নিজেকে বদলে ফেলার দৌড়ে আজকের তরুণ প্রজন্ম কত সহজেই জড়িয়ে পড়ে নিখুঁত দেহগঠনের মোহে। সোশ্যাল মিডিয়ার চকচকে ছবিগুলো বলে যায়— ‘আরও সুন্দর হও, আরও আকর্ষণীয় হও’।

শেষ আপডেট: 17 November 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেকে বদলে ফেলার দৌড়ে আজকের তরুণ প্রজন্ম কত সহজেই জড়িয়ে পড়ে নিখুঁত দেহগঠনের মোহে। সোশ্যাল মিডিয়ার চকচকে ছবিগুলো বলে যায়— ‘আরও সুন্দর হও, আরও আকর্ষণীয় হও’। কিন্তু সেই ফাঁদে পা দিয়ে কী ভয়াবহ মূল্য চুকিয়েছেন শার্লিন চোপড়া, সেই কাহিনি তিনি নিজেই প্রকাশ্যে আনলেন— সাহসের সঙ্গে, সততার সঙ্গে।
অভিনেত্রী ও মডেল শার্লিন চোপড়া সম্প্রতি জানিয়েছিলেন যে তিনি স্তন ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। আর তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলেন নিজের অভিজ্ঞতা— এক টুকরো স্বস্তির নিঃশ্বাস, এক টুকরো সতর্কতার বার্তা।
ভিডিয়ো ক্লিপে শার্লিন যেন বহুদিনের ভার নামিয়ে ফেলা এক নারী। তিনি হাসিমুখে বললেন, “এই ভারি বোঝা আমার বুক থেকে সরে গেছে— ৮২৫ গ্রাম করে দু’দিকেই। এখন নিজেকে প্রজাপতির মতো হালকা লাগছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে আমার অনুরোধ, সোশ্যাল মিডিয়ার ভুল প্রভাব বা বাহ্যিক স্বীকৃতির লোভে পড়ে নিজের শরীরের সঙ্গে কোনওরকম ছেলেখেলা কোরো না।”
সেই কথার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল দীর্ঘ যন্ত্রণা, বহুদিনের অস্বস্তি। তিনি আরও যুক্ত করলেন, “যে কোনও সিদ্ধান্তের আগে তার ভাল-মন্দ সব দিক ভেবে দেখো। পরিবার আর ডাক্তারের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করো। হুট করে সিদ্ধান্ত নিও না। ভিড়ের পথ অনুসরণ কোরো না। নিজের স্বকীয়তা আর বাস্তবতার মর্যাদা রক্ষা করতে শিখো।”
ভিডিয়োর সঙ্গে শার্লিন লিখলেন— অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে বাঁচার কোনও মানে নেই, এ তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস। ধন্যবাদ জানালেন তাঁর দক্ষ চিকিৎসকদের দলকে— যাঁদের সাহায্যে সম্পন্ন হয়েছে তাঁর ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট রিমুভাল বা এক্সপ্লান্ট সার্জারি।
অন্য এক পোস্টে তিনি দেখালেন অপসারিত সিলিকন ইমপ্ল্যান্ট— নিঃশ্বাস ফেলা এক মুক্তির প্রতীক। লিখলেন, “সিলিকন-ফ্রি! আরোগ্যের পথে নতুন যাত্রা। ৮২৫ গ্রাম করে দুই ইমপ্ল্যান্ট সরানোর পর শরীরটাকে যেন অনেকটাই হালকা লাগছে।”
গত বছরই শার্লিন প্রকাশ্যে বলেছিলেন এক ব্যর্থ কসমেটিক প্রক্রিয়ার কথা— যা তাঁর চিবুককে অস্বাভাবিক লম্বা করে দেয়, ঠোঁট ফুলিয়ে তোলে, গাল বাড়িয়ে দেয়, চোয়ালকে করে তোলে অপ্রাকৃত ধারালো। সৌন্দর্যের খোঁজে শুরু হওয়া সে যাত্রা তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল জটিলতার দিকে। পরে জানা যায়, বহুদিন ধরে তাঁকে পিঠে, বুকে, কাঁধে অসহ্য ব্যথা সহ্য করতে হয়েছে— আর সেই যন্ত্রণার উৎস ছিল বহু বছর আগে লাগানো ওই সিলিকন ইমপ্ল্যান্টই।
অস্ত্রোপচারের পর তাঁর পোস্টে ঢেউ উঠল ভক্তদের প্রশংসায়। কেউ লিখলেন— “শক্তি থাকলে তবেই নিজের জীবন এভাবে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।” কেউ বললেন— “আমরা গর্বিত তোমায় নিয়ে, ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন।”
কিন্তু এই বাহবায় নয়, নতুন করে বাঁচার অনুভূতিতেই আজ মগ্ন শার্লিন। বহুদিনের শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক ক্লান্তি আর সামাজিক চাপের জাল কাটিয়ে যেন তিনি ফিরে পেলেন নিজের প্রকৃত সত্তা। নিজের শরীরের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে তুলে নিয়ে যেন তিনি খুঁজে পেলেন সেই স্বস্তি— যে স্বস্তির নাম স্বাধীনতা।