জুন (১৯৯৫)
দুই ভাই, এক মায়ের চোখের জল আর জন্মান্তরের প্রতিশোধ—এই ছবিতে ফুটে ওঠে মহাভারতের "কর্মফল"-এর ভাবনা। গ্রামীণ পটভূমিতে আধুনিক আবহে গড়ে ওঠা এক পৌরাণিক বিচারকাহিনি, যেখানে ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচার জয়ী হয়।

<em>করণ অর্জুন (১৯৯৫)</em>
ভূতের ভালোবাসা, মরুভূমির প্রেমগাঁথা
পহেলি (২০০৫)
রাজস্থানি লোককথা অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি এক নারী ও এক প্রেমাসক্ত আত্মার গল্প। বিয়ের পর স্ত্রীর অবহেলিত আবেগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এক মোহময় প্রেমকাহিনি। প্রাচীন বিশ্বাস আর নারীর মনোজগতের মেলবন্ধনে এক আধুনিক রূপকথা।

<em>পহেলি (২০০৫)</em>
বলিউড অনেক সময়ই পুরাণ ও লোককথার গল্পগুলোকে আধুনিক মোড়কে পরিবেশন করে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। কখনও সুপারহিরো, কখনও আইনি লড়াই, আবার কখনও প্রেম বা প্রতিশোধের আখ্যান—এই ছবিগুলোতে দেবতা, আত্মা আর জন্মান্তরের ছায়া মিলে যায় বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে। এই ছবিগুলোর মাধ্যমে বলিউড প্রমাণ করেছে, পুরাণ শুধু অতীতের নয়—ঠিকভাবে বললে, সেটি বর্তমানের গল্পও হয়ে উঠতে পারে। সিনেমার পর্দায় যখন দেবতা, আত্মা আর জন্মান্তর এসে ধরা দেয় নতুন আলোয়, তখন পুরনো গল্পও হয়ে ওঠে একেবারে নতুন।