সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী ধর্মেন্দ্রর শেষ দিনগুলোর কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, গোটা পরিবারই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না এমন পরিণতির জন্য। টানা এক মাস ছিল চরম অনিশ্চয়তার সময়।

শেষ আপডেট: 5 January 2026 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ নভেম্বর ২০২৫—দেশ হারাল তার অন্যতম মোহময় নক্ষত্রকে। নীরবে, আলো-আড়ম্বরহীন বিদায়ে পৃথিবীকে বিদায় জানালেন ধর্মেন্দ্র। বন্ধু, পরিবার আর অগণিত অনুরাগীর হৃদয়ে নেমে এল শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই চলছিল অভিনেতার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন পর বাড়ি ফিরলেও স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অচিরেই ফের অবনতি ঘটে, আর সেখানেই থেমে যায় এক দীর্ঘ, বর্ণময় জীবনযাত্রা।
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী ধর্মেন্দ্রর শেষ দিনগুলোর কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, গোটা পরিবারই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না এমন পরিণতির জন্য। টানা এক মাস ছিল চরম অনিশ্চয়তার সময়। হাসপাতালে কী ঘটছে, কীভাবে সামলানো যাবে—এই চিন্তাতেই কেটেছে প্রতিটি দিন। হেমা জানান, সেই সময়ে পরিবারের সবাই একসঙ্গেই ছিলেন—তিনি, এষা, অহনা, সানি, ববি—কেউই দূরে ছিলেন না। আগেও এমন হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ধর্মেন্দ্র সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাই সকলেরই বিশ্বাস ছিল, এ বারও ফিরে আসবেন।
সবচেয়ে যন্ত্রণার জায়গা ছিল, শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র সম্পূর্ণ সচেতনই ছিলেন। হেমা জানান, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি ১৬ অক্টোবর, হেমা মালিনীর জন্মদিনেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামনে ছিল ধর্মেন্দ্রর জন্মদিন—৮ ডিসেম্বর। নব্বই বছরে পা রাখার উৎসব ঘিরে চলছিল প্রস্তুতি। সব কিছু আচমকাই থমকে গেল। চোখের সামনে প্রিয় মানুষটিকে ধীরে ধীরে নিভে যেতে দেখা—এই অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না বলেই জানিয়েছেন হেমা। তাঁর কথায়, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি যেন কাউকেই হতে না হয়।
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়ে দুপুর একটা নাগাদ। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় প্রায় দেড়টা নাগাদ। বিকেল তিনটের মধ্যেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ভিলে পার্লের পাওন হ্যান্স শ্মশানে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়নি অভিনেতাকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিবারই সিদ্ধান্ত নেয় ব্যক্তিগত পরিসরে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার। ফলে বহু অনুরাগী শেষবারের মতো প্রিয় অভিনেতাকে দেখার সুযোগ পাননি।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা আলোচনা হলেও, ধর্মেন্দ্রর এক অনুরাগী ও পরিচিত ব্যক্তি হামাদ আল রেয়ামি জানিয়েছেন, হেমা মালিনী নিজেও অনুরাগীদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, কোনও মানুষ চলে যাওয়ার পর কীভাবে বিদায় জানানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার শেষ পর্যন্ত পরিবারেরই। আলোচনার বাইরে থেকে, নীরবতাকেই বেছে নিয়েছিল ধর্মেন্দ্রর পরিবার।
কিংবদন্তির প্রয়াণে শূন্যতা রয়ে গেল। আলো-ছায়ার জীবনে যিনি লক্ষ মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন, তাঁর শেষ যাত্রা হল নিঃশব্দে—কেবল স্মৃতির ভরসায়।