শুনানির সময় আদালত জানায়, গানটির লিরিক্স (Rap Song Lyrics) এতটাই আপত্তিকর যে বিচারিক আদেশে পর্যন্ত নাম লেখা যায় না। হাইকোর্টের বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “এটি এমন এক বিরল মামলা যেখানে আদালতের বিবেক সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে গেছে।”

গানের দায় এড়ালেন হানি-বাদশা (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 2 April 2026 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি পুরনো র্যাপ গান (Rap Song) নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। গানটির কথা এতটাই অশ্লীল এবং নারীদের জন্য অপমানজনক যে এটি কোনওভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা উচিত নয়। তাই গানটি এবং এর সঙ্গে থাকা সব ভিডিও, ক্লিপ ও রিমিক্স তৎক্ষণাৎ সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হানি সিং (Honey Singh) ও বাদশার (Badshah) সঙ্গে গানটির নাম জড়ালেও তাঁরা এর দায় অস্বীকার করেছেন।
মামলাটি ছিল ‘ভলিউম ১’ (Volume 1 Sound Track) নামে একটি ট্র্যাককে কেন্দ্র করে, যা ২০০০–এর দশকের শুরুতে মাফিয়া মুন্ডির নামে একটি হিপ-হপ গ্রুপের অংশ ছিল। এই গ্রুপে তখন হানি সিং (Honey Singh), বাদশাহ (Badshah), রাফতার (Raftaar), ইক্কার (Ikka) মতো শিল্পীরা যুক্ত ছিলেন। গানটি দীর্ঘদিন ধরেই তার অশ্লীল ও নারী-বিরোধী কথার জন্য সমালোচনার মুখে ছিল।
আদালতের কড়া মন্তব্য
শুনানির সময় আদালত জানায়, গানটির লিরিক্স (Rap Song Lyrics) এতটাই আপত্তিকর যে বিচারিক আদেশে পর্যন্ত নাম লেখা যায় না। হাইকোর্টের বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “এটি এমন এক বিরল মামলা যেখানে আদালতের বিবেক সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে গেছে।” তাঁরা স্পষ্ট জানান, এমন কনটেন্ট কোনও সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পূর্ণ অপসারণের নির্দেশ
আদালতের নির্দেশ, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, স্পটিফাই, জিওসাভন, অ্যাপল মিউজিক-সহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকে গানটি সরাতে হবে। শুধু মূল গান নয়, রিমিক্স, শর্ট ভিডিও, রিলস, কনসার্টের ক্লিপ, আংশিক লিরিক্স, যে কোনও ফরম্যাটে পাওয়া গেলে তা-ও মুছে ফেলতে হবে।
শিল্পীদের অস্বীকার, তবু প্রশ্ন
'ইয়ো ইয়ো' হানি সিং ও বাদশা দু’জনেই সংশ্লিষ্ট গানটি তাঁদের নয় বলে দাবি করেছেন, আদালত তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। হাইকোর্টে জানানো হয়, একটি কনসার্টে এই-সংক্রান্ত কিছু লাইন গাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শিল্পীদের ভূমিকাও আরও খতিয়ে দেখা হবে।
মাফিয়া মুন্ডির ইতিহাস
মাফিয়া মুন্ডির ছিল ভারতের প্রথম দিকের হিপ-হপ গ্রুপগুলির একটি, যারা ‘ডোপ শপ’-এর মতো হিট গান জনপ্রিয় করেছিল। তবে ২০১২ সালে ‘ক্রেডিট’ নিয়ে বিবাদের জেরে গ্রুপটি ভেঙে যায়। সময়ের সঙ্গে গ্রুপের শিল্পীরাই পরে বলিউড ও পপ জগতে বড় তারকা হয়ে ওঠেন।
দিল্লি হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই নারী-সম্মান ও ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আদালতের নির্দেশে পরিষ্কার, অশ্লীলতা বা নারীদের অপমান করার মতো গান ইন্টারনেটে জায়গা পাবে না।