ঐশ্বর্যা রাই, জুহি চাওলা ও মনীষা কৈরালা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুযোগ, আর সেটাই লুফে নিয়ে করিশ্মা কাপুর সুপারস্টার হয়ে ওঠেন।

করিশ্মা কাপুর
শেষ আপডেট: 11 September 2025 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে সুপারস্টার হওয়া কী আর মুখের কথা! তা যদি হয় নয়ের দশকে, যখন প্রতিযোগিতা ছিল তুঙ্গে! তাহলে তো কথাই নেই। এমনও অনেক সময় হয়, যখন এক তারকার ছেড়ে দেওয়া সুযোগ আরেকজনের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঐশ্বর্যা রাই, জুহি চাওলা এবং মনীষা কৈরালার মতো নায়িকারা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন একটি ছবি, আর সেই সুযোগ লুফে নিয়েছিলেন করিশ্মা কাপুর। সেই ছবিটি শুধু তার কেরিয়ারেই সাফল্য আনেনি, বরং তাকে বানিয়ে দিয়েছিল এক সুপারস্টার।
আমির খান ও করিশ্মা কাপুর অভিনীত ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ ছবিটি একটি স্মরণীয় নাম। ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি শুধু বক্স অফিসেই হিট করেনি, বরং সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তবে এই সিনেমার একটি বিশেষ দৃশ্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়— আমির ও করিশ্মার সেই বিখ্যাত চুমুর দৃশ্য, যার জন্য ৪৭ বার রি-টেক করতে হয়েছিল!
পুরনো এক সাক্ষাৎকারে রাজীব মাসান্দের কাছে করিশ্মা সেই দৃশ্যটি নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, শুটিংয়ের পরিস্থিতি ছিল খুবই কঠিন। ‘মানুষ কেবল চুমুর দৃশ্য নিয়েই কথা বলে, কিন্তু আমরা যে তিন দিন ধরে কী ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করেছি,’— বলেন করিশ্মা।
তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে উটিতে যখন এই দৃশ্যের শুটিং চলছিল, তখন আবহাওয়া ছিল প্রচণ্ড ঠান্ডা। ঝোড়ো হাওয়া ও ঠাণ্ডা জলের মধ্যে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাঁপতে কাঁপতে কাজ করতে হয়েছিল। এটি ছিল সেই সময়ের পরিশ্রমের এক ভিন্ন উদাহরণ।
মজার বিষয় হল, এই ছবির জন্য করিশ্মা কাপুর প্রথম পছন্দ ছিলেন না। প্রথমে মনীষা কৈরালাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর জুহি চাওলাকে প্রস্তাব দেওয়া হলে, আমির খানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তিনি এই ছবিতে কাজ করতে রাজি হননি। এছাড়াও, ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে শোনা যায়, তবে তিনিও ছবিটি করতে পারেননি।
১৯৯৬ সালটি করিশ্মা কাপুরের কেরিয়ারের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ওই বছর তার মোট ১০টি ছবি মুক্তি পায়। এর মধ্যে ‘সাজন চলে সাসুরাল’, ‘কৃষ্ণা’, ‘জিত’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ এবং ‘অজয়’—এই পাঁচটি ছবি দারুণ সফল হয়। ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য। এই ছবির জন্য তিনি তার প্রথম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট অ্যাক্ট্রেস জিতেছিলেন।