১৯৭৫—ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যাকে বলা হয় এক মাইলস্টোন বছর। কারণ সেই বছরেই মুক্তি পেয়েছিল শোলে। আজ, মুক্তির শতবর্ষে যখন আমরা স্মরণ করি হিন্দি সিনেমার ‘গডফাদার’ এই ছবিকে, তখন মনে পড়ে যায় সেই তরুণ অমিতাভ বচ্চনকে, যিনি শোলে–র জয়ের পর এক লাফে উঠে গিয়েছিলেন তারকাখ্যাতির শিখরে।

শোলে ও সোন্তি
শেষ আপডেট: 22 August 2025 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৭৫—ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যাকে বলা হয় এক মাইলস্টোন বছর। কারণ সেই বছরেই মুক্তি পেয়েছিল শোলে। আজ, মুক্তির শতবর্ষে যখন আমরা স্মরণ করি হিন্দি সিনেমার ‘গডফাদার’ এই ছবিকে, তখন মনে পড়ে যায় সেই তরুণ অমিতাভ বচ্চনকে, যিনি শোলে–র জয়ের পর এক লাফে উঠে গিয়েছিলেন তারকাখ্যাতির শিখরে। কিন্তু খুব কম মানুষ জানেন, একই বছর তিনি হাত রেখেছিলেন এক অসমিয়া ছবির শ্যুটিংতেও—যে ছবি আর আলোই দেখল না। ছবির নাম ‘সোন্তি‘—চার্লস ডিকেন্সের অলিভার টুইস্ট অবলম্বনে তৈরি। অথচ এই ছবিটি আজও দিনের আলো দেখেনি। যা রয়ে গেছে, তা শুধু একটি ঝাপসা সাদাকালো একটি ছবি—যেখানে অসমিয়া র জনপ্রিয় ভিলেন অভিনেতা দিনেশ দাসের সঙ্গে মারপিটের দৃশ্যে ধরা পড়েন অমিতাভ।
৮৪ বছর বয়সে শয্যাশায়ী দীনেশ দাস স্মৃতির ভাঁজে ফিরিয়ে নেন সেই দিনগুলো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর দ্বিতীয়তলায় অসমিয়া ধাঁচের একটি বাড়ির সেট বানানো হয়েছিল। সেখানেই ছাদের উপর অমিতাভের সঙ্গে আমার লড়াইয়ের দৃশ্য শুট হয়েছিল। আমার হাতে ছিল ছুরি। ছয় মাস আগেই মানব আরু দানব ছবির জন্য আমি ছুরি চালানো শিখেছিলাম, সেটাই কাজে লেগেছিল এখানে।’

‘সোন্তি’-তে দীনেশ দাস ও অমিতাভ
‘সোন্তি’-তে দীনেশ দাস ছিলেন মূল খলনায়ক—ফাগিন, যাকে ছবিতে নতুন নাম দেওয়া হয়েছিল ফটিকচাঁদ। আর সোন্তি, সেই অনাথ ছেলেটি যে গৃহত্যাগ করে গ্যাংয়ে যোগ দেয়, তার ভূমিকায় ছিলেন তরুণ অভিনেতা মৃদুল। আর অমিতাভ? তিনি ছিলেন সোন্তির বাবা। যেখানে হিন্দি সিনেমার ভবিষ্যৎ মহাতারকা নিজের জায়গা করে নিচ্ছিলেন এক অসমিয়া ছবির ছায়ায়।
আশ্চর্যজনকভাবে ছবিটি শুধুমাত্র অসমিয়া তেই নয়, একসঙ্গে ওড়িয়া ও বাংলাতেও নির্মাণ হচ্ছিল। দীনেশ দাসের চরিত্রে বাংলা সংস্করণে অভিনয় করেছিলেন খ্যাতনামা নাট্যব্যক্তিত্ব শম্ভু মিত্র। কত বড় স্বপ্ন, কত মানুষের শ্রম, কত শিল্পীর নিবেদন—কিন্তু শেষমেশ ছবিটি মুক্তি পেল না আর।
এখনও যখন সেই দিনের কথা বলতে গিয়ে দীনেশ দাস থেমে যান, তখন বোঝা যায় অপূর্ণতার বেদনা কত গভীর। ‘শোলে’ কোটি কোটি দর্শকের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে, কিন্তু ‘সোন্তি’ রয়ে যাবে এক বিস্মৃত অধ্যায়—যেখানে অমিতাভ বচ্চনের উপস্থিতি যেন অসমিয়া সিনেমার সঙ্গে এক অনন্য সেতুবন্ধনের মতো। এক সাদাকালো ফোটোগ্রাফ আজ সাক্ষী, যে ছবিটি কখনও মুক্তি না পেলেও, স্মৃতির পর্দায় তা অমর হয়ে রয়েছে।
সিনেমারও একেকটা জীবন থাকে। কেউ আলো পায়, কেউ অন্ধকারে থেকে যায়। কিন্তু আলো-অন্ধকার মিলেই তা ইতিহাসের ক্যানভাসে পূর্ণ হয়। আর সেই ক্যানভাসেই কোথাও না কোথাও লেখা রয়েছে—অসমিয়ার হারানো ছবিতে একদিন অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন।