২০১২ সাল থেকে ইমনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন নাড়ু। সম্পর্কের খাতায় তিনি হয়তো ‘ড্রাইভার’, কিন্তু মনের ঠিকানায় তিনি তার চেয়েও অনেক বেশি—একজন আপনজন, একরকম ভাই। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, কতবার যে নাড়ু ইমনকে বিমানবন্দরে নামিয়ে দিয়ে ফিরে গেছেন, তার হিসেব নেই।

শেষ আপডেট: 6 January 2026 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১২ সাল থেকে ইমনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন নাড়ু। সম্পর্কের খাতায় তিনি হয়তো ‘ড্রাইভার’, কিন্তু মনের ঠিকানায় তিনি তার চেয়েও অনেক বেশি—একজন আপনজন, একরকম ভাই। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, কতবার যে নাড়ু ইমনকে বিমানবন্দরে নামিয়ে দিয়ে ফিরে গেছেন, তার হিসেব নেই। প্রতিবারই ইমনের মনে একটাই কথা ঘুরপাক খেত—কবে সেই দিন আসবে, যেদিন নাড়ুকে নিজের সঙ্গেই আকাশে তুলে নিতে পারবেন তিনি?
ইচ্ছেটা দীর্ঘদিন মনের মধ্যেই ছিল। সময়, পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে সুযোগ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এ বার আর নিজেকে আটকালেন না ইমন। কারণ নাড়ুর জীবনে এসেছে এক নতুন অধ্যায়। সে এখন এক কন্যাসন্তানের বাবা। নাড়ু আর লাবণী—দু’জনের কোল জুড়ে এসেছে এক ছোট্ট রাজকন্যা। জীবনের এই আনন্দময় মুহূর্তে, মুখে খুশির আভা, চোখে নতুন দায়িত্বের আলো—ঠিক তখনই ইমন ভাবলেন, এই ট্রিটটা নাড়ু সত্যিই ডিজার্ভ করে।
সেই ভাবনাই বাস্তব হল। প্রথম বার উড়োজাহাজে ওঠার আনন্দ পেল নাড়ু। বিমানবন্দর থেকে শেয়ার করা এক ভিডিওতেই ধরা পড়ল সেই বিশেষ মুহূর্ত। ইমন নিজেই বললেন, এত বছর ধরে নাড়ু তাঁকে গাড়িতে করে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়েছে। অগণিত বার বিদায়ের সেই দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে সে। প্রতিবারই মনে হতো, যদি কোনও দিন সুযোগ আসে, নাড়ুকে অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এ বার আর দেরি করলেন না।
নাড়ুর চোখে-মুখে সেই উত্তেজনা লুকোনো গেল না। মাথায় টুপি, পরনে নতুন পোশাক—প্রথম উড়ান যেন এক উৎসব। প্লেনে পা দিয়েই সে হেসে বলল, এতদিন তো হাজার হাজার বার বাইরে দিয়েই ঘুরে চলে গিয়েছে। আজ ভেতরে ঢুকতে গিয়ে কত চেক! মানিব্যাগ, ফোন—সব নিয়ে নিল। তবু অভিজ্ঞতাটা দারুণ।
প্লেনের ভেতর বসে ভিডিও কলে বাড়ির মানুষদের সঙ্গে এই বিশেষ মুহূর্ত ভাগ করে নিল নাড়ু। আকাশে ওড়ার অনুভূতি তাঁর কাছে একেবারেই নতুন। প্রথম উড়ানের রোমাঞ্চে মাথা ঘুরেছে, তবু আনন্দে ভরপুর সে। জানাল, জানলার ধারে বসে নিচে তাকিয়ে দেখেছে মেঘের স্তূপ, দূরে দূরে কলকাতা আর নিউটাউনের কয়েকটা বাড়ি চোখে পড়েছে। তারপর ধীরে ধীরে সব হারিয়ে গেছে আকাশের নীলচে সাদায়। গন্তব্য বাগডোগরা, সেখান থেকে আলিপুরদুয়ার—কিন্তু এই যাত্রার আসল ঠিকানা ছিল স্মৃতির ভাণ্ডারে।
এই আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে রাখেননি ইমন। নাড়ুর উড়ানের মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আবেগভরা কণ্ঠে বলেছেন, সবাই যেন নাড়ুকে আশীর্বাদ করেন—সে যেন সুস্থ থাকে, ভালো থাকে, আর নিজের মেয়েকে বড় করে মানুষ করতে পারে। দিদি হিসেবে তিনি সবসময় নাড়ুর পাশে থাকবেন, এইটুকুই তাঁর চাওয়া।